• বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিলুপ্ত প্রায় মঠবাড়িয়ার কাঠের তৈরি ঐতিহ্যবাহী মমিন মসজিদটি

  ইমন চৌধুরী, পিরোজপুর

১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:১৪
মমিন মসজিদ
মঠবাড়িয়ায় নির্মিত কাঠের তৈরি ঐতিহ্যবাহী মমিন মসজিদ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিশ্বের একমাত্র কাঠের তৈরি ঐতিহ্যবাহী মমিন মসজিদটির এখন বেহাল দশা। সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি শত বছরের পুরনো মসজিদটি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়। কিন্তু তারপরও মসজিদটি সুরক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। 

সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত এই মসজিদটিতে নিম্ন মানের কাঠ ব্যবহার করার ফলে পুরনো মসজিদের কারুকার্যের সঙ্গে কোনো মিল নেই। মসজিদটি সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি কিন্তু সংস্কারের নামে লোহার পেরেক ব্যবহার করা হয়েছে।

এমনকি চালার টিনের ওপর খোদাই করা আল্লাহু লেখা কাঠের ফলকটিও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে এসেছে সংস্কারের আশ্বাস।

ফরায়েজী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মঠবাড়িয়ার মরহুম মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের একান্ত প্রচেষ্টায় বাংলা ১৯১৩ সালে মঠবাড়িয়ার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের আকনবাড়ির সামনে আলোচিত এ মমিন মসজিদটি নির্মিত হয়। তৎকালীন দিল্লির ২২ জন কাঠমিস্ত্রি দিয়ে কোনও প্রকার লোহার পেরেক ব্যবহার না করেই সম্পূর্ণ মসজিদটি কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়।

মসজিদটি নির্মাণের উদ্যোক্তা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের নামের সঙ্গে মিল রেখে পরে এর নামকরণ হয় মমিন মসজিদ। বর্তমানে মসজিদটির জন্য উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের মূল সড়কটিও মমিন মসজিদ সড়ক নামে নামকরণ করা হয়েছে। 

কাঠের মসজিদটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম মসজিদের ২৩তম স্থান দখল করে আছে। ইউনিসেফ বিশ্বের অন্যতম মসজিদ নিয়ে প্রকাশিত ৪০০ পৃষ্ঠার একটি বইয়ে কাঠের এ মসজিদটির সচিত্র বর্ণনা স্থান পেয়েছে। 

এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের তৈরি দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্য কলার একটি নিদর্শন। সম্পূর্ণ কাঠের নির্মিত কারুকার্য ও নকশা খচিত এই মসজিদটিতে কোনও ধরনের লোহা বা তারকাটা ব্যবহার করা হয়নি।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মসজিদটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। সামান্য বৃষ্টি হলেই মসজিদটির মেঝেতে পানি পড়ে। টিনের কার্নিশ ছোট, যে কারণে মসজিদের মূল ভবনের সৌন্দর্য রোদ-বৃষ্টির ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশগত কারণে ফ্লোরের উচ্চতা কমে গেছে। বর্তমানে মাটি থেকে মসজিদের ভিত্তি মাত্র দেড় ফুট উঁচু। তাই সরকারের কাছে দাবি এই মসজিদটি যেন সংস্কার ও পর্যটন কেন্দ্র করার উদ্যোগ নেন।

পিরোজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘মমিন মসজিদটি বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। এটি সুরক্ষায় সরকার সকল সহযোগিতা করবে। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ মমিন মসজিদটি সংস্কার ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নিভৃত পল্লী উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামে কাঠের তৈরি ঐতিহ্যবাহী মমিন জামে মসজিদটি জীর্ণদশা থেকে একটি সুন্দর রূপ পাবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। 

ওডি/এএসএল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড