• শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যেসব কাজে লাগাতে পারেন পুরনো স্মার্টফোন

  প্রযুক্তি ডেস্ক

৩০ মে ২০২২, ১৬:৪৫
পুরনো স্মার্টফোন
পুরনো স্মার্টফোন। (ছবি : সংগৃহীত)

ঝকঝকে নতুন একটি স্মার্টফোন কেনার পর ভাবছেন পুরনোটি নিয়ে কী করবেন? পুরনো স্মার্টফোনটি ফেলে না রেখে বাড়িতে, অফিসে কিংবা রাস্তায় নানা কাজে লাগাতে পারেন। বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করছেন সবাই। তবে অনেকে সাধ্য না থাকায় উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা কিনতে পারেন না। তারা পুরনো স্মার্টফোনটিকেই এই কাজে লাগাতে পারেন। ওয়্যারলেস রাউটার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কী কী কাজে লাগানো যেতে পারে পুরনো স্মার্টফোনটি-

টিভির মিডিয়া প্লেয়ার

পুরনো মোবাইল ফোনে যদি টিভি-আউট বা এইচডিএমআই আউট ফিচার থাকে তবে আপনি সহজেই মোবাইল ফোনটিকে ফ্ল্যাশভিত্তিক মিডিয়া প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এজন্য আপনার স্মার্টফোনে অধিক তথ্য ধারণ ক্ষমতার (৩২ বা ৬৪ গিগাবাইট) মেমোরি কার্ড থাকতে হবে। এই মেমোরি কার্ডে মুভি ও ভিডিয়ো কপি করে রাখতে পারবেন।

টিভির সঙ্গে মোবাইল হাই ডেফিনেশন লিংক (এমএইচএল) বা এইচডিএমআই কেবল দিয়ে সংযোগ স্থাপন করুন। ফোনটিকে কোনো পাওয়ার আউটলেটে যুক্ত করুন। আপনার প্রিয় মিউজিক ভিডিয়োটি এখন বড় পর্দায় দেখতে পারবেন। আপনার মোবাইল যদি ডিজিটাল লিভিং নেটওয়ার্ক অ্যালায়েন্স (ডিএলএনএ) বা মিরাকাস্ট নামের পিয়ার-টু-পিয়ার ওয়্যারলেস স্ক্রিনকাস্টিং স্ট্যানার্ড সমর্থন করে তবে তারবিহীন উপায়ে মাল্টিমিডিয়া অন্যান্য ডিভাইসে সম্প্রচার করতে পারবেন।

সার্বজনীন রিমোট

পুরনো স্মার্টফোনটি বাসার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী পরিচালনার ভালো একটি কমান্ড সেন্টার হতে পারে। শুরুতেই ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট দিয়ে যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় সব মুছে ফেলতে হবে। এরপর টিভি, মিউজিকসহ অন্য যেসব সামগ্রী নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন সেগুলোর প্রয়োজনীয় অ্যাপসগুলো ডাউনলোড করে নিন। পাওয়ার ভলিয়ম এবং চ্যানেল পরিবর্তনের মতো টিভির কার্যক্রমগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে প্লে স্টোর থেকে ইউনিভার্সাল রিমোট অ্যাপ নামিয়ে নেওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেটফ্লিক্স, হুলো এবং এইচবিও ম্যাক্সের মতো স্ট্রিমিং সার্ভিসের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে যা পুরনো ফোনগুলোয় খুব ভালো কাজ করে।

ওয়্যারলেস রাউটার

আপনার পুরনো স্মার্টফোনটি কি বিল্ট ইন ওয়াই-ফাই হটস্পট? এই ফিচারটি থাকলে আপনি সহজেই পুরনো স্মার্টফোনটিকে পোর্টেবল রাউটার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। থ্রিজি সিমকার্ড দিয়ে এই সুবিধা নিতে পারেন। পকেট ওয়াই-ফাই হিসেবে এই পুরনো স্মার্টফোনটি ব্যবহারের ফলে প্রতিটি ইন্টারনেট সুবিধার পণ্যে আলাদা আলাদা ইন্টারনেট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। নিরাপদ অ্যাকসেস পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজের হটস্পট তৈরি করে নিতে পারেন নিজেই।

ই-রিডার

পুরনো স্মার্টফোনকে ই-রিডার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য প্রথমে এতে থাকা আগের সব অ্যাপ্লিকেশন মুছে ফেলুন। প্রতিটি রিডিং অ্যাপ ডাউনলোড করে নিতে হবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে লাইব্রেরি ডাউনলোড করে নেওয়ার পর আর ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে না। আপনি যেখানেই যান না কেন পকেটের ভেতরেই থাকবে ই-বুক এবং অডিয়ো বুকের বিশাল লাইব্রেরি।

সিকিউরিটি ক্যামেরা

স্মার্টফোনকে ওয়্যারলেস সিকিউরিটি ক্যামেরা হিসেবে রূপান্তর করার বেশ কিছু অ্যাপ্লিকেশন মার্কেটপ্লেসে পাবেন। অ্যান্ড্রয়েডের জন্য আইপি ওয়েবক্যাম, আইওএসের জন্য আইভিজিলো স্মার্টক্যাম কাজে আসতে পারে। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরার সাহায্যে লাইভ ভিডিয়ো স্ট্রিমিং করতে পারে যা অন্য কোনো স্ট্রিমিং সমর্থিত পণ্যের যেকোনো ব্রাউজারে বা ভিডিয়ো প্লেয়ারে দেখা যায়।

এজন্য পুরনো স্মার্টফোনটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে চার্জার প্লাগ ইন করতে হবে। স্ট্রিমিং অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা থাকলে এবং ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকলেই আপনার পুরনো মোবাইল ফোনটি ওয়্যারলেস সিকিউরিটি ক্যামেরার কাজ করবে।

ওয়েবক্যাম

পুরনো স্মার্টফোনটি খুব ভালো ওয়েবক্যাম হয়ে উঠতে পারে। স্মার্টফোনকে ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহার করতে প্রথমে ফোনটিকে কম্পিউটারের সঙ্গে যোগাযোগ করার উপযোগী করে তুলতে হবে। এ কাজের জন্য বিনামূল্যে অনেক অ্যাপ আছে। এসব অ্যাপের যে কোনো একটি বাছাই করে ওয়াইফাই অথবা ক্যাবল ব্যবহারের মাধ্যমে ফোনটিকে কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করে নিতে হবে।

গেমিং ডিভাইস

পুরনো স্মার্টফোনকে শক্তিশালী গেমিং ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। রেট্রো গেম ফাইলগুলো সাধারণত ছোট হয়। তাই পুরনো স্মার্টফোনেও শত শত গেম সংরক্ষণ করে রাখা যায়।

জিপিএস নেভিগেটর

আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল ম্যাপস ও নেভিগেশন বিনামূল্যেই পাবেন। আপনি হয়ত গাড়ি চালানোর সময় এই নেভিগেশন ব্যবহার করেন। এর অর্থ হচ্ছে আপনার পুরনো স্মার্টফোনটি যদি অ্যান্ড্রয়েডচালিত হয় তবে গাড়ির জন্য আলাদা করে জিপিএস নেভিগেটর কেনার দরকার হবে না। আপনাকে পুরনো স্মার্টফোনটি গাড়িতে নেভিগেশন করার জন্য স্থায়ীভাবে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ জন্য জেনেরিক মাইক্রো ইউএসবি ১২ ভোল্ট কার চার্জার দরকার হবে যা মোবাইল ফোনটিকে চার্জ দিতে কাজে লাগবে। কার ড্যাশবোর্ড নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করে নিলে এবং প্রয়োজনমতো কাস্টমাইজ করে নিলে পুরনো স্মার্টফোনটিকে কার নেভিগেটর হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

ওডি/জেআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড