• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

তরুণীদের সাইকেলিংয়ে এগিয়ে আসার গল্প

  শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০৩ জুন ২০১৯, ১৬:৪৯
সাইকেলিং
সাইকেলে চড়ে যাতায়াত করছেন শ্রীমঙ্গলের মেয়েরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সাইকেলিং যেমন শরীর মন ভালো রাখে তেমনি আমাদের পথ চলতেও সাহায্য করে। শ্রীমঙ্গলে এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা স্কুল কলেজে আসা যাওয়ার জন্য সাইকেলটাকেই বেছে নিয়েছে। এতে করে তারা তাদের পরিবারকে আর্থিকভাবেও সাহায্য করতে পারছে। 

এছাড়া সাইকেল নিয়ে কাজ করতে সময়ও অনেক কম লাগছে এবং ব্যয়ও হচ্ছে কম। কারণ প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে রিকশা ভাড়া অনেক টাকা দিতে হয়। এমনকি অনেক সময় রিকশা পাওয়া যায় না।  

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সানজিতা বলেন, আমি ততটা সাপোর্ট পাইনি পরিবার থেকে যতটা আমি প্রত্যাশা করি। আমি আমার ভাই ও আম্মুর কারণে সাইকেল চালাতে পারছি। আব্বু ততটা সমর্থন দেননি। তবুও এখন আমি আমার শখকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পেরেছি।  

(ছবি : দৈনিক অধিকার)

সাইকেলিং এ এগিয়ে শ্রীমঙ্গলের নারীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ওই কলেজের আরেক শিক্ষার্থী মারজানা রামী বলেন, ছোট বেলা থেকেই সাইকেল চালাতে পারি। ছোটবেলায় মিনি বাইসাইকেল ছিল। পাঁচ-ছয় মাস হলো নতুন সাইকেল কিনেছি। আমার পরিবার আমাকে কখনো বাধা দেয়নি। রাইডে আসা বা অন্য কোথাও ঘুরতে যেতে পরিবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। 

নারী-পুরুষের সমান অধিকার চর্চায় বর্তমানে নারীরা অনেক অগ্রগামী হচ্ছে। এক সময় ছিল যখন শুধু ছেলেরা সাইকেল চালাত কিন্তু এখন ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও আর ঘরে বসে নেই। ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মেয়েরাও। 

চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে ইদানিং প্রায়ই নজরে পড়ছে বাইসাইকেলে চড়ে মেয়েদের যাতায়াত। আর এতেই নারীদের স্বাধীনতা নিহিত বলে মনে করছেন অনেকেই। কয়েক বছর আগেও নারীদের অনেক সামাজিক বাধার মুখে পড়তে হত। পরিবার থেকে চাপ থাকতো এমন কি নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু এ প্রজন্মের দুরন্ত নারীরা সব বাধাকে পেছনে ফেলে সকল শঙ্কা জয় করে এগিয়ে যাচ্ছে। নারী রাইডাররা বলছেন মূলত পরিবারের সহযোগিতা থাকায় আজ প্রায় শতাধিক নারী সাইকেল চড়ে ঘুরতে পারছেন। 

সাইকেলিং এ মেয়েদের এগিয়ে আসার ব্যাপারে ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ সাইক্লিস্ট অব শ্রীমঙ্গল (সিওএস) এর মডারেটর দীপ চক্রবর্তী বলেন, মেয়েদেরকে বদ্ধঘর থেকে বের করে নিজেদের মতো জীবনযাপন করতে, স্বাধীনস্বত্তা ভোগ করতে আমি এ উদ্যোগটি নেই। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে শুরু করেছে। অনেকে অবাক বিস্ময়ে এক ঝাঁক মেয়েদের সাইকেল চালানো দেখছে। এতে সমাজে মেয়েদের প্রতি চলে আসা যে তথাকথিত সামাজিক বাধা ছিল তা অনেকটা কাটতে শুরু করেছে। মেয়েরাও যে ছেলেদের সমকক্ষ এবং একে অপরের পরিপূরক এই বার্তাটুকু সমাজে চলে যাচ্ছে। এতে সমাজ হবে আরও মানবিক, উদার এবং নারীবান্ধব।  

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রীমঙ্গলে বেশ কয়েকটি সংগঠন মেয়েদেরকে সাইক্লিস্ট হিসেবে গড়ে তুলছে। এটি আমাদের সমাজে নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি সমাজের যে দৃষ্টিভঙ্গি এর পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এজন্য বর্তমান সরকারও উদ্যোগী। 

বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সাইকেল চালিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। এটি খুবই আশাব্যঞ্জক একটি বিষয়। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা বরাদ্দ পেয়েছি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ৫০ জন শিক্ষার্থীকে আমরা সাইকেল দিব বলেও জানান তিনি।  

ওডি/এএসএল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড