• সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যুবাদের হাত ধরেই আসবে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:১৭
মিরপুরে বিশ্বকাপজয়ী টাইগার যুবাদের লাল গালিচা সংবর্ধনা
মিরপুরে বিশ্বকাপজয়ী টাইগার যুবাদের লাল গালিচা সংবর্ধনা (ছবি : সংগৃহীত)

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত হয়েছিল। আকরাম খানের নেতৃত্বে সেই শিরোপা জয় বদলে দেয় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ওয়ানডে মর্যাদার পর ২০০০ সালে আসে টেস্ট মর্যাদাও। তবে এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ দল আইসিসির আর কোনো মহাইভেন্টে শিরোপা জিততে পারেনি। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচেছে এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। ফাইনালের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের তরুণরা লিখল জয়ের কাব্য। 

ঐতিহাসিক। অনবদ্য। অবর্ণনীয়। বাংলাদেশের যুবাদের নিয়ে লিখতে গেলে বিশেষণ কম পড়বে। বড়রা যে কাজ এতদিন করে দেখাতে পারেনি, ছোটরা প্রথমবার ফাইনালে উঠেই সেই কাজ করে দেখাল। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপ জিতে নিল বাংলাদেশ। 

হ্যাঁ, এখন আপনি লিখতে পারেন- বাংলাদেশ এই প্রথম ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক শিরোপা জিতেছে, এ দেশের ক্রিকেটের সাথে আপনার এত বছরের বেড়ে ওঠা, এরকম একটা দিনের জন্যই তো আপনি অপেক্ষা করছিলেন। এত এত ফাইনালে শেষ মুহূর্তের স্বপ্নভঙ্গ, তার বেশিরভাগই আবার ভারতের কাছে- আরেকটা স্নায়ুক্ষয়ী ফাইনালের আগে আশঙ্কার চোরাস্রোত হয়তো বয়ে যাচ্ছিল আপনার শিরায়। সব সংশয় পেরিয়ে, সব ফাইনালের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের তরুণরা ৯ ফেব্রুয়ারি লিখল জয়ের কাব্য। 

আকবর আলীর নেতৃত্বে দেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে। এখন তাই এ যুবাদের হাত ধরেই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় বাংলাদেশের ক্রিকেট। আইসিসির ইভেন্টসহ বড় বড় ক্রিকেট আসরে হয়তো ভবিষ্যতে আসবে জাতীয় দলেরও সাফল্য। আকবরদের এই অবিস্মরণীয় বিশ্বজয়ের কীর্তি এসেছে দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল হিসেবে। আকরামের হাত ধরে দেশের ক্রিকেট যেভাবে এগিয়েছে, আকবরদের সাফল্যে এবার বড় বড় অর্জনের আশা। 

জাতীয় দল বা অনূর্ধ্ব-১৯ দল, কেউ পারেনি শিরোপাখরা ঘোচাতে। শুধু বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটারদের হাত ধরে এসেছে এশিয়া কাপ। বাংলাদেশের যুবারাও বারবার কাছে গিয়ে ট্রফি ধরতে পারেনি। ২০১৮ এশিয়া কাপের সেমি-ফাইনালে ভারতের কাছে মাত্র ২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশের যুবারা। মিরপুর স্টেডিয়ামে ভারতকে ১৭২ রানে আটকে দিলেও থেমে যায় ১৭০ রানে। গত আগস্টে ইংল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও হার এড়ানো যায়নি। ২৬১ রান করে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে। পরের মাসেই এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে ১০৬ রানে অলআউট করেও জিততে পারেনি। ১০১ রানে অলআউট হয়ে ৫ রানে পরাজয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আকবরের দলকে। 

তবে ৯ ফেব্রুয়ারি আর হতাশা সঙ্গী হয়নি। ভারতকে হারিয়েই দেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দিয়েছে বাংলাদেশের যুবা ক্রিকেটাররা। অনেক কষ্ট করে এই পর্যায়ে আসা। অনেক পরিশ্রমের পর একটা দল হিসেবে গড়ে ওঠা। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে ৩০টি যুব ওয়ানডে খেলেছে দলটি একসঙ্গে। এর অধিকাংশ ম্যাচই দেশের বাইরে খেলে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। 

আকবর এ বিষয়ে বলেন, এটি অনেকটা স্বপ্ন বাস্তব হওয়ার মতো। আমরা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। এটা গত দেড়-দুই বছরে আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমাদের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। দলের কোচ, সাপোর্টিং স্টাফ এবং নির্বাচকরা আমাদের যে সমর্থন দিয়েছেন মাঠে এবং মাঠের বাইরে, তাদের ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা নেই।

যুবাদের বিশ্বজয়ে আপ্লুত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। যুব দলের একাগ্রতা দেখে তিনি মুগ্ধ। তার মতে এমন জয় গোটা দলের পারফরম্যান্সের ফসল। আর আকবরদের হারিয়ে যেতে দেবে না বিসিবি। এজন্য পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেট যুবারা দেশে ফিরেছে ১২ ফেব্রুয়ারি। আকবর আলী, তৌহিদ হৃদয়দের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। এ সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

তাদের বরণ করতে দুপুর থেকেই মিরপুর শেরেবাংলা থেকে বিমানবন্দরমুখী হয় জনস্রোত। বিমানবন্দরের বাইরেও ছিল বিপুল জনতার ভিড়। বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন আর জাতীয় পতাকা নিয়ে তারা এসেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিজয়ের আনন্দে শরিক হতে। 

এরপর ক্রিকেটারদের ছবি দিয়ে সাজানো একটি বাসে করে আকবর-রকিবুলদের নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। বিমানবন্দর থেকে মিরপুরের পথে ক্রিকেটারদের বাসের সঙ্গে ছিল শতশত মোটরসাইকেল। বাসে ক্রিকেটারদের সঙ্গে ছিলেন বিসিবি সভাপতিও। 

সন্ধ্যায় বিসিবি কার্যালয়ে খেলোয়াড়দের দেওয়া হয় সংবর্ধনা। এর আগে হোম অব ক্রিকেটে কেক কেটে উদযাপন করা হয় বিশ্বজয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। রাতে বিশ্বজয়ী যুবা ক্রিকেটারদের সম্মানে আয়োজিত হয় নৈশভোজ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেটারদের আত্মীয়স্বজনও। 

তবে এই দলের আসল পরীক্ষা শুরু হবে এখন। বয়সভিত্তিক দলের লাল গালিচা ছেড়ে এবার পা রাখতে হবে পেশাদার ক্রিকেটের রূক্ষ রাজপথে। সেখানে পা কেটে গেলে কেউ ফিরে তাকাবে না, সেখানে পিছিয়ে পড়লে অন্য কেউ জায়গা নিয়ে নেবে। আকবরদের রাতারাতি খ্যাতি জুটে গেছে, সামনে আছে অর্থ আর প্রাপ্তির অনেক প্রলোভন। তবে এই খ্যাতিটা তারা কীভাবে সামাল দিতে পারবেন, সামনের গল্পটা তাতেই লেখা হয়ে যাবে।

ওডি/এএপি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড