• মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মাশরাফি যুগের ১৮ বছর পূর্তি আজ

  ক্রীড়া ডেস্ক

০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:০০
মাশরাফি বিন মর্তুজা
জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি (ছবি : সংগৃহীত)

২০০১ সালের ৮ নভেম্বর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় অচেনা একটি ক্রিকেটারের। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাদা জার্সির কলারটা সেদিনও উঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেদিন অচেনা মাশরাফির সমর্থক কয়জনই বা ছিল? তবে কৌশিকের সমর্থক ছিল অনেক। তবে বন্ধুকে উৎসাহ দিতে সেদিন নড়াইল থেকে ঢাকা ছুটে এসেছিল কৌশিকের বন্ধুরা। 

তার আগে বয়সভিত্তিক খেলাতে এশিয়া কাপে ১৭ বলে ৬০ রান করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন কৌশিক। তবে মূলত তিনি একজন ডানহাতি পেসার। তবে বোলার কৌশিকের প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না অভিষেক টেস্টে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরলেন মাশরাফি। বৃষ্টির কল্যাণে সে ম্যাচেই প্রথমবারের মতো ড্র করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বল হাতে একরকম হুঙ্কার দিয়েই শুরু। ৩৩ ওভার বল করে ৮ মেডেন আর ১০৬ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। 

মাশরাফির হার না মানা চরিত্রের প্রমাণ মেলে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে। সে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১১ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। এত অল্প পুঁজিতে বোলিং করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ডিওন ইব্রাহিমকে বোল্ড করেন মাশরাফি। পরের বলেই অধিনায়ক স্টুয়ার্ট কার্লাইলকে ফেরান তিনি। স্লিপে আকরাম খানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন কার্লাইল। এভাবেই শুরু হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির পথচলা।

২০০৪ সালের ভারত বধ, একই বছর রাহুল দ্রাবিড়কে বোকা বানিয়ে বোল্ড করা, ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, ২০০৬ সালে বছরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত মাশরাফির হাত থেকে বেরিয়েছে কোটি বাঙালিকে খুশি করার মতো অসংখ্য সব স্পেল। তার কলার উঁচিয়ে করা প্রথম স্পেলটিই ছিল বাংলাদেশের জয়-পরাজয় নির্ধারণের অন্যতম উপাদান।

মাশরাফির জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপে খেলতে না পারা। চোটের কারণে সেবার স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয় মাশরাফিকে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অনেকেই ভেবেছিল হয়তো এ চোটেই ক্যারিয়ার শেষ হবে তার। 

কিন্তু এরপরই নতুন মাশরাফিকে পেল বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ভরাডুবির পর মুশফিকের কাছ থেকে ক্যাপটেন্সি কেড়ে নেওয়া হয়। বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগে বিসিবি মাশরাফির হাতে তুলে দেয় নেতৃত্বের দায়িত্ব। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে ৫-০তে জিতে বাংলাদেশ। আর বিশ্বকাপ মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে টাইগাররা।

এরপর মাশরাফির নেতৃত্বে ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে ওয়ানডেতে নাস্তানাবুদ করে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলে। ২০১৯ বিশ্বকাপেও লড়াই করে টাইগাররা। 

কতই না উত্থানপতন এই ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে। হার না মানা মাশরাফি শুধু প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়ছেনই না, সমান তালে লড়াই করেন ইনজুরির সঙ্গেও। কতবার যে আহত হয়েছেন তার হিসাবও জানা নেই। দুই পায়ের দুই হাঁটুতে বড় অপারেশন হয়েছে ৭টি । এমনও হতে পারে, কয়েক বছর পরে নাকি হাঁটতেও কষ্ট হবে, এসব জেনেও ক্রিকেট চালিয়ে যান মাশরাফি। কত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে চিত্রা পাড়ের সেই দুরন্ত কৌশিক আজ জাতীয় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। ১৬ কোটি মানুষের মান, হাসি-কান্নার ভার নিয়েছেন দুই কাঁধে।

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট ছেড়েছেন আড়াই বছর আগে। হাঁটুর সমর্থন পান না বলে টেস্টও খেলা হয় না দশ বছর ধরে। নিকট ভবিষ্যতেও সম্ভাবনা নেই সাদা পোশাকটি গায়ে জড়ানোর। তবে আপন মহিমায় খেলে যাচ্ছেন পঞ্চাশ ওভারের ওয়ানডে ফরম্যাটে। এই ফরম্যাটেও খুব বেশিদিন হয়তো আর দেখা যাবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও তারকা পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। সময়ের পরিক্রমায় কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরও বড় প্রতিনিধি নড়াইলের কৌশিক। 

ওডি/এনএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড