• মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আগেই বিশ্ব রেকর্ড গড়বে শস্যচিত্রের প্রতিচ্ছবি

  আব্দুস সালাম, বগুড়া

১০ মার্চ ২০২১, ২০:৩৬
চৌধুরী
ওয়ার্ল্ড গিনেস রেকর্ড মনোনীত প্রতিনিধিরা হলেন শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহম্মদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী দেখছেন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর আগেই বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রপ ফিল্ড মোজাইক হিসেবে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি। বগুড়া জেলার শেরপুরে বালেন্দা গ্রামে শতবিঘা জমিতে পাখির চোখে ভেসে উঠতে শুরু করেছে দেশের স্থপতির প্রতিকৃতি।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) দুপুরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এর দু’জন প্রতিনিধি পরিদর্শন করেছেন। তাদের রিপোর্ট পেলেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ এক সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল জানাবে বলে প্রতিনিধিদের প্রত্যাশা।

ভারত, বৃটেন, জাপান ও চীনের রেকর্ড ভেঙ্গে শীঘ্রই শস্যচিত্র অংকনকারী ৫ম দেশ হিসেবে ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ এ স্থান করে নিবে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে চীনে শস্য চিত্র তৈরি করা হয়েছিল, যার আয়তন ছিল ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৬ বর্গফুট। বগুড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম বালেন্দায় বঙ্গবন্ধুর শস্যচিত্রটির আয়তন ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট। শস্যচিত্রটি দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার এবং প্রস্থ ৩০০ মিটার, যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আঁকা প্রতিকৃতিতে ‘গিনেস রেকর্ডের সকল শর্ত মানা হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ল্ড গিনেস রেকর্ডের পক্ষ থেকে আসা প্রতিনিধিরা।

মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ১২০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে দুই জাতের ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। যার ১০০ বিঘায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবয়বের প্রতিকৃতি।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, বিশ্বে সর্বপ্রথম শস্যচিত্র আকা হয় গ্রেট বৃটেনে, পর্যায়ক্রমে জাপান ও ভারতে, তারপর ২০১৯ সালে চায়নাতে আঁকা হয় ৭৫ বিঘার উপর শস্যচিত্র। এবার মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি শস্যচিত্রে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ১০০ বিঘা জমিতে এবং এটিই একক ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতি হবে।

ওয়ার্ল্ড গিনেস রেকর্ডের পক্ষ থেকে আসা প্রতিনিধিরা সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করে তারা শর্ত মানার বিষয়টি জানিয়েছেন। ওয়ার্ল্ড গিনেস রেকর্ড মনোনীত প্রতিনিধিরা হলেন শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহম্মদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী।

প্রতিনিধি দলের প্রধান শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা মোজাইক স্কেচের তৈরি বঙ্গবন্ধুর শতভাগ মিল রয়েছে। স্কেচে ব্যবহার করা হয়েছে দুই ধরণের রং, যা এই শস্যচিত্রের রংয়ের হুবহু। এটি একটি ক্রপ ফিল্ড মোজাইক। এখানে কোন কৃত্রিমতা নেই। শস্যের অবস্থান রয়েছে নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে সুনির্দিষ্টভাবে। এখানে কৃত্রিম কোন রং ব্যবহার করা হয়নি। এখানে প্রতিটি ধান গাছের চারার দূরত্ব ৮ ইঞ্চি যা রোপণের সঠিক পরিমাপ। তিনি আরও বলেন, গিনেস রেকর্ডে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর এই প্রতিকৃতি স্থান পেতে হলে অবশ্যই শস্যের ৪০ ভাগ হবে বেজ, আর ৬০ ভাগ হতে হবে মূল ইমেজ। সেটি ঠিক আছে কিনা তার সঠিক তথ্য দিবেন সার্ভেয়ার। এই শস্য চিত্র দেখে আমরা শতভাগ সন্তুষ্ট হয়েছি। প্রতিবেদন আমরা দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের প্রধান কার্যালয় ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দিব। এরপর সিদ্ধান্ত আসবে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্য সিদ্ধান্ত আসবে বলেও জানান তিনি।

শস্য চিত্র পরিদর্শন আসা আরেক প্রতিনিধি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠিয়ে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চল (বগুড়ার শেরপুরে) পরিদর্শন করে ক্রপ মোজাইকের উপর কী পরিমাণ কাজ করা হয়েছে। কোন ধরনের শস্য ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিষয়গুলো দেখে সঠিক প্রতিবেদন তৈরি করে পাঠাতে। প্রতিকৃতির মাঠ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বৃহত্তর আঙ্গিকে সুচারু রূপে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সার্ভে করে দেখা গেছে এটার আয়তন দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার ও প্রস্থ ৩০০ মিটার। মূল অবয়বের বাহিরে আরও জায়গা রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ডের রেকর্ডের সবগুলো শর্ত ও নির্দেশনা শতভাগ মানা হয়েছে। এটির ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করার মতো অবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রকল্প পরিদর্শনে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ আহবায়ক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাবিবর রহমান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক, সিরাজগঞ্জের সাবেক এমপি গাজী ম. ম আমজাদ হোসেন মিলন, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম আসাদুর রহমান দুলু, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ সদস্য সচিব কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি ভিপি সাজেদুর রহমান সাহীন, সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান শান্ত, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস প্রমুখ। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু, মুজিব শতবর্ষ উদযাপনের এটি একটি ভিন্ন ধরনের ও ভিন্ন মাত্রার কর্মসূচি। বিশ্ব দরবারে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা হবে। সারাবিশ্বকে জানাতে চাই বাংলাদেশ জাগ্রত হয়েছে। নান্দনিক ছবির মাধ্যমে জাতির জনকের প্রতিকৃতি তুলে ধরা হবে সারা বিশ্বে। যা স্থান পাবে ওয়ার্ল্ড গিনেস রেকর্ডে।

শস্য চিত্রের এই প্রকল্প জরিপ করছেন শেরপুর উপজেলা প্রশাসন। এই দলের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন, উপজেলা সার্ভেয়ার হাবিবুল ইসলাম বাবলু, সাইফুল ইসলাম।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গঠিত জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার নামে একটি প্রাইভেট কোম্পানির অর্থায়নে প্রতিকৃতিটি তৈরি করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের সদস্য সচিব কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান। কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন লড়াই করেছেন মানুষের অধিকার ও কৃষকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায়। তাই দুই রঙের ধান গাছই বেছে নেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকার জন্যে।

প্রতিকৃতিতে বঙ্গবন্ধুকে গিনেস বুকে স্থান দেয়ার জন্য গত বছরের মার্চ মাস থেকে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু কর্মসূচির কাজ শুরু করা হয়। বেগুনী ও সবুজ রঙের ধানগাছে ফুটিয়ে তোলা হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। চায়না থেকে বেগুনী রঙের ধানের জাত (এফ-১) আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র হিসেবে রেকর্ড গড়ার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগও করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধু কৃষি ও কৃষকের বন্ধু ছিলেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের কৃষিমন্ত্রী হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এবার তাঁরই প্রতিকৃতি শস্য চিত্রে ফুটে উঠছে বগুড়ার শেরপুরের বালেন্দা গ্রামের ধানের মাঠে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের সেরা আয়োজন এটি। এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাসিম ভাইয়ের উদ্যোগে শীঘ্রই ইতিহাসের অংশ হবে বগুড়ার শেরপুরের বালেন্দা। আমি বগুড়ার মানুষ হিসেবে গর্ববোধ করছি। আগামী প্রজন্ম যুগ যুগ ধরে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ রাখবে।

আরও পড়ুন : যশোর হত্যা মামলার আসামির লাশ উদ্ধার

আয়োজকরা জানান, শস্যচিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে গত ২৯ জানুয়ারি চারা রোপণ করা হয়। ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ার এর সহযোগিতায় চীন থেকে আমদানি করা বেগুনি ও সবুজ দুই ধরনের ধানের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে নির্দিষ্ট স্থানে ধানের চারা রোপণ করা হয়। উঁচু থেকে, পাখির চোখে ১০০ বিঘা জমিতে সবুজ ও বেগুনী ধান গাছের চারায় জেগে উঠেছে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতি। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের এই গ্রামে চারা রোপণের ১ মাসেই দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে ফুটে উঠেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি।

ওডি/এইইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড