• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

হাতে ভাজা মুড়িতে স্বাবলম্বী পাঁচ গ্রামের মানুষ

  হাসান আরেফিন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

০৮ মে ২০১৯, ১৩:১৯
হেশেঁল ঘর
হেশেঁল ঘরে মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত নারীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম মুড়ি পল্লী নামে পরিচিত। এখানে নাখুচি অথবা মোটা ধান থেকে দেশি পদ্ধতিতে মুড়ি ভাজা হয়। রপ্তানি হচ্ছে দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে বিদেশে। স্বাদে অতুলনীয় বলে দপদপিয়ার মোটা মুড়ির খ্যাতি ছড়িয়েছে সর্বত্র। এখানকার ক্ষতিকারক রাসানিকমুক্ত হাতে ভাজা মুড়ির সুনাম দিনদিন ছড়িয়ে পড়ছে। 

এখানে বছর জুড়ে চলে মুড়ি ভাজা ও বিক্রির কাজ। তবে রমজান মাসে ইফতার সামগ্রীতে থাকা বাড়তি মুড়ির চাহিদা মেটাতে ব্যস্ততা বাড়ে মুড়ি তৈরির কারিগরদের। বরিশাল-পটুয়াখালি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের রাজাখালি, দপদপিয়া, তিমিরকাঠি, ভরতকাঠি, জুরকাঠি, এবং কুমারখালী গ্রাম অবস্থিত। রমজানের মুড়ির জোগান দিতে এসব গ্রামে দিনরাত চলে মুড়ি ভাজার কর্মযজ্ঞ।

‘মুড়ি পল্লী’ নামে পরিচিত।  রমজান মাস এলেই একটু বাড়তি সরগরম হয়ে ওঠে  মুড়িপল্লী। রাত ২টা বাজতেই  শুরু হয় মাটির হাঁড়ি-পাতিলের টুংটাং শব্দ। মুড়ি ভাজার উৎসবে জ্বলে ওঠে ৩০০ ঘরের এক হাজার ২০০ চুলার আগুন। তৈরি হয় সুস্বাদু  মোটা মুড়ি। দপদপিয়াসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন তৈরি হয় ২০০ মণ মুড়ি, যা পাইকারদের হাত বদল হয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারে চলে যায়। রমজান আসা মাত্র মুড়ির চাহিদা আরও ১০০ মণ বেড়ে যায়। দপদপিয়ার মুড়ি পল্লীর শ্রমিকরা প্রমাণ করেছে মুড়ি ভাজাটাই একটা শিল্প। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা। রোজার মাসকে সামনে রেখে বেড়েছে মুড়ির চাহিদা। উৎসবের আমেজে পরিবারের সবাই মিলে শুরু করে মুড়ি ভাজার ধুম। একটু বাড়তি লাভের আশায় পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুরাও হাত লাগায় মুড়ি ভাজার কাজে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকদের মধ্যে যারা একটু আর্থিক সচ্ছল তারা নিজেরা বাজার থেকে ধান কিনে আনে। তারপর বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে চাল তৈরি করে মুড়ি ভেজে নিজেরাই বাজারজাত করে। আবার যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তারা আড়তদারদের কাছ থেকে বিনা মূল্যে চাল আনে। এই চাল দিয়ে মুড়ি ভেজে আড়তে সরবরাহ করে। এতে তাদের লাভ কম হয়।  প্রতিদিন একজন গড়ে ৫০ কেজি চাল ভাজতে পারে। যেখান থেকে ৪২-৪৩ কেজি মুড়ি পাওয়া যায়। এখানকার মুড়ি ৭৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি এবং ৮৫ টাকা খুচরা বিক্রি হয়।

তিমিরকাঠির ভূইয়া বাড়ির মুড়ির কারিগর নাছির উদ্দিন বলেন, রোজার শুরু থেকেই আমাদের মুড়ি ভাজার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। মেশিনে ভাজা মুড়ির চেয়ে আমাদের হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা বেশি। পাইকাররা যে পরিমাণের মুড়ি চায় আমরা তা দিতে পারি না।

একই গ্রামের ফাতেমা বেগম বলেন, আমাদের টাকা নেই, এ জন্য অন্যের মুড়ি ভাজি। সেখান থেকে প্রতিবস্তায় ৪০০ টাকা পাই তা দিয়ে কোনো মতে আমাদের সংসার চলে। স্বামী মারা যাবার পরে সন্তানদের নিয়ে মুড়ি ভেজেই সংসার চালাই। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করা হত তাহলে ভালো হতো। নামমাত্র মজুরিতে দিনরাত খেটে পাইকারদের হাতে মুড়ি  তুলে দেন শ্রমিকরা। এত খাটুনির পরও এ শিল্পে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। মেশিনের মাধ্যমে রাসানিক মিশ্রিত মুড়ি অপেক্ষাকৃত কম খরচে তৈরি করে কম মূল্যে বাজারজাত করার কারণে এই গ্রামবাসীর রোজগারের পথের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব মুড়ি সহজ উপায়ে সার মিশিয়ে তৈরি হয়। স্বাস্থ্যের জন্য এগুলো খুবই ক্ষতিকর। এছাড়া স্থানীয় পাইকার ও আড়ৎদারদের দৌরাত্ম্য তাদের লাভ থাকছে সামান্যই। সেসব মুড়ি বিক্রির জন্য এখানে গড়ে ওঠেছে আড়ত। একটু স্বচ্ছল লোকেরা নিজেরাই বাজার থেকে ধান কিনে তা বিশেষভাবে ভাজে।

ওডি/এসজেএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড