• রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৫০ বছরেও একটি টিউবওয়েল পায়নি নোয়াপাড়াবাসী

  মো. কবির হোসেন, কাপ্তাই

০৩ মে ২০২১, ১০:৪৭
নোয়াপাড়াবাসি পাহাড়ি গর্ত থেকে পানি সংগ্রহ করছেন
নোয়াপাড়াবাসি পাহাড়ি গর্ত থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডস্থ নোয়াপাড়া মারমা পাড়ার গ্রামবাসির কপালে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও জোটেনি একটি ডিপ টিউবয়েল। ফলে এলাকার বসবাসকারী লোকজনকে বিশুদ্ধ পানির অভাবে হাহাকার করতে হচ্ছে বহুকাল ধরে। খাবার পানি, ধোয়ামোছা এবং গোসলের পানির জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় প্রাকৃতিক উৎস পাহাড়ি ঝর্ণা, ছড়া ও বিকল্প গর্তে জমিয়ে রাখা পানির ওপর।

অপর দিকে শুষ্ক মৌসুম অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত অধিকাংশ ঝর্ণার পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে পানি সংগ্রহ করতে হয় পাহাড়ি ছড়ার ময়লাযুক্ত ঘোলা পানি কিংবা টিলার নিচে তৈরি অগভীর গর্ত থেকে। অগভীর কুয়ায় চুইয়ে আসা পানি বাটিতে তুলে ছেঁকে কলসি ভরতে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। এভাবেই নিত্যদিনের পানি সংগ্রহে রীতিমতো সংগ্রাম চলে নোয়াপাড়ার বাসিন্দাদের।

জানা যায়, বিশুদ্ধ পানির সংকট থাকায় দুর্ভোগের শিকার নোয়াপাড়া গ্রামবাসী। গ্রামের অধিকাংশ বৃদ্ধ, যুবক-যুবতীদের প্রতিদিন বহুদূর পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে পানি আনতে যেতে হয় মৃত খোঁড়া ছোট একটি গর্তের কাছে। ঐ গর্ত থেকে চুইয়ে, চুইয়ে পানি বের হয়। সেই পানি বাটিতে তুলে একটু একটু করে কলসি ভরে বাড়িতে ফিরতে হয়। এছাড়া শীতকাল থেকে পাহাড়ে শুরু হয় পানির কষ্ট ও হাহাকার। সংগ্রহ করা এ পানি দিয়ে ধোয়ামোছাসহ নিত্য দিনের কাজ করতে হয়। এমন ভাবে চলছে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর।

দুর্ভোগের শিকার নোয়াপাড়াবাসি জানান, নিজেদের উদ্যোগে টাকা খরচ করে রিং টিউবওয়েল এবং কুয়ো স্থাপন করলেও পানিতে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ থাকার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী। যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

নোয়াপাড়ার বাসিন্দারা আরও জানান, নালা-নর্দমা থেকে নেমে আসা ও ছড়ার ময়লাযুক্ত পানিই কাপড় দিয়ে ছেঁকে পান করতে হয়। তবে ছড়ার পানি বন্ধ হওয়ার ফলে এখন সেই সুযোগও নেই।

এ ব্যাপারে ৫নং ওয়াগ্গা ইউপি চেয়ারম্যান চিরনজিত তনচংগ্যা জানান, আগামীতে নোয়াপাড়া এলাকায় টিউবওয়েল দেওয়ার চিন্তা চলছে।

অপর দিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কাপ্তাই এর উপ সহকারী প্রকৌশলী লিমন চন্দ্র বর্মন বলেন, বিষয়গুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হয়। তারাই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে মাধ্যম নির্ধারণ করে থাকেন। সে অনুপাতে কাজ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।

এলাকাবাসির দাবি, একটি পানির প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নোয়াপাড়ার পাহাড়ে বসবাস করা জনগোষ্ঠীর বিশুদ্ধ পানির অভাব মেটাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

ওডি/জাহিদ

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড