• শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের আশা-নিরাশার ১৯ বছর

১০ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১০
বাংলাদেশ বনাম ভারত
প্রথম টেস্টের দুই অধিনায়ক, দুর্জয় ও সৌরভ ( ছবি : সংগৃহীত)

১০ নভেম্বর, ২০১৯ বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি ঐতিহাসিক দিন। মর্যাদার টেস্ট ক্রিকেটে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বে সেই ম্যাচে বেশ কয়েকটি রেকর্ডের জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত খারাপভাবেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর নানা ঘটনার সাক্ষী হতে হতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১০ অধিনায়কের অধীনে ১১৫ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল। রবিবার ১০ নভেম্বর পার করল ১৯ বছর।

১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের গতিপথ হঠাৎ করেই বদলে যায়। এই ট্রফি জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে স্কটল্যান্ড ও শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের আগমনী বার্তা ঘোষণা করে।

এরপর বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০০ সালের ২৬ জুন আইসিসি বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদা প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। সে সময়কার বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর হাত ধরে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করেছিল।

১৯ বছর পূর্ণ করা বাকি সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের থেকে ম্যাচে এগিয়ে থাকলেও সফলতায় সবার থেকে পিছিয়ে লাল-সবুজ পতাকাধারীরা। এখন পর্যন্ত খেলা ১১৫টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১৩ ম্যাচে। হেরেছে ৮৬টিতে। আর ড্র-তে শেষ হয়েছে ১৬ ম্যাচ।

জয় পাওয়া ১৩ টেস্টের মধ্যে ৯টি জয় দেশের মাটিতে। বাকি ৪টি বিদেশের মাটিতে। প্রথম টেস্টের মাত্র পাঁচ বছর পরই চট্টগ্রামের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে আরও চার বছর।

সবশেষ গেল বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পায় টাইগাররা। বাকি বারো জয়ের ছয়টি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, চারটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আর একটি করে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৬৩৮, ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই ইনিংসেই দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহীম। সাদা পোশাকে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। গেল বছর বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৪৩ রানে।

দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রান তামিম ইকবালের (৫৮ ম্যাচে ৪৩২৭ রান)। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিও তামিমের (৯টি)। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস মুশফিকুর রহীমের (২১৯ অপরাজিত, ২০১৮ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে)।

বল হাতেও অবশ্য এগিয়ে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক সাকিব। তার নামের পাশে আছে ৫৬ ম্যাচে ২১০ উইকেট। সাকিব ছাড়া দেশের হয়ে একমাত্র তাজুল ইসলামের নামের পাশেই আছে ১০০ বা এর বেশি টেস্ট উইকেট। ২৫ টেস্টে তাইজুলের উইকেট ১০৫টি।

দেশকে সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহীম (৩৪টি)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন হাবিবুল বাশার। সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহীম (৬৭টি)।

তবে দলগত নৈপুণ্যে তেমন প্রাপ্তি না থাকায় এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে অপ্রাপ্তবয়স্কই বাংলাদেশ দল। তবে আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এগিয়ে যাচ্ছে। সঠিক পথে হাঁটছেন টাইগাররা। মুশফিক, রিয়াদ, সাদমান, তামিম ও মুমিনুলরা বাংলাদেশকে নতুন সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। 

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ক্রিকেট দলের নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব হলেও আইসিসি থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ আছেন তিনি। তাই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে মুমিনুল হককে। এখনো টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি মুমিনুলের। বাংলাদেশ দল এখন ভারত সফরে আছে- যেখানে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে টাইগাররা; আর এই সিরিজের মধ্য দিয়ে প্রথমবার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন মুমিনুল। 

ওডি/এএপি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড