• বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ভাঙা সেতু খালে, ভরসা এখন বাঁশের সাঁকো

  শাকিল মুরাদ, শেরপুর

০৯ মে ২০১৯, ১৮:২৮
কাঁটাখালী সেতু
ভাঙা কাঁটাখালী সেতু (ছবি- দৈনিক অধিকার)

তিনযুগ আগে নির্মাণ করা হয় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুড়া গ্রামে ‘কাঁটাখালী সেতু’। গত সাত বছর আগে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিকভাবে সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে এখনো সেতুটি পড়ে আছে ভাঙা অবস্থায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে ভাঙা অবস্থায় খালের পানিতে পড়ে আছে। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ভেঙে যাওয়া সেতুর পাশ দিয়ে দুইটি বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল চাপে যেকোনো সময় সাঁকোটি ভেঙে যেতে পারে বলে এলাকাবাসী শঙ্কা প্রকাশ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি ভাঙার সাত বছর পার হলেও এখনো সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। যার ফলে সেতু দিয়ে যাতায়াতকারীরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে। সেতুটির পশ্চিম পাশের স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা থাকায় স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করলেও সাঁকো দিয়ে কোনো রোগী বা উৎপাদিত পণ্য আনা-নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এ অঞ্চলের প্রায় ১০ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ৪ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা শহরে যাতায়াত করছে। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন যুগ আগে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাইকুড়া গ্রামে কাঁটাখালী খালের ওপর এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ করে। ২০১০ সালে পাহাড়ি ঢলে সেতুটির সংযোগ সড়কের মাটি সরে যায়। তখন এলাকাবাসী ওই স্থানে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো বানিয়ে কোনো রকমে যাতায়াত চালু রাখে। ২০১২ সালে আবার পাহাড়ি ঢলে সেতুটি ধসে খালের মাঝখানে পড়ে যায়। এরপর থেকে সেতুসংলগ্ন কোনাগাঁও, পাইকুড়া, সুরিহারা, খিলাগাঁও, দড়িকালিনগর, নয়ানীপাড়া, বালিয়াচসহ ১০ গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি শিকার হচ্ছে।

কোনাগাঁও গ্রামের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন,বর্ষা মৌসুমে খালে প্রচন্ড স্রোত থাকে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। আবার অনেক তিন-চার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। 

পাইকুড়া এআরপি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরনবী আজাদ বলেন, কাটাখালী খালে সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী তিন কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যাতায়াত করে। আবার অনেকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ে আসার সময় পড়ে গিয়ে জামা-কাপড় ভিজে যায়। 

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম দৈনিক অধিকারকে বলেন, এ খালের ওপর ভেঙে যাওয়া সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য এমআরআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় মাটি পরীক্ষা ও ডিজাইনের কাজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পাওয়া গেলে সেখানে সেতু নির্মাণ করা হবে।

ওডি/এসএ
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড