• শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কালের সাক্ষী তিন গম্বুজ মসজিদ ও মঠ

  কাজী কামাল হোসেন, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী

০৪ মে ২০২১, ১৫:০৪
তিন গম্বুজ মসজিদ ও মঠ
আত্রাইয়ে মোঘল সম্রাটের শাসনামলে নির্মিত তিন গম্বুজ মসজিদ ও মঠ। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নওগাঁর আত্রাইয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মোঘল সম্রাটের শাসনামলে নির্মিত তিন গম্বুজ মসজিদ ও মঠ। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মসজিদ ও মঠটি তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলতে বসেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৫নং বিশা ইউনিয়নের এক সময়ের নিভৃত পল্লী ইসলামগাঁথী গ্রাম। এটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পূর্বদিকে ঐতিহাসিক গুড়নদীর তীরে অবস্থিত। জনসংখ্যার দিক দিয়ে এটি একটি বড় গ্রাম। গ্রামটিতে রয়েছে শত শত বছর পূর্বের স্থাপনা কারুকার্য খচিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ ও তৎসংলগ্ন একটি মঠ। জনশ্রুতি রয়েছে রাতারাতি নাকি হঠাৎ করে গড়ে উঠে এ মসজিদ ও মঠটি। তবে এ প্রজন্মে অনেকে তা বিশ্বাস করতে রাজি নন।

গ্রামটিতে এক সময় নিভৃত পল্লীর একটি জনবসতি ছিল। এক সময় নৌকার বিকল্প কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না এখানে। আজ থেকে কয়েকশ’ বছর আগে গড়ে উঠে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি। মসজিদ সংলগ্ন প্রায় ৪০ ফুট উঁচু চার স্তরের একটি মঠও নির্মাণ করা হয় সেখানে। মঠটিতে খোঁদাই করে অঙ্কন করা হয় বিভিন্ন প্রাণীর ছবি।

এক সময় এ মঠ এলাকাবাসীর কল্যাণের জন্য বিশ্বকর্মার পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হয়েছে ধারণা করে তাতে বিভিন্ন ধরণের মান্নত করা হতো। প্রতি বছর মহরম মাসের ১০ তারিখে অর্থাৎ আশুরার দিনে দূর-দূরান্ত থেকে কাশিদরা এসে এখানে অর্চনা করত। যুগের পরিবর্তনে এসব কু-প্রথা এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন আর সারা বছরেও দেখা মেলেনা কোন মান্নত সামগ্রীর বা কাশিদ দলের।

এদিকে এ মসজিদ ও মঠ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা এলাকার কেউই সঠিকভাবে বলতে পারেন না। শত শত বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরাও মসজিদ ও মঠটি এভাবেই দেখে আসছেন।

গ্রামের ৭০ ঊর্ধ্ব বয়সের মো. আব্দুস ছাত্তারসহ কয়েকজন বলেন, আমরাতো দূরের কথা আমাদের বাপ-দাদারাও বলতে পারেননি এটি কত সনে স্থাপিত হয়েছে।

ওই গ্রামের অধিবাসী আত্রাই কলকাকলী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদুর রহমান বলেন, আমার দাদা ১৯৮০ সালে ১০৩ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনিও বলতে পারেননি এ মসজিদ ও মঠ কোন যুগে স্থাপিত হয়েছে। তবে ইতিহাস পর্যালোচনায় যতদূর জানা যায়, ১৫৭৬ সালের মোঘল শাসনামলে ইসলাম খাঁ নামের কোন এক ব্যক্তি এ এলাকার শাসনকার্যে নিয়োজিত ছিলেন। ইসলামগাঁথী, ইসলামপুরসহ এ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি গ্রাম তার নামানুসারেই করা হয়েছে। ধারণা করা হয় তার আমলেই এ মসজিদ ও মঠটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এসএ ও আরএস খতিয়ান মূলে ৬ শতক জমির উপর কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এ দু’টি স্থাপনা। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মঠটি তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলতে বসেছে। ইতোমধ্যেই মঠের খোদাইকৃত অনেক প্রাণীর ছবি মুছে গিয়েছে। এছাড়া মসজিদটিরও একই অবস্থা।

জানা যায়, মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য এটি ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে মহল্লার একটি পক্ষ। আরেক পক্ষ মঠ না ভেঙ্গে তা দর্শনীয় স্থান হিসেবে রেখে দিয়ে মসজিদ স্থানান্তর করার পক্ষে কথা বলছেন। এদিকে এ মঠ বা মসজিদ না ভেঙ্গে এগুলোর যথাযথ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে অনেক দর্শনার্থী এখানে আসবেন বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। যেহেতু ইসলামে মসজিদ স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। তাই প্রয়োজনে এ মসজিদ ও মঠটি অক্ষত রেখে অন্যত্র নতুন করে মসজিদ নির্মাণ পূর্বক এ দু’টি স্থাপনা সংস্কারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার সচেতন মহল।

ওডি/জাহিদ

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড