• শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২, ২৪ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পুরনো সরঞ্জামে শান দিতে ব্যস্ত ভৈরবের কামাররা

  নাজির আহমেদ আল-আমিন, ভৈরব

১৮ জুলাই ২০২১, ১১:১৯
ভৈরব
ইদকে সামনে রেখে কামাররা পার করছে ব্যস্ত সময় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কোরবানির ইদকে সামনে রেখে কামাররা ব্যস্ত সময় পার করলেও তাদের তৈরি করা সরঞ্জাম বিক্রিতে এখন অনেকটা ভাটা পরার মত। উচ্চ মূল্যে কয়লা, লোহা ও ষ্টীলের মালামাল কিনলেও হাটে-বাজারে ক্রেতা না থাকায় ওইসব সরঞ্জাম বিক্রি কমে গিয়েছে। যার ফলে বিনিয়োগকৃত পূঁজি উঠানো নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এখনকার কামার শিল্পীরা। এছাড়াও মহামারী করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি ভাটা পড়েছে এ শিল্পে। কামার দোকানে এখন আর নেই সেই আগের মত মানুষের আনাগোনা।

জানা যায়, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটতে দা, বটি, ছুরি ও ধামা তৈরিসহ ওইসব পুরনো সরঞ্জাম শান দিতে ইতিমধ্যেই ব্যস্ত সময় পার করছেন ভৈরবের কামার শিল্পীরা। যেন ঢুং ঢাং শব্দে মুখোর কামার দোকানের আশেপাশের এলাকা। এ বিশাল শিল্পের সঙ্গে জড়িত কামার সম্প্রদায়ের লোকজন লৌহ ও ষ্টীলসহ বিভিন্ন ধাতবদ্রব্য দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় ওইসব দা, বটি, ছুরি ও ধামা তৈরির মাধ্যমে পূর্ব পুরুষদের এ পেশা আঁকড়ে ধরে রেখেছে কোন রকম।

কোরবানিকে সামনে রেখে চাহিদা মোতাবেক কোরবানির ইদের জন্য তৈরি দা, বটি, ছুরি ও ধামাসহ বিভিন্ন সামগ্রী বেচাকেনার জন্য মজুত করলেও হাটে-বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। তাই এ শিল্পে নানা অস্থিরতা ও সংকটের মধ্যে রয়েছে কামার শিল্পীরা।

ভৈরবের বিভিন্ন কামার শিল্পীরা জানান, কোরবানির ইদ আসলে এ পেশার মানুষদের একটু ব্যস্ততা ও কদর বাড়ে। অন্য সময় অলসভাবে সময় কাটাতে হয়। এবার ইদে বটি, দা, ছোট-বড় ছুরি ও ধামা তৈরিতে ৩ থেকে ৪’শ টাকা করে মজুরী নেয়া হচ্ছে। এবং তৈরি করা ওইসব সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬’শ টাকায়। গরু কাটার ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে গরু কাটার ছোট ছুরির চাহিদা একটু বেশি রয়েছে। ওইসব তৈরি করতে যেসব মালামাল প্রয়োজন তা বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়ায় তৈরিকৃত ওইসব মালামাল বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।

আগের মত এখন আর নতুন করে মানুষ দা, বটি কিনতে চায়না। ঘরে থাকা পুরানো দা, বটি, ছুরি ও ধামাগুলো পুনরায় শান দিয়ে ধারালো করে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা কামারের কাজ করি তারা শুধুমাত্র কোরবানির ইদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের একটু চোখে পড়ি, আর পুরো বছর জুড়ে আমরা এবং আমাদের এ শিল্প থাকে অবহেলিত। এছাড়া বাজারে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে মেশিনের তৈরি জিনিসের দিকে ঝুঁকছে সবাই।

ছুড়িতে ধার দেওয়া হচ্ছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ভৈরব রানীর বাজার এলাকার শ্যামল কর্মকার জানান, কোরবানি ইদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। গত বছরের তুলনায় এই বছরে অনেকটা কোরবানির গবাদিপশু জবাই করার সরঞ্জামের কাজ কমে গেছে। তাছাড়া করোনা ভাইরাস ও আশু বন্যার কারণে অনেকেরই কোরবানি দেওয়ার মত সামর্থ্য না থাকায় আমাদের কাজও অনেকটা কম।

এদিকে কোরবানির পশুর মাংস কাটার আর একটি বিশেষ অনুষঙ্গ হল কাঠের গুঁড়ি। তাদের বিক্রিতেও এখন তেমন বেচাকেনা নেই। ভৈরব কাঠবাজারের গুড়ি ব্যবসায়ী মো. বাচ্ছু মিয়া জানান, প্রতি কোরবানির ইদের বছরই গুড়ি বেচাকেনা করি। তবে হাটবাজারে মোটামোটি বিক্রি হয়েছে আর সামনে যা দিন আছে ভাল বেচাকেনা হবে বলে জানান গুড়ি ব্যবসায়ী।

ওডি/এফই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড