• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

রাজশাহীতে চলছে কামারদের বিরামহীন কর্ম ব্যস্ততা

  রাজশাহী প্রতিনিধি

০৯ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৫৮
রাজশাহী
ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কুরবানি ঈদের বাকি আর মাত্র দুই দিন। ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে রাজশাহী জেলার কামার গোষ্ঠী। একদিকে হাপরে আগুনের শিখা, অন্যদিকে হাতুড় পেটানোর টুংটাং শব্দ করে দিনরাত সমান তালে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি।

শহর থেকে শুরু করে গ্রাম সবখানেই কামাররা ব্যস্ত দা, ছুরি এবং বঁটি তৈরিতে নয়তো পুরনোগুলোতে শাণ দিতে। তাই দম ফেলার যেন সময় নেই তাদের। বছরের অন্য দিনগুলো অনেকটা অলস সময় পার করলেও কুরবানি ঈদের আগের এই সময়ে কামারদের দম ফেলার সময় থাকে না।

রাজশাহীর বিভিন্ন কামার পল্লীতে ঘুরে দেখা গেছে, কুরবানি দাতারা কুরবানির পশু কাঁটার জন্যে পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সব দা, ছুরি, চাপাতি, ধামা আর বটি শাণ দেয়ার জন্যে নিয়ে আসছে কামারদের কাছে। আবারও কেউ কেউ আসছে নতুন দা, ছুরি, চাপাতি, ধামা আর বটি তৈরি করতে। ফলে দিনরাত চলছে কামারদের বিরামহীন কর্ম ব্যস্ততা।

কামারের দোকানে অনেকেই বসে থাকতে দেখা গেছে। কথা হয় একজন ক্রেতা শরিফুলের সাথে। সে বলেন, কয়েক দিন আগে একটা চাপাতি এবং বড় চাকু দিয়েছি। তৈরি না হওয়ায় বসে থেকে তৈরি করে নিলাম।

কামার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। অন্য সময়ের চেয়ে কামাদের দোকানে কর্মচারীর সংখ্যাও বেড়েছে। পোড়া কয়লার গন্ধ, হাপরের হাঁসফাঁস আর হাতুড়ি পেটানোর টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে চকচকে ধারালো দা, চাপাতি, ছুরি, বঁটিসহ নিমিষে মাংস কাটা-কুটার উপকরণ।

কয়েকজন কামারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্প্রিং লোহা ও কাঁচালোহা সাধারণত এ দুই ধরনের লোহা ব্যবহার করে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলক ভাবে কম। লোহার মান ভেদে স্প্রিং লোহা ৪০০ টাকা, নরমাল ২৫০ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০, দা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে শুরু, বঁটি ২০০ থেকে ৪০০, চাপাতি ৫০০ থেকে ১ হাজার ২শ টাকায় বিক্রি হয়।

কামাররা আরও জানান, বছরের ১১ মাসে তাঁদের ব্যবসা হয় এক রকম আর কুরবানির ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম। ঈদুল আজহা এলেই উপজেলার কামারের দোকানিদের বেচা বিক্রি ও ব্যস্ততা বেড়ে যায়।

গোদাগাড়ী উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের কামার সুদাম চন্দ্র মণ্ডল জানান, বছরের বাঁকি সময়টার বেশির ভাগই হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। কুরবানি এলেই বেচা-বিক্রি ও লোকজনের মরিচা পড়া দা, বঁটি, ছুরি ইত্যাদি সরঞ্জাম ধারালো করার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণ কয়লা না পাওয়ায় একটু দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কামাররাও একই কথা জানান।

ওডি/এমবি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড