• রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইতিহাস সেরা ক্রিকেটার থেকে ধর্মপ্রচারক

  ক্রীড়া ডেস্ক

০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০২
সাঈদ আনোয়ার
সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার সাঈদ আনোয়ার (ছবি: সংগৃহীত)

পাকিস্তানের ইতিহাস সেরা ওপেনারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকবেন সাঈদ আনোয়ার। ভারতের বিপক্ষে তার ১৯৪ রানের ইনিংস একযুগেরও বেশি সময় ধরে ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল। তবে এসবই এখন অতীত। সাঈদ আনোয়ারের বর্তমান পরিচয়, তিনি এখন পুরো দস্তুর একজন ধর্মপ্রচারক।

সাঈদ আনোয়ার ক্রিকেটের ব্যাট-প্যাড তুলে রেখেছেন ২০০৩ সালেই। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০০৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপর থেকে ধর্ম প্রচারণায় মন দিয়েছেন তিনি। সাঈদ আনোয়ারের এখনকার সঙ্গী ধর্মীয় বই। পারিবারিক কারণেই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে ফেলেন সাবেক এ ক্রিকেটার।

সাঈদ আনোয়ারের জন্ম ১৯৬৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, পাকিস্তানের করাচিতে। তার বাবাও একজন ক্রিকেটার ছিলেন, খেলতেন পাকিস্তানের ঘরোয়া লিগে। তবে সাঈদের বাবা বেশিদূর যেতে পারেননি। ক্রিকেট ছেড়ে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। বাবার কাজের সুবাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেটেছে সাঈদ আনোয়ারের শৈশব। কৈশোরে জন্মস্থান করাচিতে ফিরে আসেন সাঈদ। লেখাপড়ার পাঠ চুকান এখানেই। করাচির এনইডি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে সিএসইতে স্নাতক পাস করেন তিনি। করাচিতে থাকাকালীন ক্রিকেটের হাতেখড়ি হলেও সাঈদের ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছে ছিল না কখনো। উচ্চশিক্ষায় আমেরিকা পাড়ি জমানোই তার সে সময়কার স্বপ্ন ছিল। 

তবে শেষমেশ ক্রিকেটই হয়ে যায় তার সবকিছু। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে জাতীয় দলেও ডাক পান তিনি। এরপরই বনে যান ওপেনার আর ওপেনার হিসেবে নিজেকে নিয়ে যান সেরাদের কাতারে। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১৯৮৯ সালে ওয়ানডে অভিষেক হয় সাঈদের। অভিষেক ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে মাত্র ৩ রান করেন তিনি। এরপর ক্যারিয়ারে ২৪৭টি ওয়ানডে খেলে ৩৯.২১ গড়ে ৮৮২৪ রান সংগ্রহ করেন সাঈদ। ২০টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিনি হাঁকান ৪৩টি হাফসেঞ্চুরি। তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ১৯৪ রানের।

ওয়ানডে অভিষেকের এক বছর পর টেস্ট অভিষেক হয় এ পাক ব্যাটসম্যানের। অভিষেক টেস্টেও প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর এ টেস্টের দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হন সাঈদ। সাদা পোশাকে ৫৫ ম্যাচ খেলে ৪৫.৫২ গড়ে তিনি করেন ৪০৫২ রান। হাঁকান ১১টি শতক ও ১৫টি অর্ধশতক। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ১৮৮ রানের।

ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়েছেন সাঈদ। অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ এ তিন বছরে খেলেছেন মাত্র ৫টি ওয়ানডে ম্যাচ। ১৯৯৬ সালে সাঈদ বিয়ে করেন চিকিৎসক লুবনাকে যিনি সাঈদের চিকিৎসা করেছেন। 

স্ত্রীর চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে পুরো দমে ক্রিকেটে ফিরেন সাঈদ। বিয়ের এক বছর পর ভারতের বিপক্ষে খেলেন ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। ১৯৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ইতিহাস গড়েন তিনি। দুই ওভার আগে আউট না হলে সে দিন হয়তো হাঁকিয়ে ফেলতেন ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরি। তার এ রেকর্ড প্রায় ১২ বছর অক্ষত ছিল।

২০০১ সালে মুলতানে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় পাকিস্তান। দল জিতলেও অন্ধকার নেমে আসে সাঈদ আনোয়ারের জীবনে। সে সময় হারান এক মাত্র কন্যা বিসমাহকে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় তার তিন বছরের মেয়ে। 

মেয়ে হারিয়ে জীবনই পাল্টে যায় সাঈদের। এরপরই ক্রিকেট ছেড়ে ধর্মপ্রচারে নিজেকে ব্যস্ত রাখা শুরু করেন। কন্যা হারানোর শোক ভুলতে ইসলামি বইয়ে সান্ত্বনার আশ্রয় খুঁজে নেন তিনি। 

ওডি/এমএমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড