• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখরিত ভাসমান হাট

  হাসান আরেফিন, ঝালকাঠি

১৮ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৫১
ভাসমান হাট
ভাসমান হাটে লেবু বিক্রির অপেক্ষায় বসে আছেন চাষিরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঝালকাঠির ভিমরুলীর ভাসমান হাটের ঘাটে ভোর থেকে একে একে নোঙর শুরু হয় পণ্যবাহী নৌকার। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো খাল ছেয়ে যায় চাষি আর পাইকারদের নৌকায়। ঘাটে আসা প্রতিটি ডিঙি নৌকা বোঝায় চাষিদের বিক্রির জন্য নানা পণ্য। কেউ নিয়ে এসেছেন পেয়ারা আবার কেউ বা লেবু, কলা বা আমড়া। এভাবেই বেচা-কেনায় সরগরম দেশের অন্যতম এ ভাসমান হাট।

জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলে ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের ভাসমান হাট-বাজারগুলো পেয়ারা, আমড়া ও বোম্বাই মরিচের জন্য বিখ্যাত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন ফসলের চাহিদা বাড়ায় বাজারগুলোতে সেগুলোর আমদানিও বেড়েছে। এর ফলে স্থানীয় চাষিরা পেয়ারা, আমড়ার পাশাপাশি লেবু, কলা, কচু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসল আবাদে ঝুঁকছেন। আর আবাদের ভিন্নতার কারণে বর্ষার এ সময়টাতে ঝালকাঠির ভাসমান হাট-বাজারগুলো পেয়ারার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের লেবু ও কলার দখলে রয়েছে।

স্থানীয় চাষিদের মতে, ঝালকাঠির ভিমরুলীর ভাসমান বাজার ও পিরোজপুর জেলার আটঘর-কুড়িয়ানা মূলত চাষি কেন্দ্রিক হওয়ায় এসব বাজারে সরাসরি চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে আসেন। যেখান থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্য কেনেন। আর সে সব পণ্যই গোটা দেশে সড়ক ও নৌ-পথে বিপণন হয় ব্যবসায়ীদের হাত ধরে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে পেয়ারা ও আমড়া চাষির সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বেড়েছে বোম্বাই মরিচ, লেবু, কচু, মিষ্টিকুমড়া, শসাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ। বর্তমানে ভাসমান বাজারে পেয়ারার পাশাপাশি লেবু ও কলার আধিপত্য বিস্তার করছে।

জানা গেছে, ঝালকাঠির বাউকাঠি, শতদশকাঠি, ভিমরুলী, গাভারামচন্দ্রপুর, কির্ত্তীপাশাসহ ২২টি গ্রাম এবং পিরোজপুরের আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নজুড়ে পেয়ারার পাশাপাশি লেবু ও কলার আবাদ যেমন হয়েছে, তেমনি এবার ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। প্রতিদিন এসব গ্রামের কৃষকরা গাছ থেকে লেবু ও কলা সংগ্রহ করে নৌকায় ভিমরুলী বাজারে আসেন এবং সপ্তাহে দুই দিন আটঘরের হাটে যান। আর নৌকায় ভাসমান কিংবা খালের পাশের টোং ঘরে থাকা অপেক্ষমাণ পাইকাররা কৃষকদের কাছ থেকে ওই সব পণ্য কিনে রাখছেন।

চাষিরা আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কম হওয়ায় লেবুর দর কিছুটা ভালো পাচ্ছেন। গত বছর এক পোন (৮০টি) লেবুর দাম ছিল আকার ও জাতভেদে ৬০ থেকে ১৫০ টাকা। এবার তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। আর আটঘর ও ভীমরুলির বাজারে পাওয়া লেবু বরিশাল, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়।

বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসা পেয়ারা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শতদাশকাঠি গ্রামের লেবু চাষি গোপাল দাস জানান, এক বিঘা জমিতে কাঁদি করে লেবু চাষ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। উৎপাদন ভালো হলে, আর বাজার ঠিক থাকলে ওই এক কাঁদি থেকে ২ লাখ টাকার ওপরে লেবু বিক্রি করা সম্ভব হয়।

অপরদিকে ভিমরুলী গ্রামে কলা চাষি মামুন তালুকদার জানান, এ অঞ্চলে বেশিরভাগ লোকই আমড়ার কাঁদির ফাঁকে ফাঁকে কলার গাছ লাগান। আবার অনেকে বসতবাড়ি ঘিরে কিংবা রাস্তার দুপাশ ধরে বিভিন্ন জাতের কলার গাছ লাগান। তবে এ অঞ্চলে আনাজি (সবজির জন্য) কলা, কাঁঠালি কলা ও সবরি কলার চাষ বেশি হয়। এসব কলা আকার ও জাত ভেদে পোন (৮০ পিস) প্রতি ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

স্থানীয় পাইকার আবদুর রহিম মীরবহর জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আটঘর ও ভীমরুলি কেন্দ্রিক ভাসমান বাজারকে ঘিরে নৌ-পথের পাশাপাশি সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। তাই দিনে দিনে পাইকারদের সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের চাহিদা বাড়ছে। এতে দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা। পেয়ারা বা আমড়া নয় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের চাহিদাও বাড়ছে। যেমন এখন পেয়ারার পাশাপাশি লেবু, কলা ও পেঁপের চাহিদা রয়েছে।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণের সুফল পেলে এ অঞ্চলে আরও বেশি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

ওডি/এমবি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড