• বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দেশের শিক্ষার মান বাড়াতে প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে

  মো. নাজিম উদ্দিন

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:২৬
বিশেষ সাক্ষাৎকার
অধিকারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে শিক্ষাবিদ ড. জেবউননেছা। ছবি : সম্পাদিত

ড. জেবউননেছা। শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, সংস্কৃতিকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক। বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি প্রায় ২০-এর অধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক অধিকারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অধ্যাপক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোঃ নাজিম উদ্দিন।

অধিকার: দীর্ঘ ১৮ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলো। বর্তমানে করোনার সংক্রমণও ৫%-এর নিচে। এহেন পরিস্থিতিতে সরকারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার এ সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. জেবউননেছা: আমি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীরা বাসায় আবদ্ধ থাকায় এবং ডিভাইসনির্ভর থাকায় তারা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন একটা দ্বীপের মতো হয়ে যাচ্ছিল। সে পরিস্থিতিতে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার যে সিদ্ধান্তে এসেছে সেজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

অধিকার: করোনাকালে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের অজুহাতে মোবাইলে ইন্টারনেট এবং গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ে। সশরীরে পাঠদান শুরু হলেও অনেকই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর এর কীরূপ প্রভাব পড়তে পারে?

ড. জেবউননেছা: আসলে, আমরা ডিভাইস নির্ভর হব, ডিভাইসের সাহায্যে ক্লাস নিব- এ বিষয়টি শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের কাছেই নতুন। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সরকার অনলাইনে ক্লাস শুরু করতে বললেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রকৃত অর্থে ক্লাস করছে কি না সেটা একজন শিক্ষকের পক্ষে মনিটর করা সম্ভবপর নয়। সেটা মনিটর করবেন তার অভিভাবক কিংবা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা। আমি ব্যক্তিগতভাবে খেয়াল করেছি, শিক্ষার্থীরা কানে হেডফোন লাগিয়ে অনবরত গেমস খেলেছে। এক্ষেত্রে আরেকটা ব্যাপার, তারা দীর্ঘদিন বন্ধু-বান্ধব থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, আর সে জায়গাটি দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন। ফলে এই ডিভাইস আসক্তি তাদের মনস্তত্ত্বে দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ একটা প্রভাব অনিবার্যভাবে ফেলবে।

অধিকার: এই মোবাইল ফোন আসক্তি থেকে তাদের কীভাবে বের করে নিয়ে আসা যায়?

ড. জেবউননেছা: মোবাইল ফোন আসক্তি থেকে তাদের বের করে আনা একটু কঠিন। এক্ষেত্রে পরিবারের বাবা-মা এবং শিক্ষকদের পরিপূর্ণ নার্সিং প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সপ্তাহ, সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ শুরু করে তাদের ব্যস্ত রাখতে হবে। সর্বোপরি, শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক-বাবা/মা দুই পক্ষকেই একটা সমান্তরাল সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

অধিকার: অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি একেবারে কম বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চলের। অনেক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হয়েছে, অনেক ছাত্র-ছাত্রী পুরোপুরিভাবে অর্থনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এদেরকে আবার শিক্ষাক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা কি সম্ভব?

ড. জেবউননেছা: প্রথমত, আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন আছে। মাঠ পর্যায়ে যারা আছেন তারা কোথাও বাল্যবিবাহ হচ্ছে এমন সংবাদ পেলে সেটা রোধ করতে এগিয়ে আসেন। এখন, এই করোনাকালে অনেক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হয়েছে, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাতেই যে এরকমটা হয়েছে তা কিন্তু না। এখানে অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত। মূলত, শিক্ষা এবং অর্থনীতি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। আমাদের দেশের একটা বড় অংশ দিন আনে দিন খায়। করোনাকালে তাদের অনেকের উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও দীর্ঘদিন বন্ধ। এই দুই প্রেক্ষাপটে অনেক অভিভাবক তার মেয়েকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিয়েছেন। এখন যে মেয়েটার বিয়ে হলো তার স্বামী এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকদের উপর নির্ভর করে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা। আর যারা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে তাদের ক্ষেত্রে আমি বলব, তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের বাল্যবিয়ে হলো, যারা অর্থনৈতিক কাজে জড়িয়ে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ল তাদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকারের একার না। এখানে পরিবারের দায়িত্ব আছে, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকদের দায়িত্ব আছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব আছে, শিক্ষা অফিসারদের দায়িত্ব আছে। সর্বোপরি সচেতন তরুণরাস্বেচ্ছাসেবকের মতো ইউনিট করে গ্রামে-গ্রামে, বাড়িতে-বাড়িতে গিয়ে শিক্ষা সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষাক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।

আমার ঘর ঠিক তো সব ঠিক, এই মন্ত্র থেকে বের হয়ে দেশ ঠিক তো সব ঠিক এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে হবে। সর্বোপরি দেশকে ভালোবাসতে হবে।

অধিকার: ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে সরকার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত যে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করতে যাচ্ছে, বাংলাদেশের শিক্ষা বাস্তবতায় এটা কতটা ফলপ্রসূ হবে বলে আপনি মনে করেন?

ড. জেবউননেছা: ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত যে নতুন শিক্ষাক্রম সরকার চালু করতে যাচ্ছে এটা আমাদের জন্য একটা নবতর বিষয়। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় পিইসি এবং জেএসসি নামক যে খড়গ শিক্ষার্থীদের কাঁধের উপরে ছিল সে খড়গ থেকে তাদের মুক্তি দেবার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে সেজন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। পিইসি এবং জেএসসির জিপিএ ৫ আমাদের জীবনে কোনো কাজে লাগে না। সেক্ষেত্রে এসএসসির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষা না রাখা একটা ভালো সিদ্ধান্ত।

দ্বিতীয়ত, মাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থাকবে না। এক্ষেত্রে আমি বলব, প্রত্যেকেই একটা প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু আমরা নবম শ্রেণিতে তাদের ওপর আমাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে সেই প্রতিভাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করে ফেলি। মাধ্যমিক পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী শিখতে শিখতে বেড়ে ওঠে। তাদেরকে সময় দেয়া উচিত। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কোনদিকে যাবে। কিন্তু প্রচলিতশিক্ষাব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত দেন অভিভাবকরা। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার মতো পরিপক্কতা তাদের তখন থাকে না। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হলে একজন শিক্ষার্থী নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

এই নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখার ব্যাপারে গবেষক ও শিক্ষাবিদদের পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এনে বাস্তবায়ন করা হলে এটা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আমি মনে করি।

অধিকার: এবার আসি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সকল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। টিকাদান নিশ্চিত করে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. জেবউননেছা: আপনি প্রথমে বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলো কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হলো। আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বলব, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও কার্যত খোলাই ছিল। আমরা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে অর্ডিন্যান্স করে শিক্ষার্থীদের সেশন জট মুক্ত করে কীভাবে ক্লাসে ফিরিয়ে আনা যায় সেটা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমরাই প্রথম করেছি। আমরা প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস, পরীক্ষা নিয়েছি।

দ্বিতীয়ত, টিকার কথা বলেছেন। সরকার শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিতে কাজ করছে। স্কুল-কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপার কিন্তু এক না। একটা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে; হল, গণরুম সংস্কৃতি এসব ব্যাপারে চিন্তা করতে হয়। কিন্তু সর্বোপরি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিতেই হবে, না হলে শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে যাবে।

অধিকার: সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা যে সেশন জটে পতিত হলো এটা কি কোনোভাবে রোধ করা সম্ভবপর ছিল না?

ড. জেবউননেছা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিন্তু সেশন জটে পড়েনি, পড়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কারণ আমরা কখনও ভাবিওনি আমরা অনলাইন ক্লাসে যাব। আমরা অনলাইন ক্লাস শুরু করেছি, কিন্তু একটু দেরিতে। এখন, সেশন জটে আমাদের কেন পড়তে হলো- আমরা তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে গিয়েছি বললেও আসলে আমরা যে এই জায়গায় একটু পিছিয়েই ছিলাম করোনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে সেটা দেখিয়েছে। আমরা ফোরজি নেটওয়ার্ক এর আওতায় আসলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক জায়গায় নেটই পাওয়া যায় না। আসলে আমাদের করোনার শুরু থেকেই ভাবা উচিত ছিল। করোনার অনেক আগেই আমি স্বপ্ন দেখেছি, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর একটা করে আইডি থাকবে। যেখানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল থাকবে, শিক্ষকরা লেকচারগুলো আগেই দিয়ে দিবেন, শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার এ কতটুকু পড়ানো হবে, কী কী পড়ানো হবে সেটা আগেই পেয়ে যাবে। এভাবে শিক্ষকরা অনলাইনেও শিক্ষার্থীদের সাথে যুক্ত হবেন। কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা আছে, কিন্তু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এটা হয়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যখন এটা করা হলো পাঁচ থেকে দশ বছর আগে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি এটা তখন করা যেত তাহলে শিক্ষার্থীরা এই সেশন জটে পড়ত না। তার মানে আমরা যথেষ্ট পরিমাণে রিঅ্যাকটিভ কিন্তু প্রোঅ্যাকটিভ না। সমস্যা যখন এসেছে তখন আমরা সমাধানের জন্য এগিয়েছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের যে চলা উচিত ছিল এটা করোনা এসে আমাদের শিখিয়ছে। সব সময় আমাদের একইভাবে চলতে হবে তা তো না। পরিবর্তন আনতে হবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে।

অধিকার: স্নাতক সমাপনী বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে প্রায় দুটো বছর চলে গেছে। করোনা না থাকলে তারা হয়তো শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারতেন। করোনার কারণে তাদের জীবনে যে সংকট তৈরি হলো এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?

ড. জেবউননেছা: আসলে করোনা একটা যুদ্ধের মতোই, এখানে শত্রু অপ্রত্যক্ষ। স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধে একপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। আমাদের তরুণরা উদ্যোগী হতে চায় না। তারা পড়াশোনা শেষে টেবিল-চেয়ারের চাকরি খোঁজে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আমি বলব, কবে একটা চাকরি হবে সে আশায় বসে না থেকে উদ্যোক্তা হন। বাংলাদেশ সরকার ক্ষুদ্র ঋণের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা করছে। আমরা কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের শিক্ষিত তরুণরা যদি উদ্যোগী হয়ে কৃষিতে এগিয়ে আসে তাহলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব।

অধিকার: ইউনেস্কোর ২০১৯ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, এক বছরে বাংলাদেশ থেকে মোট ৫৭৬৭৫ জন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। এদের প্রায় ৭৫% আর দেশে ফিরে আসেন না। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে যে মেধা পাচার হচ্ছে এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে?

ড. জেবউননেছা: প্রথমত, শিক্ষার্থীরা কেন বিদেশে যাচ্ছে? দ্বিতীয়ত, কেন তারা ফিরছে না? এক্ষেত্রে গোড়াতে যেতে হবে। আমি যে বিষয়ে পড়ছি সে বিষয়ে যদি চাকরি না থাকে তাহলে আমি দেশে থেকে কী করব, এই চিন্তা থেকে অনেকে বিদেশে চলে যান। আবার যিনি বিদেশে ভালো সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন তিনি আর দেশে ফিরে আসতে চান না। দেশে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে, পাশাপাশি বিদেশে লোভনীয় অফার পাওয়াতে প্রতি বছর আমরা অনেক মেধাবীকে হারাচ্ছি।

অধিকার: বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর যে মেধা পাচার হচ্ছে সেটা কীভাবে রোধ করা যায়?

ড. জেবউননেছা: এক্ষেত্রে আমি প্রথমেই বলব, আমাদের পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। যে যে পদের যোগ্য তাকে সেখানে অধিষ্ঠিত করতে হবে। স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে, নিয়োগদাতাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হব, প্রত্যেকটা জায়গায় সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আমার ঘর ঠিক তো সব ঠিক, এই মন্ত্র থেকে বের হয়ে দেশ ঠিক তো সব ঠিক এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে হবে। সর্বোপরি দেশকে ভালোবাসতে হবে।

অধিকার: আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের শিক্ষার মান ২.৮ শতাংশ। বাংলাদেশের শিক্ষার মানের এই যে শোচনীয় অবস্থা এর থেকে উত্তরণের উপায় কী?

ড. জেবউননেছা: এক্ষেত্রে সমস্যা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গোড়াতেই, প্রাথমিক পর্যায়ে। তাই প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রের মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ মেধাবীদের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের সম্মানি বাড়াতে হবে, যাতে তারা এ ধাপে শিক্ষকতায় আসতে আগ্রহী হয়। পাশাপাশি সকল পর্যায়ের শিক্ষকতায় যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে, শিক্ষার পরিবেশেরও উন্নতি ঘটাতে হবে। উন্নত বিশ্বে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সর্বোচ্চ বেতন এবং সম্মান দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও এটা করতে পারলে আমাদের শিক্ষার মানের এই শোচনীয় অবস্থা দূর হবে।

অধিকার: আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. জেবউননেছা: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ওডি/নিলয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড