• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘প্রাইজমানি অ্যাওয়ার্ড’ শিক্ষকরাও পাচ্ছেন এবার

  রাকিব হাসান আপ্র, লক্ষ্মীপুর ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৩

প্রাইজমানি অ্যাওয়ার্ড
‘প্রাইজমানি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করছেন অতিথিবৃন্দ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘প্রাইজমানি অ্যাওয়ার্ড’। অর্জিত কৃতিত্বের কথা ও পুরস্কৃত টাকার অংক উল্লেখ করে সাধারণত খেলোয়াড়দের এমন অ্যাওয়ার্ড দিতে দেখা যায়। বলা যায়, খেলাধুলা জগতে এটি একটি প্রচলিত রীতি। মাঠের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে সেরা খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করার জন্য এরকম অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়ে থাকে। যার ফলে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে থাকেন খেলোয়াড়রা। তবে খেলাধুলা কিংবা কোনো প্রতিযোগিতার আসর ছাড়া এমন সিস্টেম বা পদ্ধতি অন্য কোথাও প্রচলিত নেই বললেই চলে।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদেরকে ‘প্রাইজমানি অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পাঠের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে তাদেরকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। মাঠের পারফরম্যান্সে খেলোয়াড়ের প্রাপ্ত অ্যাওয়ার্ডের মতো এখানেও শিক্ষকের অর্জিত কৃতিত্ব ও পুরস্কৃত টাকার অংক উল্লেখ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষকদের অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার মতো মহতী উদ্যোগটি নিয়েছে জেলার স্বনামধন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল’। তারা উদ্যোগটির নাম দিয়েছেন ‘ক্লাস টিচার পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’। গেল বছরের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে ২০১৯ সালের প্রথম সপ্তাহে ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে গত বছর ২০ জনকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার মধ্যদিয়ে এই সিস্টেম চালু করে স্কুলটি।

লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা মুন্নি দৈনিক অধিকারকে বলেন, বিগত ১০ বছরেরও অধিক সময় ধরে আমি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। এরমধ্যে বিভিন্ন সময় নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে পুরস্কৃত হয়েছি। তবে এমন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি কখনো পাই নি। আমি ‘ক্লাস টিচার পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়ে খুবই আনন্দিত। গত বছরও আমাকে অ্যাওয়ার্ড দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। আমি মনে করি এটা শুধুমাত্র পুরস্কার নয়, এটা হলো সম্মান। এটা আমার শিক্ষকতা জীবনে বিশেষ পাওয়া। মিসেস মুন্নি আরও বলেন, শিক্ষকতা শুধুমাত্র পেশা নয়, এটি একটি মহান ব্রত। কারণ শিক্ষকদের হাত ধরেই আমাদের নতুন প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে। এরকম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগাবে। তাই অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এমন সিস্টেম চালু করা উচিত।

টানা দুইবার অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ ফোরকান উল্লাহ দৈনিক অধিকারকে বলেন, শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। অথচ বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ করে শিক্ষক নয়, আমাদের শিক্ষার্থীরা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এটা শিক্ষকতা পেশার জন্য হুমকি স্বরূপ। যদি মেধাবী শিক্ষার্থীরা সবাই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার অথবা অন্যান্য পেশা বেছে নেয়, তাহলে সুশিক্ষিত মানুষ গড়ার দায়িত্ব নিবে কারা? তাই শিক্ষকদের পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পেশাজীবী মানুষজন শিক্ষকতা পেশার প্রতি আকৃষ্ট হবেন, এমন সব উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাছাড়া লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের এই উদ্যোগটি সত্যিই চমৎকার ও ফলপ্রসূ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল সূত্র জানায়, ৬টি বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ‘ক্লাস টিচার পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঠদান, নির্দিষ্ট সময় ক্লাসে আসা-যাওয়া, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরি, খাতা মূল্যায়ন ও নির্ভুল ফলাফল তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করেন স্কুল পরিচালনা কমিটি। এ বছর প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৯০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। গত বছর অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ২০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছিল। 

জানা গেছে, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত রয়েছে। আবাসিক, অনাবাসিক ও ডে-কেয়ার সিস্টেমের এই স্কুলে ৮০জন একাডেমিক শিক্ষকসহ প্রায় ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় শতভাগ পাশসহ ৪১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই জন। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৭। এখানে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিতর্ক, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ, কাব-স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞানাগার, পাঠাগারের ব্যবস্থা। জাতীয় দিবস পালন ছাড়াও রয়েছে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, শিক্ষা সফর, শীতকালীন পিঠা উৎসবসহ নানা আয়োজন। এছাড়াও ২০১৭ সাল থেকে ‘আইডিয়াল ফাউন্ডেশন’ নামে বৃত্তি পরীক্ষা চালু করা হয় বলে জানা গেছে।

লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সবুজ দৈনিক অধিকারকে বলেন, আমাদের শিক্ষকদেরকে কর্মক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য প্রতি বছর ‘ক্লাস টিচার পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এতে করে শিক্ষকগণ পুরস্কৃত হওয়ার পাশাপাশি বিশেষভাবে সম্মানিত হচ্ছেন। যার ফলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য পেশাগত দায়িত্বে আরও আন্তরিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন শিক্ষকগণ। তাছাড়া আমরা আচার-আচরণ, মেধা ও উপস্থিতি মূল্যায়ন করে ছাত্রছাত্রীদেরও বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করছি। এতে ছাত্রছাত্রীরাও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখাচ্ছে। মিস্টার সবুজ আরও বলেন, ভালো টিচার তৈরির ক্ষেত্রে ‘ক্লাস টিচার পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ হতে পারে একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। শিক্ষকদের সম্মানিত করার এমন রীতি আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকতা পেশার যথাযথ সম্মান রক্ষা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘ক্লাস টিচার পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ সিস্টেম নিয়ে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড