• মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাড়ির প্রবেশ পথে দেয়াল, ৪ বছর ধরে অবরুদ্ধ কয়েকটি পরিবার

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

০৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৭
যাতায়াতের পথে প্রাচীর
যাতায়াতের পথে প্রাচীর। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মন্দিরের দোহাই দিয়ে যাতায়াতের পথে বিশাল প্রাচীর তৈরি করে প্রায় চার বছর ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবারকে। ওই প্রাচীর নির্মাণের কারণে সোজা পথ ছেড়ে বিকল্প পথে কষ্টের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।

সম্প্রতি তাড়াশ পৌর শহরের ঘোষপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমন প্রাচীর। ঘোষপাড়া কালিমাতা মন্দিরের যে জায়গা রয়েছে তার শুধু একপাশে দেয়াল তুলে রাখা হয়েছে। একদিকে দেয়াল তুলে রাখার কারণে ওই মন্দিরের আশপাশে বসবাসরত পরিবারগুলোর যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, আব্দুল কুদ্দুস, শুভ কুমার ঘোষ, ও মাহবুব হোসেনসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলা সদরের ঘোষপাড়া এলাকার দিলীপ সিংহের সাথে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও তাড়াশ শহর বিএনপির সভাপতি তপন কুমার গোস্বামীর ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকায় স্থানীয় হিন্দু সমাজপতিদের দিয়ে এই প্রাচীরটি নির্মাণ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় হিন্দুদের জন্য সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ঘোষপাড়া কালিমাতা মন্দির। দিলীপ সিংহ নিজ উদ্যোগে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মন্দিরে পূজা-অর্চনা চলতে থাকে। এ অবস্থায় তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও শহর বিএনপির সভাপতি তপন কুমার গোস্বামীর সাথে দিলীপ সিংহের ব্যক্তিগত বিরোধ হয়। এর জের ধরে দিলীপ সিংহের এক ছেলের নামে মামলাও করেন তপন কুমার গোস্বামী। পরে নিজেই আদালত থেকে মামলাটি তুলে নেন।

এ অবস্থায় দিলীপ সিংহের বাড়ির সামনের তার নিজের ১ শতাংশ জমি আরএস রেকর্ডে এসে খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে দিলীপ সিংহ আরএস রেকর্ড কর্তন মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিথ্যা সাক্ষীদের কারণে বিচারক ওই ১ শতক জায়গা আশ্রমের জায়গা উল্লেখ করে রায় দেন। রায় হওয়ার সাথে সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০১৭ আগস্ট মাসে তপন গোস্বামীর নেতৃত্বে স্থানীয় মন্দির কমিটির সভাপতি হীরক লাল ঘোষসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দিলীপ সিংহের বাড়ির সামনে বিশাল প্রাচীর তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদকে অবগত করা হয়। এরপর তিন বছর পার হলেও ওই প্রাচীর অপসারণ করা হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়াসহ পরিবারের লোকজন। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার কয়েকটি পরিবারকেও।

ভুক্তভোগীরা পরিবারের সদস্যরা বলেন, দেয়াল তোলার কারণে বাড়িতে ভারী কোন মালামাল আনা নেওয়াতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বাড়িতে মোটর সাইকেল প্রবেশ করানোও বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে। তারা অবিলম্বে ওই দেয়াল তুলে দিতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রাচীর অপসারণের জন্য জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার কানুর কাছে আবেদন করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবী করেন। ওই টাকাও তাকে দেওয়া হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে গেলেও তিনি দেয়াল অপসারণের ব্যবস্থা করেননি।

দিলীপ সিংহ বলেন, আমি শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের কেশিয়ার ছিলাম। তখন থেকেই আর্থিক অনিয়মের সুযোগ না দেওয়ায় তপন গোস্বামীর সাথে আমার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ কারণেই ওই প্রাচীর তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রাচীরের কারণে আমার বাড়িতে কোন ভাড়াটিয়া আসছে না।

সামিনা খাতুন নামে এক ভাড়াটিয়া বলেন, যাতায়াতের অসুবিধার কারণে আমাদের এখানে থাকা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন : রাঙামাটিতে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল

এ বিষয়ে ঘোষপাড়া কালিমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি হীরক লাল ঘোষ বলেন, মন্দিরের নামে ৬ শতক জমি রয়েছে। ওই জমি খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ায় কোন কাগজপত্র নেই। এছাড়া আরও ২ শতক জমি আশ্রমের নামে রয়েছে। এ ব্যাপারে দিলীপ সিংহ রেকর্ড কর্তন মামলা করে হেরে যান। তারপরও ওই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়।

তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী বলেন, দিলীপ সিংহের পরিবারের সাথে আমাদের সামাজিক কোন সম্পর্ক নেই। তারা আমাদের কাছে এসে অনুরোধ করলেই ওই দেয়াল তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তারা আমাদের কাছে না এসে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করেন। আমাদের কাছে এলেই সামাজিকভাবে বসে প্রাচীর তুলে দেওয়া হবে।

ওডি/জেআই

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড