• শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

পানি আছে, ‘সুপেয়’ পানি নেই

  এইচ এম কাওসার মাদবর, বরগুনা

১৩ মে ২০১৯, ১৫:৫৪
সুপেয় পানি
সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ডোবা-নালার পানি ব্যবহার করছে স্থানীয়রা (ছবি- দৈনিক অধিকার)

চারিদিকে নদ-নদী বেষ্টিত উপকূলীয় জনপদ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা। এই উপজেলার চারপাশে অফুরন্ত পানির উৎস থাকলেও নেই বিশুদ্ধ পানি। সুপেয় পানির তীব্র এ সংকটে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। 

এ দিকে প্রাকৃতিক কারণে এ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা যায় না। যে কারণে বিকল্প উপায়ে স্থানীয়দের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করা হয়। পানি সমস্যা নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় পাঁচ শতাধিক পন্ড-স্যান্ড ফিল্টার (পিএসফ) বসানো হলেও তার বেশিরভাগই এখন নষ্ট। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের জনজীবন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজলেয়ায় ৮৯টি পুকুরে বালুর ফিল্টারের (পিএসএফ) মধ্যে বর্তমানে সচল আছে মাত্র ১শ ৩১টি। একই সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার দেওয়া আরও ২০টি ফিল্টার সচল আছে। বাকি ফিল্টারগুলো পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। এছাড়াও এ উপজেলায় পানি সমস্যা নিরসনে ৯শ ৩টি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও এর মধ্যে ৭শত ৫০টি অকেজো।

স্থানীয় এক গৃহবধূ রাহিমা বেগম জানান, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অগভীর নলকূপ থেকে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পানি পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ডোবা নালার পানি।

স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন সংকল্প ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ বলেন, বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে কাজ করছেন জিও, ও এনজিও। এই সব প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গেলে তাদের আর কোনো তদারকি থাকে না। তাই প্রয়োজন দীর্ঘ স্থায়ী পরিকল্পনা। দীর্ঘ মেয়াদে পানি সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারকে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা মাসুদুল হক বলেন, পাথরঘাটায় নিরাপদ পানির তীব্র অভার রয়েছে। এতে স্থানীয়রা খাল ও নদী নালার পানি পান করায় টাইফয়েড, ডায়েরিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে এ এলাকার জনস্বাস্থ্য চরম হুমকিতে রয়েছে। তাই দ্রুত এ সকল অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী দোলা মল্লিক দৈনিক অধিকারকে বলেন, উপজেলার পেীরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নে ভূপ্রাকৃতিক কারণে গভীর নলকূপ স্থাপন করা যায় না। ওই ইউনিয়নের জন্য বিকল্প পানির উৎস হিসেবে ৫শ ৮৯টি পুকুরে বালুর ফিল্টার (পিএসএফ) বসানো হয়েছে। এছাড়া গভীর নলকূপ স্থাপন না করতে পারায় বিকল্প হিসেবে রেইন ওয়াটার হারবেস্টিন (বৃষ্টির পানি সরবরাহ ব্যবস্থা) ৩৩৪টি স্থাপন করা হয়েছে। তবে এ এলাকায় সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে সরকার আরও বড় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। 

প্রসঙ্গত, ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী নিরাপদ উৎস থেকে পানি সংগ্রহের সুযোগ নেই এমন ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সিডর, আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, ফণীসহ ঘূর্ণিঝড় দুর্গত এলাকাগুলোতে প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে পানযোগ্য পানি থেকে বঞ্চিত। আন্তর্জাতিকভাবে পানিতে লবণের মাত্রা ৬শ পিপিএম পর্যন্ত খাবার উপযোগী ধরা হয়। তবে পাথরঘাটার ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণের মাত্রা ৩ হাজার পিপিএম। যা স্বাভাবিক মাত্রায় চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

ওডি/এসএ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড