• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

নিজ দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের দুই শর্ত||এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতিতে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী  ||উদ্বেগ থাকলেও ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ||ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ঢাকতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ : রিজভী ||কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগে সীমান্তে‌ হাই অ্যালার্ট||ভারতের পর এবার বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের||সোমবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক||মেক্সিকোয় কুয়া থেকে ৪৪ মরদেহ উদ্ধার করল বিজ্ঞানীরা||অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : কাদের    ||সৌদির তেল স্থাপনাতে হামলায় ইরানকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

সড়কে শৃঙ্খলা ও তরুণ প্রজন্মের ভাবনা

  রাকিবুল হাসান তামিম

২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৪
রাস্তা পারাপার
যত্রতত্র রাস্তা পারাপারে স্কাউট কর্মীর বাধা (ছবি : সংগৃহীত)

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় 'জাবালে নূর' নামক বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারপর ঘাতক বাস চালককে বিচারের আওতায় আনতে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।

প্রথমে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এর বিস্তৃতি থাকলেও পরবর্তীতে রাজধানী থেকে তাদের এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ঢাকায় আন্দোলনরত ছাত্ররা পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স দেখতে চেয়েছে পুলিশের সামনেই। অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীদের লাইসেন্স দেখাতে না পারায় পুলিশের গাড়িকেও দীর্ঘসময় আটকে থাকতে হয়। একই ধরণের সমস্যায় পড়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সচিব,আমলা এমনকি মন্ত্রীদের গাড়িও। 

সাম্প্রতিক এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার ভুলত্রুটিগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। যে কারণে নতুন অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইনে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের করা আন্দোলনের ফলেই সরকার দ্রুতগতিতে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগী হয়েছে বলে মনে করা হয়। 

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। সড়ক নিরাপদ করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শৃঙ্খলা ফেরাতে ঘোষণা করা হয় ট্রাফিক সপ্তাহ। পরবর্তী সময়ে তা আরও বর্ধিত করে ট্রাফিক মাস পালন করা হয়। ট্রাফিক মাসে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে বাংলাদেশ স্কাউটস এর সদস্যদের সরব উপস্থিতি ও দেখা যায়। 

এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীতে গত মঙ্গলবার থেকে আবারও ট্রাফিক শৃঙ্খলা কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, জনসচেতনতা এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা আনয়নের লক্ষ্যে ১৫ জানুয়ারি হতে শুরু হয়েছে ট্রাফিক শৃঙ্খলা কার্যক্রম। চলবে ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ পর্যন্ত।

তবে কোন উদ্যোগই যেন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারছে না। অন্যান্য দিনের মতোই যানবাহনের চালক ও পথচারীদের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে সমান তালে। 

‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন’- এ কথাটি আমাদের দেশে বিভিন্ন জায়গায় বহুল ব্যবহৃত এবং আমাদের কাছে বহুল শ্রুত। সারাদেশে যেভাবে মোটরগাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। মোটরগাড়ি চালানোর আইন-কানুন না জানা কিংবা আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করার প্রবণতাই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ। 

এমতাবস্থায় কিভাবে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো যায় এবং বিশৃঙ্খলার জন্যে কি কারণ এবং তা রোধে করণীয় কী? 

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের বিভিন্ন শ্রেণীতে অধ্যয়নরত তরুণ শিক্ষার্থীদের কাছে দৈনিক অধিকারের এমন প্রশ্নের উত্তরে উঠে এসেছে তাদের মতামত আর পরামর্শ।

তানভীর আহমাদ 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
পরিসংখ্যান বিভাগ 
সম্মান, ২য় বর্ষ 

তানভীর আহমাদ

১৯৭১ থেকে ২০১৯। বাংলাদেশ আজ ৪৮ বছরের এক স্বনির্ভর জাতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে প্রত্যেক জাতিকেই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। অন্যান্য দেশ যেখানে তাদের জনসংখ্যা নিয়ে গর্ব করে সেখানে আমাদের দেশের বিভিন্ন সমস্যার প্রধান উৎপত্তি ধরা হয় এই জনসংখ্যাকেই। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার দরুন সৃষ্ট একটি সমস্যার নাম যানজট। বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী ঢাকার রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের গড় বেগ ঘণ্টায় ৬.৪ কি. মি.। জরিপের অপর মতানুসারে ঢাকার যানবাহনের সংখ্যা দিনদিন বাড়তে থাকলে ২০৩৫ সালে এই গড়বেগ গিয়ে দাঁড়াবে ঘণ্টায় ৪.৭ কি.মি.। যা কি না মানুষের হাঁটার বেগের প্রায় সমান। তাই সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা ম্লান হতে দেখা যায়। এরই মাঝে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের কিছু মতামত ব্যক্ত করা নিজের কর্তব্য মনে করছি। যানজট নিরসনে এবং সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে জোরালো ভাবে গুরুত্বারোপ করা যেতে পারে.

◑ ট্রাফিক সিগন্যাল ট্রাফিক পুলিশের হাতে ন্যস্ত করা উচিত। যখন যেই রাস্তায় বেশিক্ষণ সবুজ বাতি দিয়ে রাখা দরকার তা তারাই সিদ্ধান্ত নিবেন।

◑ গাড়ি যেন জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর দাঁড়িয়ে না থাকে তা খেয়াল করা দরকার। 

◑ যানবাহন গুলো যেন ঘনঘন লেন পরিবর্তন না করে তার জন্য কোনো আইন করা।

◑ নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর বাস স্ট্যান্ড তৈরি করা। সম্ভব হলে কিছুটা জায়গার সৃষ্টি করা যাতে শুধু বাস থামবে।

◑ অনেক জায়গায় বাস স্ট্যান্ড থাকার পর বাসগুলো নিজেদের ইচ্ছামত বাস থামায়। এই অপরাধ দমনে কঠোর হওয়া দরকার। 

◑ ঢাকার বাস টার্মিনাল গুলোর বাসগুলো যেন সহজে ইউটার্ন নিতে পারে তার জন্য ইউলুপ নির্মাণ বা বিকল্প রাস্তা বা টানেল সৃষ্টি করা।

◑ রিকশার জন্য বিকল্প লেন বা রাস্তার সৃষ্টি করা। 

◑ রাস্তায় প্রাইভেট কারের সংখ্যা কমানোর জন্য নাম্বার প্লেট অনুযায়ী একদিন জোড় অন্যদিন বিজোড় নাম্বার প্লেট যুক্ত গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া। এক্ষেত্রে অবশ্যই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এর যথেষ্ট ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে।

◑ ঢাকা থেকে বের হওয়ার জন্য প্রধান রাস্তা বৃদ্ধির সাথে সাথে সাব-রোডের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় শুধুমাত্র শৃঙ্খলা বজায় রাখতে না পারার কারণে সড়কেই যানজটের সৃষ্টি হয়। আমাদের উচিত আমরা যে যেখানে যে অবস্থাতেই সড়ক ব্যবহার করি না কেন, এক্ষেত্রে সুশৃঙ্খলভাবেই যেন আমরা ব্যবহার করি সেদিকে লক্ষ্য রাখা। যার যার অবস্থান থেকে সচেষ্ট থাকলে ঢাকার এই অচলাবস্থা লাঘব করা সম্ভব হতে পারে।


ইসরাত প্রমি
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ
২য় সেমিস্টার

ইসরাত প্রমি

সড়কে বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো গাড়ি চালকদের প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব। প্রায়শই দেখা যায় তারা নির্ধারিত গতি অতিক্রম করে প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে বাস চালাচ্ছেন। কিন্তু তাদের উচিৎ এমনভাবে গাড়ি চালানো, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। দুটি গাড়ি অতিক্রম করার সময় ওভারটেকিং এর মনোভাব যেন না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা উচিৎ ছিল। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এলাকা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় চালককে সব দিকে নজর রাখতে হবে এবং নির্দিষ্ট গতি সীমার চেয়ে বেশি গতি সীমায় গাড়ি চালানো যাবেনা। অথচ আমরা প্রতিনিয়তই দেখি এর উল্টো চিত্র। বাস চালকগণ অতিরিক্ত আয়ের আশায় যাত্রী বোঝাই করে পড়িমরি করে ছুটছেন কে যাবেন কার আগে! আর এতে করে তারা ঘনঘন লেন পালটাচ্ছেন, যার ফলাফল যানজট বা দুর্ঘটনা। তা বন্ধ হওয়া খুবই জরুরী। 

অন্যদিকে নিরাপদ সড়ক পেতে সবার আগে সাধারণ পথচারীদের সচেতনতা বিধানও প্রয়োজন। দেখা যায় অনেকে যত্রতত্র গাড়ির সামনে দিয়েই ছোটাছুটি করে বিপজ্জনক ভাবে রাস্তা পার হচ্ছে। আবার অনেকের কানে মোবাইল ফোন বা হেড ফোন গুঁজে দেয়া। অথচ কাছেই ফুট ওভার ব্রিজ, যার কোন তোয়াক্কাই কেউ করছে না। 

নিরাপদ সড়কের জন্যে যত পদক্ষেপই গ্রহণ করা হোক না কেন যতক্ষণ না আমরা সাধারণ মানুষজন সচেতন না হব ততদিন নিরাপদ সড়ক কেবল মিছে এক স্বপ্নের মতোই থাকবে।

মিজানুর রহমান 
ঢাকা কলেজ
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ 
সম্মান ২য় বর্ষ

মিজানুর রহমান

জনবহুল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিত এক নাম বাংলাদেশ।নানা সমস্যায় জর্জরিত এই বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় সমস্যা হলো যানজট বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নানা ধরনের অসঙ্গতি।বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে এই সমস্যা থাকলেও ঢাকার শহরে এই সমস্যা যেন এক মহামারি আকৃতির অদৃশ্য এক দানব,যা গিলে খাচ্ছে মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কর্মসময়। বাংলাদেশের অর্থনীতির ঊর্ধ্বগতিকে নিম্নগতির দিকে প্রবাহিত করা  ছাড়াও সৃষ্টি করছে শহর জীবনের এক দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা।

রাস্তার ধারণ ক্ষমতার তুলনায় অধিক যানবাহনের প্রতুলতা, জনবহুলতা, রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা এবং সর্বোপরি ট্রাফিক আইন না মানার কারণকেই যানজটের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।আর সেই কারণ গুলোকে মাথায় রেখে ট্রাফিক পুলিশের সাথে সহযোগী হিসাবে দীর্ঘদিন বিভিন্ন মেয়াদে (ট্রাফিক সপ্তাহ, ট্রাফিক পক্ষ, ট্রাফিক মাস) কাজ করে যাচ্ছে রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্টের মত কিছু স্বেচ্ছাসেবী দল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে গিয়ে লক্ষ্য করা গেছে যে, এই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম যতদিন চলমান থাকে ততদিন পরিস্থিতি আংশিক স্বাভাবিক মনে হলেও কার্যক্রম শেষে পুরনো চিত্র আবার আমাদের দৃশ্যপটে এসে যায়!

তাই স্বভাবত একটা প্রশ্ন এসেই যায় তা হলো, যানজটের যে কারণ গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোই যানজটের মূল চালিকাশক্তি নাকি এগুলো ছাড়াও আরও সূক্ষ্ম কোন কারণ রয়েছে সেটা হোক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি কিংবা রাস্তার অবকাঠামোগত ত্রুটি!  

সে যাই হোক প্রকৃত অর্থেই যে কারণ তা খুঁজে বের করা এবং সেই অনুযায়ী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার দায়িত্ব নীতিনির্ধারক সহ সকলের। কারণ দিন শেষে যানজটের ফলে যে ক্ষতি তা আমাদের বাংলাদেশের।

তাজমীন আক্তার লিজা
সরকারী তিতুমীর কলেজ 
রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ
২য় বর্ষ

তাজমীন আক্তার লিজা

সড়কে বিশৃঙ্খল অবস্থার অন্যতম কারণ হলো যত্রতত্র গাড়ি থামানো। এক্ষেত্রে আমরা সাধারণ যাত্রীরাও পিছিয়ে নেই। যেখানে সেখানে হাত তুলে বাসে উঠছি আবার নামছিও।  অথচ যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো যাবে না বা যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না এমন আইন মোটা অক্ষরে লিখা রয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া গাড়ি দাঁড় করালে জরিমানা এবং নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য স্থান থেকে যাত্রী উঠালেও জরিমানা দিতে হবে তা আইনে রয়েছে। কিন্তু এর প্রয়োগ যথাযথ না হওয়াই সড়কে সর্বদা এক হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি লেগেই থাকছে । নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও নেই কোন তদারকি। 
আইন থাকলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরণের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে অনেক সময়। অনেক সময়ই আমরা দেখি আইন অমান্য করার পরও শাস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা ছাড় পেয়ে থাকেন।একজন নাগরিক হিসেবে আমি আশা করবো যেই আইন আছে সেগুলোর বাস্তবায়ন যেন সুষ্ঠুভাবে হয়।’

আখিয়ারুল আলম
আল আজহার ইউনিভার্সিটি কায়রো, মিশর।
শরীয়াহ ও ইসলামিক আইন বিভাগ।
সম্মান, ১ম বর্ষ

আখিয়ারুল আলম

সড়কে বা মহাসড়কে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গাড়ির চালক ও মালিকের দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোটরযান আইনের বিভিন্ন বিধান থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে গাড়ির চালকদের বেশির ভাগেরই তেমন কোনো ধারণা থাকে না। ফলে আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।গাড়ির নিবন্ধন না থাকা, ফিটনেস অথবা রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি ব্যবহার করা তাও নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তবে আশার কথা হলো সাম্প্রতিক সময়ে যে সড়ক আইন পাস করা হয়েছে তাতে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স টোকেন, রোড পারমিট, ফিটনেসসহ গাড়ির বিভিন্ন বিষয়গুলোর ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যা আগের সড়ক পরিবহন আইনে সেভাবে উঠে আসেনি। আমরা চাই নিরাপদ সড়ক। যেখানে নিশ্চিন্ত মনে আমরা সড়কে চলাচল করতে পারব,যানবাহনে চড়তে পারব। দুর্ঘটনার নামে মানুষ হত্যার মহোৎসব চলবে না। 

সর্বোপরি পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও রয়েছে মোটরগাড়ির জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইন। যা অমান্য করলে আপনার বিরুদ্ধে জরিমানা কিংবা মামলা হতে পারে। অতএব রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নামার আগে জানতে হবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি সমূহ।

সেটি জানাতে ১৯৮৩ সালের ‘মোটরযান আইন’ অনুযায়ী কোন অপরাধে কি শাস্তির বিধান আছে তা সংক্ষেপে পাঠকদের কাছে তুলে ধরছি (ডিএমপির ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত):-

১) নিষিদ্ধ হর্ন/হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার : জরিমানা ১০০ টাকা (ধারা ১৩৯)

২) আদেশ অমান্য বাধা সৃষ্টি ও তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি : নজরিমানা ৪০০ টাকা {ধারা ১৪০(১)}

৩) ওয়ানওয়ে সড়কে বিপরীত দিকে গাড়ি চালানো: জরিমানা ২০০ টাকা {ধারা ১৪০(২)}

৪) অতিরিক্ত গতি বা নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো: জরিমানা ৩০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে : জরিমানা ৫০০ টাকা (ধারা ১৪২)

৫) দুর্ঘটনা সংক্রান্ত যে সকল অপরাধ থানায় ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই, জরিমানা ৫০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে জরিমানা ১০০০ টাকা (ধারা ১৪৬)

৬) নিরাপত্তা বিহীন অবস্থায় গাড়ি চালানো : জরিমানা ২৫০ থেকে ১০০০ টাকা (ধারা ১৪৯)

৭) কালো বা অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হওয়া মোটরযান ব্যবহার : জরিমানা ২০০ টাকা (ধারা ১৫০)

৮) মোটরযান আইনের সাথে সঙ্গতি বিহীন অবস্থায় গাড়ি বিক্রয় বা ব্যবহার, গাড়ির পরিবর্তন সাধন : জরিমানা ২০০০ টাকা (ধারা ১৫১)

৯) রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা রুট পারমিট ব্যতীত মোটরযান ব্যবহার : জরিমানা ১৫০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে: জরিমানা ২৫০০ টাকা (ধারা ১৫২)

১০) অনুমোদন বিহীন এজেন্ট বা ক্যানভাসার নিয়োগ : জরিমানা ৫০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে : জরিমানা ১০০০ টাকা (ধারা: ১৫৩)

১১) অতিরিক্ত মাল বা অনুমোদিত ওজন অতিক্রম পূর্বক গাড়ি চালনা : জরিমানা ১০০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে : জরিমানা ২০০০ টাকা (ধারা: ১৫৪)

১২) বীমা ব্যতীত গাড়ি চালানো : জরিমানা ৭৫০ টাকা (ধারা ১৫৫)

১৩) অনুমতি ব্যতীত গাড়ি চালানো : জরিমানা ৭৫০ টাকা (ধারা ১৫৬)

১৪) প্রকাশ্য সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি : জরিমানা ৫০০ টাকা (ধারা: ১৫৭)

১৫) গাড়ীর ব্রেক কিংবা কোন যন্ত্র অথবা গাড়ির বডি কিংবা স্পিড গভর্নর সিল বা ট্যাক্সি মিটারের উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করা : জরিমানা ৫০০ টাকা (ধারা: ১৫৮)

১৬) যে সকল অপরাধের জন্য মোটরযান আইনে সুনির্দিষ্ট কোন শাস্তির ব্যবস্থা নেই : জরিমানা ২০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে জরিমানা ৪০০ টাকা (ধারা ১৩৭)।

আসুন ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই, নিরাপদ সড়ক গড়ি এবং নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড