• বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধ্বংসের শেষ প্রান্তে

  রিয়াদ হোসেন, মুন্সীগঞ্জ

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১৫
মুন্সীগঞ্জ
অবহেলায় পড়ে রয়েছে ফেরি পন্টুন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর উপর ১২ বছর আগে নির্মাণ করা হয় ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (মুক্তারপুর সেতু)। কিন্তু ওই এলাকার ফেরির যন্ত্রপাতি আজও সরিয়ে নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ফেরি, পল্টুন ও গ্যাংওয়ে অরক্ষিত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সেতুর নিচে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে থাকা এসব সম্পদ সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ায় সরকারি এসব সম্পদের মূল্য দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। ফলে সরকার তার রাজস্ব হারাচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (ফেরি) সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে মুন্সীগঞ্জ শহর-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা সরাসরি যোগাযোগের জন্য ফেরি পারাপারের পরিবর্তে নির্মাণ করা হয় মুক্তারপুর সেতু। সেতু উদ্বোধনের পরেই বন্ধ হয়ে যায় মুক্তারপুর ফেরি সার্ভিস। এর ফলে ওই নৌপথের দশটি ফেরি ও দুইটি পন্টুন সেতুর নিচে ফেলে রাখা হয়। এর পর থেকে মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে অকেজো ফেরি এনে ওই স্থানে রাখে সওজের ফেরি রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ। 

কিছুদিন আগেও ১৫টি ফেরি ১৬টি পন্টুন এবং ৫টি গ্যাংওয়ে ছিল। এর মধ্যে ৮টি ফেরি ও ৫টি পন্টুন দরপত্রের মাধ্যমে নিলাম করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪টি ফেরি নিয়ে গেছে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। এখনো ৭টি ফেরি, ১১টি পন্টুন ও ৫টি গ্যাংওয়ে অবিক্রীত অবস্থায় আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধলেশ্বরীর নদীর তীরে চর মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ফেরি ঘাট এলাকায় সেতুর নিচে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেরি ও পন্টুনগুলো পড়ে আছে। এগুলোর ইঞ্জিন অনেক আগেই বিকল হয়ে গেছে। ফেরি ও পন্টুনগুলোর গায়ে মরিচা ধরে ক্ষয় হচ্ছে। ফেরির মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বড় আকারের গর্ত। পানির নিচে ও কাদায়  ডুবে আছে কয়েকটি ফেরি।

দৈনিক অধিকার

অবহেলায় পরে রয়েছে ফেরি পল্টুন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘসময় ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে ফেরিগুলো। এগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না করায় বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হতে চলেছে। ফেরি ও পন্টুনের বিভিন্ন অংশ এরই মধ্যে চুরি হয়ে গেছে এবং এখনো হচ্ছে। 

বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ফেরিগুলো বেশিরভাগই পানির নিচে থাকে। দীর্ঘদিন একই স্থানে পড়ে থাকায় এসব ফেরি ও পন্টুনের একাংশ নদীর কাঁদায় দেবে গেছে। ফেরিতে রাতের বেলায় চলে মাদকাসক্তদের আড্ডা খানা। অকেজো ফেরিগুলো বিক্রি করলে সরকারি কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব যোগ হতো।

ফেরিগুলোর সচল ইঞ্জিনসহ মেশিনারিজ রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলায় অনেক আগে থেকেই বিকল হয়ে গেছে। এসব সরকারি সম্পদ দেখভাল করতে পশ্চিম মুক্তারপুর এলাকায় ফেরি বিভাগের তিনজন নিরাপত্তা প্রহরী থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। 

স্থানীয় এক দোকানদার জানান, মো.আলী, তুহিন ও রানা নামে তিনজন নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে। দায়িত্বে থাকা লোকগুলোই বিভিন্ন সময় চুরি করে লোহা কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। রাতের সময় ফেরির মধ্যে মাদকের আড্ডা বসানো হচ্ছে।

তবে চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, রানা মিয়া। তিনি বলেন, এমন কথা অনেকেই বলে। আমরা কাজ করেইত কুলিয়ে উঠতে পারি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সওজের এক কর্মকর্তা জানান, মুক্তারপুর এলাকায় সংরক্ষণ করা ফেরি ও পন্টুনগুলো এখন মেরামতের অযোগ্য। যতই দিন যাচ্ছে সেগুলো মরিচা পড়ে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। নিলামে বিক্রি করলে সরকারি কোষাগারে যে টাকা জমা হতো, সেই টাকার পরিমাণ কমে আসছে। এতে করে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (ফেরি রক্ষণাবেক্ষণ নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল) মো. মিথুন মিয়া জানান, অকেজো ও পরিত্যক্ত ঘোষিত ফেরিগুলো মেরামত করে নতুন করা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। বিষয়টি উল্লেখ করে সার্ভে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। অকেজো ফেরিগুলো নিলামের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ইতোমধ্যে কিছু ফেরি বিক্রি হয়েছে। অবশিষ্ট ফেরিগুলোও নিলামের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি আরও বলেন, ওই খান থেকে মালামাল চুরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফেরিগুলো দেখভাল করার জন্য তিনজন পাহারাদার রয়েছে।

ওডি/আরবি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড