• বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জেলেদের কান্না কেউ শোনে না

  কবির হোসেন, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি

১৬ জুন ২০১৯, ১৭:৫৩
জেলে
অলস সময় পার করছেন কাপ্তাই হ্রদের জেলেরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দেশের সর্ববৃহৎ পরিকল্পিত হ্রদটি রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই হ্রদ নামে পরিচিত। এখানে তিন মাস ধরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। ১৯৬০ সালের পর থেকে এ হ্রদে সরকার মাছের প্রজনন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করে আসছে।

এ হ্রদ থেকে মৎস্য চাষের মাধ্যমে বেশি উপার্জন করে থাকে সরকার। বছরে তিন মাসের জন্য মাছের প্রজননের ওপর নির্ভর করে সরকার সকল ধরনের মাছ শিকার একেবারে বন্ধ রাখে। এ তিন মাস মাছধরা বন্ধকালীন জেলেদের ৩০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়ে থাকে। মাছ শিকার বন্ধকালীন কাপ্তাই জেলে পাড়ায় গেলে দেখা যায় জেলেদের জীবনের করুণ হালচাল আর না জানা কান্নার চিত্র।

জেলে প্রাণ জলদাশ বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় তিন মাস সকল ধরনের মাছ ধরা সরকার বন্ধ করে রাখে। এ সময় আমরাও বেকার হয়ে পরি। যে উপার্জন থাকে তা দিয়ে তা দিয়ে এক বেলা খাই অন্য বেলা না খেয়ে জীবন চালায়। নব্বই হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে ঋণের বোঝা টানতে হচ্ছে। এর মধ্যে সংসারে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বহুকষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

প্রাণ জলদাশ আরও বলেন, এ বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের ভিজিএফের ত্রিশ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা হলেও গত দেড় মাসে কোনো কিছুই পাইনি।

প্রিয় লাল জলদাশ ও রিপন জলদাশ বলেন, আমাদের দুঃখ কষ্ট ও কান্না কেউ শুনে না আমাদের খোঁজ খবরও কেউ রাখে না। আমরা জেলেরা হ্রদে থেকে মাছ শিকার করে বছরে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে সরকারকে দিচ্ছি। কিন্তু তার তুলনায় আমরা কিছুই পাচ্ছি না। তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ থাকায় আমরা কীভাবে চলছি বা আমাদের সংসার কীভাবে চলছে কেউ কখন খবর নিতে আসেননি।

জেলেরা দৈনিক অধিকারকে বলেন, ভাই আপনেরা আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট একটি কথা জানান, তিন মাস লেকে মাছ শিকার বন্ধ থাকা কালীন সময়ে আমাদের ভিজিএফের চাল ও কিছু পরিমাণ টাকা দিলেই হবে। এ টাকা ও চাল না দিলে পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচা ‘মরণ’ হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন।

এ দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফ আহমেদ রাসেল বলেন, জেলেদের ভিজিএফের চাল এখনো আসেনি। কিছুটা সময় লাগছে, আসলে আমরা দিয়ে দেব।

মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন কাপ্তাইয়ের ব্যবস্থাপক আমির হোসেন ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, কিছু সময় দেরি হচ্ছে। আর জেলেদেরও কষ্ট হচ্ছে আগামীতে আমরা তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো বলে জানান তিনি।

ওডি/এএসএল

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড