• মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  শাহেদ হোসাইন ছোটন, বোয়ালখালী প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

১১ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৫
চট্টগ্রাম
বিকল হয়ে পড়ে থাকা এক্সরে মেশিন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিন ১০ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। পৌনে তিন কোটি টাকার অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, অর্ধেক চিকিৎসকের পদ শূন্য, চিকিৎসকদের জন্য নির্মিত আবাসিক কোয়ার্টারগুলো খালি দীর্ঘদিন যাবত। জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে পাওয়া যায় না অনেক চিকিৎসককে। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হতে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় অভিযোগ বোয়ালখালীবাসির।

পরিসংখ্যানুসারে জানা যায়, ৯ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা নিয়ে ১৩৭.২৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একটি উপজেলা বোয়ালখালী। এখানকার প্রায় ৪ লাখ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারিভাবে নির্মিত হয়েছে ৫০ শয্যার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৯ টি এফ ডাব্লিউ সি ও ৬ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে গত ২০০৭ সালের শেষের দিকে বিকল হয়ে যায় পুরাতন এক্সরে মেশিনটি। এর তিন বছর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে ২০১০ সালের মার্চে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার মূল্যের ৫০০ এম এম আধুনিক একটি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয় বোয়ালখালী হাসপাতালে। তবে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও টেকনিশিয়ান জটিলতায় নতুন এক্সরে মেশিনটি চালু করা সম্ভব হয়নি কখনও। ফলে এক্সরে মেশিন পেয়েও এর সুফল ভোগ করতে পারেননি বোয়ালখালীর দরিদ্র জনগোষ্ঠির কেউ।

সূত্রে জানা যায়, পুরনো এক্সরে মেশিনটি নষ্ট হওয়ার পর ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট তৎকালীন এক্সরে টেকনেশিয়ান (রেডিওগ্রাফি) মো. বাবুল মিয়াকে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল ও মিডফোর্ড হাসপাতালে প্রেষণে নিয়ে যাওয়া হয়।

বোয়ালখালীতে নতুন এক্সরে মেশিন বরাদ্দ হবার প্রায় ৩-৪ বছর পর প্রেষণে থাকা টেকনিশিয়ান বাবুল মিয়াকে তার কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার জন্য চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চিঠি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাকে না পেয়ে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত এক্সরে টেকনিশিয়ান আবুল কালাম প্রধানসহ বোয়ালখালীতে পরপর আরও ৩-৪ জন টেকনিশিয়ানকে পদায়ন করা হয়। তারা বিভিন্ন অযুহাতে সেই বদলি ঠেকিয়ে ফেলেন। ফলে টেকনিশিয়ান জটিলতায় পড়ে দীর্ঘদিন চালু করা যায়নি এ মেশিন।

শেষ পর্যন্ত একজন টেকনিশিয়ান আসার কারণে এ জটিলতা দূর হলেও সরকারের দেওয়া নতুন এক্সরে মেশিনটি আর চালু করা যায়নি। ফলে সরকারি এক্সরে সুবিধা বঞ্চিত রোগী সাধারণকে নিম্নমানের সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে বাইরের বিভিন্ন রোগ নিরূপণ কেন্দ্র থেকে। এ চাহিদাকে পুঁজি করে স্থানীয় রোগ নিরুপনী কেন্দ্রের মালিকরা রিপোর্ট দেওয়ার নামে প্রতারণা করছেন গ্রাহকদের সাথে। হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির ৪র্থ সভা চলাকালীন সময়ে স্থানীয় সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল ডিজিটাল এক্সরে মেশিন ৫ বছরেও চালু করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ১৫ দিনের মধ্যে ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি সচল করে জনসেবায় উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এ নির্দেশের সাড়ে ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে শুধুমাত্র চিঠি লিখে দায় সেরেছেন কর্তৃপক্ষ। অসার ৫০০ এম এমডিজিটাল এক্সরে মেশিন চালু করতে না পারায় অবশেষে অলস পড়ে রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পুরাতন ভবনের একটি কক্ষে। আর এক্সরে টেকনিশিয়ানকে প্রেষণে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এলাকাবাসীর এসব অভিযোগের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, ৩১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১২ টি পদই শূন্য, আবার কেউ আছেন অর্জিত ছুটিতে, কেউ আছেন সংযুক্তিতে। মূল্যবান ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিন যাবত অচলের কারণে সামান্য আঘাত পাওয়া রোগীদেরও স্থানান্তর করতে হচ্ছে অন্যত্র।

ওডি/এমবি 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড