• সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাগর-নদীর মাঝে ৪০ হাজার প্রাণের স্বস্তির নিঃশ্বাস

  শাহ্‌ মুহাম্মদ রুবেল, কক্সবাজার

০৯ জুন ২০২১, ১৩:৪৩
বঙ্গোপসাগর এবং নাফ নদীর মাঝখানে খালের ওপর নির্মাণ করা ভাসমান সেতু
বঙ্গোপসাগর এবং নাফ নদীর মাঝখানে খালের ওপর নির্মাণ করা ভাসমান সেতু। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ। দেশের সর্ব-দক্ষিণের জনবহুল এলাকা এটি। তিনটি ওয়ার্ডে (৭, ৮ ও ৯) ১৩টি গ্রামে ৪০ হাজার মানুষের বসবাস এখানে। ২০১২ সালে জুলাই মাসে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে শাহপরীর দ্বীপ সড়কের পাঁচ কিলোমিটার অংশ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শাহপরীর দ্বীপের সঙ্গে টেকনাফ উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে দীর্ঘ ৯ বছর এই দ্বীপের মানুষকে উপজেলা থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন জীবন-যাপন করতে হয়েছে। অনেকে ভিটে-মাটি বিক্রি করে অন্যত্র ঘর-বাড়ি করেছে। তারপরও মানুষের জীবন থেমে থাকে না। তারা বিভিন্ন উপায়ে উপজেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। সেক্ষেত্রে পোহাতে হয়েছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি। কিন্তু বর্ষা আসলে এই ভোগান্তির মাত্রা দীগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে তিন মাস একপ্রকার একঘরে থাকতে হয় তাদের।

পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে নাফ-নদী। মাঝখানে এক বিশাল খাল। এই খাল পাড়ি দিয়ে দ্বীপবাসীকে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলায় আসতে হয়। সেক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করতে দ্বীপবাসীরা। জোয়ার আসলে নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে পারলেও ভাটায় সম্ভব হয় না। ফলে ব্যাহত হয় জীবন-যাত্রা।

এবার একটু হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দ্বীপবাসী। তাদের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন। বঙ্গোপসাগর এবং নাফ নদীর মাঝখানে বিশাল খালের উপর নির্মাণ করেছেন একটি ভাসমান সেতু। নিজস্ব অর্থায়নে ১৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৪ ফুট প্রশস্ত এ ভাসমান সেতুটি নির্মাণে দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার (৭ জুন) বিকালে সেতুটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন। ভাসমান সেতুটি নির্মাণের পর সরেজমিনে গিয়ে দ্বীপবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে।

চাকরির সুবাদে কক্সবাজারে থাকতে হয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকের। মাটির টানে সুযোগ পেলে চলে আসেন শাহপরীর দ্বীপের নিজ বাড়ীতে। যাওয়া আসা তার কাছে সুখকর না হলেও ভাসমান সেতুটি নির্মাণ করায় চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ যেন তীব্র গরমে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি। অনেকটা এরকম অনুভূতি অন্যান্য দ্বীপবাসীরও।

এ বিষয়ে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, ‘দ্বীপের ৪০ হাজার মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে নিজস্ব অর্থায়নে (দুই লাখ টাকা ব্যয়) একটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করে দিয়েছি। অন্তত বর্ষার দিনে দ্বীপের মানুষগুলো একটু হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক লোক চলাচল করতে দেখে আমি আনন্দিত।

তিনি জানান, এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণে টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপের সড়কটি আগামী বছর জুনে শেষ হবার কথা রয়েছে। যেকোনো দুর্যোগ-দুর্দিনে শাহপরীর দ্বীপের মানুষের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

ওডি/জাহিদ

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড