• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সংসার যখন চলে শুধুই চা বিক্রি করে

  আল-মামুন, খাগড়াছড়ি

১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৫৭
খাগড়াছড়ি
স্বামী ফজর আলী ও স্ত্রী জয় বাহার (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শতোর্ধ্ব ফজর আলী ও সত্তরোর্ধ্ব জয় বাহার। ঘর বেঁধেছেন ৫৫ বছর আগে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক এ দম্পতি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এ দম্পতি জীবনের শেষ বয়সে এসেও নিজেদের রুটি রুজি করতে দোকানদারি করে যাচ্ছেন। মানিকছড়ি উপজেলা সদরের সরকারি খাস জমিতে তৈরি করা একটি টং দোকানই এখন দম্পতির সন্তান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ বছর ধরে মানিকছড়ি গিরি কলি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সামনের সরকারি খাস জায়গায় তৈরি করা একটি দোচালা ঘরে দোকান করে রুটি রুজির সংস্থান করেন ফজর আলী দম্পতি। আবার এ দোকানের এক পাশে ছোট্ট কামরাতেই রাত কাটে তাদের। একটি ছোট্ট চায়ের দোকান তাদের রুটি রুজির একমাত্র পথ। প্রতিদিন এই চা দোকান থেকে পাওয়া পঞ্চাশ টাকা আয়ে সংসার চলে ফজর আলী দম্পতির। 

ছেলেকে বিয়ে করানোর পরে দিন বদলের আশায় নিজের গচ্ছিত অর্থে একমাত্র ছেলে মো. নজরুল ইসলামকে বিদেশ পাঠিয়েছেন। কিন্তু তার পরিবারের নয়, দিন বদল হয়েছে পুত্রবধূর। বিদেশ গিয়েই বদলে গেছে ছেলে। বিদেশে আয়-রোজগার করে ফেনীর শ্বশুর বাড়িতেই স্ত্রীর নামে বাড়ি করে সেখানেই স্থায়ী হয়েছেন। অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই জানালেন শতোর্ধ্ব ফজর আলী। 

বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিদিন এভাবেই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এ দম্পতি। অনেকটা আক্ষেপের সঙ্গেই জানালেন শতোর্ধ্ব ফজর আলী। তিনি বলেন, একমাত্র মেয়ে মিনারা বেগম স্বামী সন্তান নিয়ে মানিকছড়ির এতালং পাড়ায় বসবাস করছে। মানিকছড়ি উপজেলা সদরের অদূরে নিজের দুই একর টিলা ভূমি থাকলেও জীবিকার তাগিদে স্থায়ী হয়েছেন উপজেলা সদরের সরকারি খাস জমিতে।

শারীরিক সামর্থ্য না থাকলেও পেটের দায়ে দোকান চালিয়ে নেন। বয়োবৃদ্ধ স্বামীর পক্ষে দোকান সামলানো সম্ভব নয় বলে তাকে সবসময় সহযোগিতা করেন স্ত্রী জয় বাহার। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সরকারি সহযোগিতা বলতে মাসিক পাঁচশ টাকা করে তারা দুজনই বয়স্ক ভাতা পান। তবে তাও তিন মাস পরপর। যা দিয়ে আমাদের দুজনের সংসার চালিয়ে নেওয়া অসম্ভব। তাই দোকান দিয়ে বসেছেন। এ থেকে যা আয় হয় তাতেই তাদের কোনো রকমে চলে যায়।  

সরকারি-বেসরকারি সাহায্য দুই সদস্যের এ পরিবারটিকে জীবন যুদ্ধ থেকে মুক্তি দিতে পারে বলে মনে করছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্মার্ট মানিকছড়ির প্রতিষ্ঠাতা মো. শরীফুল ইসলাম। সরকারি উদ্যোগে অনেক গৃহহীনের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি হলেও সে সুবিধা এ দম্পতির ভাগ্যে জোটেনি জানিয়ে এ বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এ মানবিক যুবক। 

ওডি/এএসএল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড