• বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

কুইচ্চা চাষে স্বাবলম্বী ৩০ পরিবার

  রূপগঞ্জ প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

২২ মে ২০১৯, ১৫:৪৮
কুইচ্চা চাষ
চাঁই থেকে কুইচ্চা বের করছেন মাযাহারুল ইসলাম (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খাল-বিল, ডোবা, ধানী জমিসহ বিভিন্ন স্থানে এক ধরনের চাঁই ব্যবহার করে ধরা হচ্ছে কুইচ্চা। বিশেষ কায়দায় ধরা এসব কুইচ্চা যাচ্ছে চীনে। আর কুইচ্চা বিক্রি করে অন্তত ৩০ পরিবার স্বাবলম্বী। প্রতি মাসে প্রায় নয় লাখ টাকা আয় করেন তারা। কুইচ্চা ধরার পদ্ধতি দেখে ও লাভজনক পেশা হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। 

কুইচ্চা ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানান, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার উজানভাটিয়া এলাকায়। তিনি ছোট ভাই আতাউরকে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে কুইচ্চা বিক্রি করে আসছেন। 

মাযাহারুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফার মতো আশরাফুল ইসলাম, মাঝু মিয়া, আঙ্গুর মিয়াসহ ৩০ পরিবারের লোকজন এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। 

তারা জানান, ৩০টি পরিবারের মধ্যে প্রতি পরিবারের ১০০ থেকে ১৫০টি চাঁই রয়েছে। কেঁচো গেথে এসব চাঁই খাল-বিল, ডোবা, ধানী জমিসহ বিভিন্ন স্থানে পাঁতা হয়। হাটু পর্যন্ত পানিতেও চাঁই পাতা হয়ে থাকে। বর্তমানে তারা হাটাব, আমলাব, কালী, বাড়ৈপাড়, কর্ণপোগ, পাঁচাইখা, ভায়েলা, মিয়াবাড়ী, শান্তিনগড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে কুইচ্চা ধরছেন। 

প্রতিজন গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩-৪ কেজি কুইচ্চা ধরছেন। আর প্রতিদিন বেপারীরা এসব কুইচ্চা কেজি দর হিসেবে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি কেজি কুইচ্চা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ওই হিসেবে প্রতি পরিবার প্রতিদিন এক হাজার টাকা আয় করছেন। আর মাসে আয় হচ্ছে ৩০ হাজার। তাহলে ৩০ পরিবার মাসে আয় করছেন নয় লাখ টাকা। 

জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বইদ্ধার বাজার এলাকায় ও রাজধানীর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং কোনাবাড়ি এলাকায় কুইচ্চার আড়ৎ রয়েছে। ওই আড়ৎ থেকে সপ্তাহে দুই দিন কুইচ্চা চীনে পাঠানো হচ্ছে। ওই দুই দেশে কুইচ্চার চাহিদা অনেক বেশি। স্বাদের খাবার হিসেবে গ্রহণ করেন চীনের নাগরিকরা। 

কুইচ্চা ব্যবসায়ী নুরু মিয়া বলেন, আমাদের দেশে কুইচ্চা অনেকেই পছন্দ করে না। এ জন্য কেউ এ পেশায় ঝুঁকতে চাই না। তবে, আমাদের দেখে ও লাভ জনক ব্যবসা হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় ঝুঁকতে শুরু করেছেন। সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে কুইচ্চা চাষের উপড় প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব। 

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার বসাক বলেন, বর্তমানে কুইচ্চা একটি লাভজনক পেশা আমরাও জানি। আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা সরকারিভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। 

ওডি/এএসএল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড