• বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

কাউনিয়ায় গাভী পালন করে স্বাবলম্বী রেনু বালা

  সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর

২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪০
সাবলম্বী
সাবলম্বী নারীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘পরিশ্রমে ধন আনে’ এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে গাভী পালন করে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রংপুরের কাউনিয়ার পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের রেনু বালা, কবিতা, বনিতা, মালেকাসহ অনেক নারী। রংপুরের কাউনিয়ায় নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিশ্রম করে অর্থ আয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তারা এখন উপজেলার রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন।

সরেজমিনে পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামে গিয়ে আইএপিপি প্রকল্পের গাভী পালন দলের সভানেত্রী রেনু বালার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় যখন তাদের সংসারে ছিল নানা অভাব অনটন। অর্থাভাবে স্বামীর মুখের দিকে তাকানই যেতো না। সেই সব নারীদের মধ্যে ২০১১ সালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে আইএপিপি প্রকল্পের আওতায় ২০ জন অসচ্ছল মহিলা নিয়ে একটি গাভী পালন দল গঠন করেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ তাদের বিভিন্ন সময় গাভী পালন, গরুর খাদ্য যোগাতে নেপিয়ার ঘাস চাষসহ হাঁস-মুরগি পালন প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

রেনু বালা আরও জানায়, প্রশিক্ষণ গ্রহণের আগে তাদের দেশি গরুর দুধ হত ২-৩ লিটার এখন তাদের শংকর জাতের গাভী হওয়ায় কোনো কোনো গাভীর ১৬-১৮ লিটার পর্যন্ত দুধ হয়। তাদের ছোট একটি গ্রাম আর সেই গ্রামেই বর্তমানে গাভী রয়েছে ৭৫টি, বকনা ৪৪টি, বাছুর ৭৫টি। বর্তমানে তাদের দলের গরুর প্রতিদিন ৪-৫শ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। তারা নিজেরা দুধ বিক্রির টাকা থেকে প্রথম এক বছর সঞ্চয় করে পুঁজি করেন এবং সে পুঁজি দিয়ে এখন তারা নিজেরাই দুধ ক্রয় করছেন এবং যেখানে বেশি দাম পায় সেখানে বিক্রি করেন।

তিনি আরও বলেন, তারা আগে প্রাণ, আরডিতে দুধ বিক্রি করত। এখানে ফ্যাট কম হলে দাম কম হয় তাই তারা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের গরুর উৎপাদিত দুধ নিজেরাই ক্রয় করে একত্রিত করে যেখানে দাম বেশি পাবে সেখানেই বিক্রি করার।

গাভী পালন দলের সাধারণ সম্পাদিকা মালেকা জানান, আইএপিপি প্রকল্প আমাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে সহায়তা করেছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর আমাদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গাভী পালন করে আজ আমরা প্রায় সকলেই স্বাবলম্বী।

আরেক স্বাবলম্বী নারী বনিতা রানী জানান, এক সময় আমাদের অনেকে অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করত। এখন আর কেউ অন্যের বাড়িতে কাজ করে না। আমাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করাতে পারছি। 

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় উৎপাদিত দুধ বিক্রি হয় না তাই কাউনিয়ায় একটি দুগ্ধ সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করলে আমাদের উপকার হত। আমরা ন্যায্য মূল্য পেতাম।

তারা সরকার ও শিল্পপতিদের কাছে কাউনিয়া উপজেলায় একটি দুগ্ধজাত শিল্পকারখানা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। কাউনিয়া উপজেলায় পাঞ্জরভাঙ্গা গাভী পালন দল এখন রোল মডেল। তাদের দেখাদেখি উপজেলার অনেক নারীরা এখন গাভী পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছে। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড