• রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

স্বতন্ত্রতা নিয়েই পাঠক প্রিয়তায় তুঙ্গে অধিকারের অনলাইন সংস্করণ

  ফারজান ইলা

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:১৫
অধিকার

সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হলো সংবাদপত্র। তাই অনেকে সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ বলে অভিহিত করে। বর্তমান সময় সংবাদপত্রের উৎকর্ষতার সময়। ডিজিটালাইজড হওয়ার ফলে যেমন ছড়িয়েছে তথ্যসেবা তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে তথ্যের গুণগত মান। তথ্য সেবার এমন দোদুল্যমান সময়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ তথ্যসুবিধা দেয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে বাজারে আসে দৈনিক অধিকার ও অধিকার ডট নিউজ। কাগুজে বয়ান অনুযায়ী, প্রত্যেক গণমাধ্যমের মূল উদ্দেশ্য অবাধ তথ্যসেবার ধারাকে প্রবাহমান রাখা। দৈনিক অধিকারও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। তবে বাস্তবতায় দৈনিক অধিকার রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্তগ্রাম অঞ্চলের প্রতিটি খবর গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করে আসছে। অনলাইন ও প্রিন্ট এই দুই ভার্শনে তার ছাপ বর্তমান।

বাংলাদেশে সংবাদপত্র শিল্পে সব থেকে দ্রুততম সময়ে খ্যাতির উচ্চস্থানে পৌঁছানো সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম দৈনিক অধিকারের অনলাইন সংস্করণ অধিকার ডট নিউজ (www.odhikar.news)। সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা, সুন্দর ভাষাশৈলী, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সবার আগে সংবাদ উপস্থাপনসহ নানা কারণেই অধিকার ডটনিউজের পাঠকপ্রিয়তা পেতে কালক্ষেপণ করতে হয়নি। সমাজের নানা অপ্রীতিকর ঘটনা, দুর্নীতি, উন্নয়ন এবং অন্যান্য সকল বিষয়ের পেছনের ঘটনা তুলে ধরে দ্রুতই পাঠকের পছন্দের তালিকায় ঠাঁই করে নেয় অধিকার ডট নিউজ।

পত্রিকা নিয়ে কথা বলা শুরু করতেই প্রথম যে শব্দটি সামনে আসে, সে হলো নিরপেক্ষতা। সমাজের তৃতীয় নয়ন হিসেবে ঘটনার পর্যবেক্ষণ করে অধিকার। সম্পাদকীয় নীতি মেনে অধিকার ও অধিকার ডটনিউজ যেকোনো ঘটনারই দুই বা ততধিক পক্ষের বক্তব্যের উপর নির্ভর করেই একটি সংবাদ পরিবেশন করে। এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র'র সাধারণ সম্পাদক মাহাদী সেকেন্দার বলেন, "কোনো সংবাদপত্রই নিরপেক্ষ নয়। হওয়া সম্ভবও নয়, উচিতও নয়। কেননা সব সংবাদের ভেতরই একটা দ্বন্দ্ব থাকে; আসলে ভেতরের দ্বন্দ্ব থেকেই বাইরের সংবাদটি তৈরি হয়। সংবাদপত্র সংবাদটি দেবে, বিভিন্ন ভাষ্য তুলে ধরবে, বস্তুনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করবে, কিন্তু নিউজরুম থেকে অবশ্যই একটা অবস্থান থেকে দেখতে হবে খবরের ভেতরকার দ্বন্দ্বটিকে। সেখানে সে আর নিরপেক্ষ নয়। পাঠক হিসেবে আমি যে বিশেষ সংবাদপত্রগুলোর এই অবস্থানটি আমি পছন্দ করি, দৈনিক অধিকার তার মধ্যে অন্যতম।"

বাজারে প্রকাশিত কয়েক হাজার বাংলা অনলাইন পোর্টালগুলোর মূল টার্গেট পাঠক পাওয়া। এজন্য তারা সস্তা সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠক পেতে চায়। অধিকার ডটনিউজ এই উদারনীতি নিতে পারেনি। তারা শুদ্ধ ও সমাজের নেগেটিভ প্রভাব পড়বে না এমন নিউজ বাছাই করে পরিবেশন করে। নিউজের ছবির শালীনতার বিষয়টি এই পত্রিকার জন্য স্পর্শকাতর বলা হয়। এ ব্যাপারে অধিকার ডট নিউজ ও দৈনিক অধিকারের সহযোগী সম্পাদক গোলাম যাকারিয়া বলেন, আমরা শুরু থেকেই চাচ্ছিলাম একটা রুচিশীল পাঠক সমাজ ক্রিয়েট (তৈরি) করতে। যেটা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ও সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য প্রয়োজন।

সংবাদ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অধিকার কর্মীদের তৎপরতা লক্ষ করার মতো। পাঠকের চাহিদা নয় বরং প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে সংবাদ নির্বাচন করে অধিকার ডটনিউজ। দৈনিক অধিকারের বার্তা সম্পাদক রাফি আহমেদ দেওয়ানের বক্তব্য মতে, যেসকল সংবাদ জাতীয় বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর জন্য ভূমিকা রাখবে না, সেগুলো ফেলে দিচ্ছি। কিন্তু আমি দেখছি অধিকারের ফেলে দেওয়া সংবাদ অন্য অনলাইন পোর্টালগুলোতে করছে।

বর্তমান সময়ে সংবাদ মাধ্যমে আস্থা হারানোর পেছনের অন্যতম একটি কারণ হলো শিরোনাম এবং মূল সংবাদের অমিল থাকা। দৈনিক অধিকার ও অধিকার ডটনিউজ এক্ষেত্রেও যত্নশীল। খবরের শিরোনাম তৈরির ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করে মূল পাঠ্যের সাথে অসংগতিপূর্ণ কোনো শিরোনাম সম্পাদকীয় নীতিতে অপরাধযোগ্য । দৈনিক অধিকারের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী তাজবীর সজীব বলেন, "সংবাদ আমার দৃষ্টিতে একটি পণ্য। আমরা সংবাদমাধ্যমগুলো সেই পণ্যগুলোর বাজারজাত করছি। পাঠককে বিভ্রান্ত করা যেকোনো গণমাধ্যমের জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।" তবে আগের তুলনায় মানুষের আস্থা কিছু হ্রাস পেয়েছি কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে পত্রিকার সঙ্গে পত্রিকার প্রচণ্ড, প্রায় গলা-কাটা প্রতিযোগিতা চলছে। কিন্তু সেটা বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা। তবে আগে পত্রিকাগুলোর মাঝে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব ছিল। যার কারণেই ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভিড়ের মাঝেও সংবাদপত্র আস্থা নিয়ে টিকে ছিল। কিন্তু অসুস্থ বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা পত্রিকার আস্থা কিছুটা হ্রাস করিয়েছে। তবে সুস্থ ধারার গণমাধ্যমের প্রতি সবসময়ই মানুষের আস্থা থাকবে।

বলা হয়ে থাকে, একটি দেশের সংবাদপত্র হলো সেই দেশের প্রতিদিনকার জাতীয় জীবনী। পত্রিকা যেন গণতন্ত্রের আরেকটা প্রতিনিধি সভা, আরেকটা পার্লামেন্ট—যেখানে দেশের জাতীয় অবস্থা উঠে আসে, উঠে আসে সমস্যার বিবরণ আর সমাধান নিয়ে আলোচনা। তাজবীর সজীবের কথা মতে, যখন অনলাইন-ইন্টারনেট ছিল না, তখন জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টি করার প্রধান দুটি হাতিয়ারের একটি ছিল ছাপা পত্রিকা। তবে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে ছাপা পত্রিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আর ভবিষ্যতের ব্যাপার না, তা ঘটমান বর্তমান। তবুও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলছে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের চাহিদা সবসময়ই থাকবে। আর যদি তাই হয়, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি দৈনিক অধিকারও টিকে থাকবে, সেই সাথে বহুদূর এগিয়ে যাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে বাজারে আসা অধিকার ডটনিউজও।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড