সর্বনাশা তামাকের প্রভাব সবজিতে

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:২২

  আব্দুর রহিম, বান্দরবান

বান্দরবানে ১০ বছরে তামাকের আবাদ বেড়েছে ২০ গুণ। কমেছে কৃষিজমি ও ফসলের আবাদ। জেলার সাংগু নদীর দুই তীরে তিনশ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক আকারে তামাক চাষ শুরু হয়েছে। ফলে জেলার রুমা, থানছি, রোয়াংছড়ি, বান্দরবান সদর, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলায় শীতকালীন সাক-সবজির আবাদ ভয়ানকহারে কমে গেছে। যার প্রভাব ইতোমধ্যেই বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বাজার গুলোতে ৩০ থেকে ৬০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে সবজি।

এ দিকে, তামাক কোম্পানিগুলোর অগ্রীম অর্থসহায়তায় অবাধে তামাক চাষের জন্য মাঠে নেমেছে চাষিরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক তামাক পাতার বিজতলা স্থাপন ও চারা উত্তোলন করা হয়েছে। অনেক এলাকায় ইতোমধ্যেই জমিতে চাষিরা তামাক চারা লাগিয়েছে। 

বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অবাধে তামাক চাষের ফলে এলাকা ভিত্তিক কৃষি জমি কমছে। বাড়ছে তামকা পাতা চাষের জমি। ফলে পুরো এলাকায় সাকসবজির আবাদ কমেছে। এতে হাটবাজারগুলোতে তরকারি ও সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় এলাকাবাসীকে তিনগুন দামে সাকসবজি কিনে খেতে হচ্ছে। তবুও তামক চাষ প্রতিরোধে প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। তামাকচাষ বিরোধী জোরালো কোনো ভূমিকাও পালন করছেন না সরকারি কর্মকর্তারা।

ছবি : দৈনিক অধিকার

তামাক গাছ

বান্দরবান জেলা সদরের কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন জানান, বান্দরবান জেলার পাহাড় ও সমতলের মাটি উর্বর। সর্বনাশা তামাকের বিকল্প চাষ হিসেবে আবাদ করতে আমাদের রাজস্ব খাত থেকে এ বছর ২১০০ জন কৃষককে ১ বিঘা করে ভুট্টা বীজ, আমন ধান বীজ, বুরো ধান বীজ ও আউষ ধানের বীজ, ভিটি বেগুন বীজ প্রদান করা হয়। সাথে বিনা মূল্যে বিভিন্ন সারও প্রদান করা হচ্ছে। শুধুমাত্র তামাক চাষ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আগামীতে আরও ৬০০ জন কৃষককে ঠিক এভাবে সরকারি রাজস্ব খাত হতে সহায়তা দেওয়া হবে। এভাবে, তুলা, আখ, আদা-হলুদ, মসলাজাতীয়সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আবাদ করা প্রয়োজন। এতে পরিবেশ অনুকূলে থাকবে, মানুষের পুষ্টির যোগানও বজায় রাখা সম্ভব হবে। 

বান্দরবান জেলা মৃত্তিকা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, অবাধে তামাক চাষের ফলে পাহাড়ের মাটি ক্রমশ উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। কৃষকদের এখনই সময় সেই সর্বনাশা তামাক চাষ থেকে ফিরে আসা প্রয়োজন। তামাক চাষের ফলে জমিতে কেঁচোসহ পরিবেশ রক্ষাকারী পোকা-মাকড়ও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সরকারের কৃষি বিভাগসহ উন্নয়ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তামাকের বিকল্প চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

জেলায় তামাকচাষে নিয়োজিত তামাক কোম্পানিগুলোর স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, এলাকার চাষিরা নগদ অর্থ পাওয়ায় তামাকচাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কোনো চাষিকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তামাকচাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেন। তারা বলেন, দেশে তামাকচাষ বন্ধ হলে বিদেশ থেকে বছরে কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকার তামাক আমদানি করতে হবে।