• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফাহাদ হত্যা মিশনে নামার আগে মায়ের খোঁজ নেন ইফতি 

  কাজী আনোয়ারুল ইসলাম, রাজবাড়ী

১০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৯
আসামি ইফতি
বামে- আসামি ইফতি, ডানে- নিহত আবরার ফাহাদ (ছবি- সংগৃহীত)

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে প্রথম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইফতি মোশাররফ সকাল। ইফতি বুয়েট বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাজবাড়ী শহরের ধুঞ্চি গ্রামের আটাশ কলোনী এলাকায়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে ইফতি বড়। সে স্কুল ও কলেজে থাকা অবস্থায় কোনো ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। বুয়েটে ভর্তির পর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হয়। পরে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখায় উপ সমাজসেবা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ইফতি।

ইফতির মা রাবেয়া খাতুন দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘ঈদের পরে বাড়ি থেকে ঢাকা গিয়েছে ইফতি। পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি আসার কথা ছিল। ইফতি প্রতিদিন রাতে ফোনে আমার সঙ্গে কথা বলত। আমার সঙ্গে সবশেষ কথা হয় রবিবার রাতে। রাত সাড়ে আটটার দিকে ফোন করে জানায় খাবার খেতে যাবে। এরপর আর আমার সঙ্গে কথা হয়নি। তবে সোমবার ওর বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে।’

ইফতির বাবা ফকীর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দুপুরের পর আমার সঙ্গে ওর কথা হয়। ও পাশের রুমেই থাকত। আমাকে বলেছিল, চিন্তা করো না। আমি ভালো আছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান মোমিন বলেন, ‘আমি সকালকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। সে খুব মেধাবী শিক্ষার্থী। এলাকায় তেমন কারো সঙ্গে মিশত না। পড়ালেখার পাশাপাশি গণিত অলিম্পিয়াড, বিতর্ক এসবের সঙ্গে জড়িত ছিল। কখনোই তার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক খবর পাইনি।’

রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ‍্যালয়ের শিক্ষক প্রদ্যুৎ কুমার বলেন, ‘ছাত্র জীবনে কখনো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেনি সকাল। হয়তো বুয়েটে পড়তে গিয়ে রাজনীতির সঙ্গে জড়াতে পারে।’

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, ‘ইফতি মোশাররফ সকালের নামে রাজবাড়ী সদর থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। এলাকাতেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

এ দিকে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালতে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে প্রথম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ইফতি। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ইফতিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

প্রসঙ্গত, রবিবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। নিহত ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর দিন ফাহাদের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের সবাইকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায় পুলিশ।

ওডি/এসএ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড