• শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত কামারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

  নাহিদ হাসান, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৩:৫২

কামারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
কামারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল ইসলাম খোকন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ ও গৌরবময়। ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস, ভাষা শহীদ ও সৈনিকদের জীবনী সংরক্ষণ এবং আমাদের আবেগের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বাংলাদেশের বিখ্যাত মানুষের জীবনী এমন সব গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষিত করে গড়ে তুলা হয়েছে কামারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এর আগে দেশের কোথাও ব্যক্তি উদ্যোগে এমন জাদুঘর স্থাপিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

(ছবি : দৈনিক অধিকার)

ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত কামারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সুপ্রাচীন মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষী প্রমত্ত পদ্মা নদী। নয়নাভিরাম এই নদীর কুল ঘেঁষে কামারগাঁও বাজার সংলগ্ন ঢাকা-শ্রীনগর-দোহার সড়কের পাশে এক চিলতে জায়গায় ওপর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল ইসলাম খোকন গড়ে তুলেছেন কামারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এখানে একটি দ্বিতল ভবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেন এই জাদুঘর। যাদুঘরটি সর্ব সাধারণের জন্য দিনব্যাপী উন্মুক্ত থাকে। দূরদূরান্ত থেকে অনেক দর্শনার্থী আসেন জাদুঘরটি দেখতে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জাদুঘর প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে একটি শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও জাদুঘরের চারপাশে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফুল ও ফলের বাগান। দ্বিতল ভবনের পুরোটার মধ্যেই সাজানো হয়েছে মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, ভাষা শহীদ ও সৈনিকদের জীবনী, রয়েছে আদি বিক্রমপুরের বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী। আরও রয়েছে অজানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। প্রতিটি বিষয়ের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা কক্ষ এবং পাঠাগার। আপনার পরিদর্শন হতে পারে এই জাদুঘরের জন্য একটি মাইলফলক।

(ছবি : দৈনিক অধিকার)

দূরদূরান্ত থেকে জাদুঘরটি দেখতে ছুটে আসেন দর্শনার্থীগণ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কামারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ হও, আবারও দেশ গড়ার শপথ নাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১০ সালে স্থাপিত করেছি এই জাদুঘর। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানেন না। আমি চেষ্টা করছি এই জাদুঘরে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করতে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের কোথাও এমন চমৎকার জাদুঘর আছে বলে আমার জানা নেই। গুণীজন ও সর্বস্তরের মানুষ এখানে পরিদর্শনে আসলে জাদুঘরটি তৈরির মূল উদ্দেশ্য তখনই সফল হবে।

তিনি আরও বলেন, জাদুঘরটি এখনও নির্মাণাধীন তাই আপনার সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শও অমূল্য হয়ে রবে। এই উদ্যোগ ও উদ্দেশ্যকে সফল এবং সহযোগিতায় আপনার পরিবার পরিজন নিয়ে জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: info@odhikar.news

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড