• রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভিন্ন সাজে নতুন রূপে চুয়েট

  আতাহার মাসুম তারিফ, চুয়েট প্রতিনিধি

০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:১৬
চুয়েট
স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনের গোলচত্বর (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দীর্ঘদিন পর আবার আনন্দ আড্ডায় মুখর হবে প্রিয় ক্যাম্পাস, নতুন-পুরনোর মেলবন্ধনে তৈরি হবে স্মরণীয় এক মুহূর্ত। তাই ফেলে যাওয়া স্মৃতি রোমন্থনের অপেক্ষা সাবেক শিক্ষার্থীদের। হোক সেটা সমাবর্তন বা সুবর্ণ জয়ন্তী, আসল উদ্দেশ্য হলো ক্যাম্পাসের চেনা রাস্তাগুলোর ধুলো গায়ে মাখানো।

সমাবর্তন ও সুবর্ণ জয়ন্তী মানে- আবেগ, ভালোবাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সুন্দর কিছু মুহূর্ত, যে মুহূর্তগুলো আঁকড়ে ধরে একজন মানুষ সারাজীবন বিশ্ববিদ্যালয়কে স্মৃতিচারণ করেন। সেই স্মৃতি রোমন্থন করতে আগেভাগে চলে এসে প্রিয় ক্যাম্পাসে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাবেকরা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৪র্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। ঠিক পরদিন (শুক্রবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল প্রতীক্ষীত ৫০ বছর পূর্তিতে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হচ্ছে। ৪র্থ সমাবর্তন ও সুবর্ণ জয়ন্তী ঘিরে উৎসব প্রতীক্ষা চুয়েট ক্যাম্পাস।

এ দিকে সাজসজ্জায় বিশ্ববিদ্যালয় নতুনরূপে সেজেগুজে বসে আছে তার পুরনো স্মৃতি আঁকড়ে ধরা মানুষদের বরণে। স্বাধীনতা ভাস্কর্য, আবাসিক হল, অ্যাকাডেমিক ভবন, টিএসসি বিল্ডিং, প্রশাসনিক ভবন, রাস্তাঘাট যেন একেকটা বিয়ে বাড়ির সাজ সাজ অবস্থা। নতুন রঙে মুড়ানো হয়েছে পুরো চুয়েট ক্যাম্পাস। রঙ-বেরঙের আল্পনায় মুখরিত পুরো ক্যাম্পাস। অবহেলিত পদ্মপুকুর আর চুয়েট লেককে করা হয়েছে সংস্করণ। যেই লেকের সংস্কারের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে হয় সেই লেক এখন সকাল-সন্ধ্যা দিব্যি কায়াকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত করে রাখে। পদ্মপুকুর, হতাশা চত্বরের পুকুরঘাট, টিচার ডর্মের স্থাপন করা হয়েছে অনিন্দ্য সুন্দর পানির ফোয়ারা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই সবুজ ক্যাম্পাসকে সাজাতে যেন চেষ্টার কমতি নেই।

ছবি

অনিন্দ্য সাজে চুয়েট ক্যাম্পাস (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চট্টগ্রাম শহর থেকে চুয়েটের ২৫ কিলোমিটার দূরত্ব রাস্তা প্রায় ১৫০ তোরণে ছেয়ে গেছে। নতুনরূপে সেজেছে চুয়েটগামী পুরো রাস্তা। রাস্তার আশেপাশের গাছগাছালি থেকে শুরু করে সবকিছুতে যেন রঙের ছোঁয়া। এ যেন এক ভিন্ন নব্য চুয়েট!

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন রঙের আলপনা ও আলোকসজ্জায় আলোকিত হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনের গোলচত্বরে শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখতে পাওয়া যায়। ক্যাম্পাসের সিনিয়র-জুনিয়র ও বন্ধুরা মিলে ফটোগ্রাফিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের মধ্যেও বিরাজ করছে সমাবর্তনের আনন্দ।

সমাবর্তনে অংশ নেওয়া এক গ্রাজুয়েট বলেন, ‘সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। ক্যাম্পাসে কাটানো বন্ধুদের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হয়েছে।’ তবে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি ক্যাম্পাসের অনিন্দ্য সাজ দেখে। জীবনে সেরা একটা দিন অপেক্ষা করছে বলে জানান তিনি।

এরই মধ্যে সমাবর্তন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা ও (এসএসএফ) লোকজন কাজ করছে ক্যাম্পাসে।

এবারের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ এবং সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, সমাবর্তনে ৪ স্বর্ণপদকসহ মোট সমাবর্তন ডিগ্রি পাচ্ছেন ২ হাজার ২৩১ জন।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড