• রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

নতুন হুমকি 'ফল আর্মিওয়ার্ম' : খাদ্য সংকটে বাংলাদেশ?

  মো. শাহীন সরদার ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩০

আর্মিওয়ার্ম
ফল আর্মিওয়ার্ম (ছবি : সংগৃহীত)

ফল আর্মিওয়াম বা গরমের পোকার বৈজ্ঞানিক নাম ((Spodoptera frugiperda)। ফসলের জন্য দুনিয়া জুড়ে বিধ্বংসী পোকা হিসেবে পরিচিত এটি। এটি খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ক্ষেতের পর ক্ষেত। পোকাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকা হয়ে বর্তমানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কর্ণাটক প্রদেশ ও অন্যান্য স্থানে দেখা দিয়েছে। 

সম্প্রতি আমাদের দেশে চুয়াডাঙ্গা জেলায় এ পোকার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফলে আমাদের জন্য নতুন হুমকি ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে 'ফল আর্মিওয়াম'।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, পোকাটির কারণে প্রথমেই ধ্বংসের মুখে পড়বে দেশের ভুট্টা চাষ। এরপর ছড়িয়ে পড়বে ধান-গমসহ বিভিন্ন ফসলে। অল্প সময়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে এই পোকা। ফল আর্মিওয়াম আক্রমণ করলে আমাদের দেশের ভুট্টা, তুলা, আখ, বিট, ধান, বাদাম সহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন প্রায় ৬০-৮০ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, ফল আর্মিওয়ার্ম একটি নিশাচর পোকা, দিনের সময় ময়লা-আবর্জনায় লুকিয়ে থাকে রাতে ফসলে আক্রমণ করে। এটি ১৮৬ প্রজাতির ফসলে আক্রমণ করতে পারে। 

সর্বপ্রথম ২০১৬ সালে নাইজেরিয়াতে, ২ বছরের মধ্যে আফ্রিকা অঞ্চলে ৩৮টি দেশে এর আক্রমণ দেখা যায়। ফলে সেখানে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। একটি পূর্ণাঙ্গ পোকা দশদিন বাঁচলে প্রায় এক হাজারের মতো ডিম দিতে পারে। এরা ফসলের অগ্রভাগে কচি পাতা ও কাণ্ডে আক্রমণ করে। পোকাটি দ্রুত বংশ বিস্তার করতে পারায় সহজেই কীটনাশক সহনশীল হয়ে রোগ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। আমাদের দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও শস্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি হয়। এ পোকার আক্রমণ দেখা দিলে রপ্তানি হুমকির মুখে পড়বে। 

পাতায় সংক্রমণকারী আর্মিওয়ার্ম (ছবি : সংগৃহীত)

পোকাটি থেকে প্রতিকার পেতে কয়েকটি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা, কোথাও দেখা দিলে সাথে সাথে ধ্বংস করে বা এদের ডিম একসাথে থাকা দেখলে সাথে সাথে মেরে ফেলতে হবে। পোকাটি নেপিয়ার ঘাসে বেশি আক্রমণ করে ফলে প্রধান ফসলের সাথে চারপাশে নেপিয়ার ঘাস চাষ করলে ফসলকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। অ্যান্টোমোপ্যাথজেনিক ফাঙ্গাস ব্যবহার করা। ফল আর্মিওয়ামের জীবনচক্রে চারটি ধাপ ডিম, কিড়া, পিউপা ও পূর্ণাঙ্গ মথ। ফসলের ক্ষতি না করে সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে পিউপা ধাপ ধ্বংস করা সম্ভব।

পোকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কীটতত্ত্ব বিভাগ ফল আর্মিওয়ার্মের নমুনা সংগ্রহ করেছে। কীভাবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবর থেকে ফল আর্মিওয়াম নিয়ে গবেষণা কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, পোকাটি আমাদের দেশে নতুন। এর জীবনচক্র সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। আমাদের চুয়াডাঙা, বাকৃবি ও গাইবান্ধায় এর গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর প্রতিকার ও প্রতিরোধ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশাকরি দ্রুত ভালো সমাধান আসবে। 

সমাধানের জন্য তিনি বর্তমানে এ বিষয়গুলোতে নজর দিতে বলেন, প্রথমত গবেষণা জোরদার করতে হবে। সরকারকে সতর্ক হতে হবে, পোকার বিধ্বংসিতা সম্পর্কে কৃষককে ধারণা দিতে হবে এ ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, পোকা চেনাতে হবে। দ্বিতীয়ত পোকা দমনের বিষয়গুলো খুঁজে বের করতে হবে, উপযোগী কীটনাশক খুঁজে বের কতে হবে। এসএনপিভি ভাইরাস দ্বারা পোকা দমন করা যায় এর সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। তৃতীয়ত নতুন সমস্যা যাতে মারাত্মক আকার ধারণ না করতে পারে সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সজাগ থাকতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবাই সতর্ক থাকলে সহজে মোকাবিলা করতে পারব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড