• সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

২০১৮ সালের যে আবিষ্কারগুলো মানবজীবনে আশীর্বাদস্বরূপ

  রাফিদুল হাসান ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৩৩

আবিষ্কার
ছবি : সম্পাদিত

দেখতে দেখতে ২০১৮ সাল শেষ হয়ে ২০১৯ এর যাত্রা শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্তমান যুগ হলো প্রযুক্তির যুগ। প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কার নানাভাবে মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ থেকে সহজতর করে দিচ্ছে। তাই আমরা ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত তেমনি কিছু যুগান্তকারী আবিষ্কার নিয়ে কথা বলব যেগুলো ব্যাপকভাবে পরিচিতি না পেলেও আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ক্যানসার শনাক্তকরণে তরল স্বর্ণ-

সর্বদাই ক্যানসার সনাক্তকরণ একটি দূরহ ব্যাপার। দুঃখজনক হলেও সত্যি এটাই যে মানুষজন সাধারণত ক্যানসার জটিল পর্যায়ে পৌঁছানোর পরে চিকিৎসার জন্যে এসে থাকেন। যার কারণে তখন প্রতিকারের পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। এর একটি প্রধান কারণ হলো সনাক্তকরণ জটিলতা।

এই জটিলতা নিরসনেই কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ক্যানসার সনাক্তকরণের নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে, যার মাধ্যমে ১০ মিনিটেই ক্যানসার সনাক্ত করা সম্ভব। শুনতে অবাক লাগলেও এটিই সত্য যে নতুন আবিষ্কৃত এই পদ্ধতিতে ক্যানসার শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয় তরল স্বর্ণ। তরল স্বর্ণের ন্যানোপার্টিকেল এর সাথে আক্রান্ত ব্যাক্তির ডিএনএ এর সংযুক্তির মাধ্যমে এই পদ্ধতিতে ক্যানসার সনাক্ত করা হয়।

কিন্ত এ পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অল্প সময়ে ক্যানসার আক্রান্ত কি না সেটা সনাক্ত করা সম্ভব হলেও কোন স্থান ক্যানসার আক্রান্ত কিংবা কী ধরণের ক্যানসারে আক্রান্ত সেটার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারে না। তবুও এই সীমাবদ্ধতাগুলো এর গুরত্বকে কোনোভাবেই ছোট করে না।

কোড ফর আমেরিকা-

২০১৬ সালে ক্যালির্ফোনিয়ার আদালত মারিজুয়ানাকে বৈধতা দেয় চিত্তবিনোদনের ক্ষেত্রে ব্যাবহারের জন্যে। কিন্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এটা যে পূর্বে অনেকেই মারিজুয়ানা বহনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল এবং এদের অনেকের রেকর্ডই পুলিশের তালিকায় এখনও অন্তর্ভুক্ত আছে।

মারিজুয়ানা বহনে দোষী সাব্যস্তদের পুলিশি রেকর্ড বিলুপ্ত করার জন্যে এগিয়ে আসে কোড ফর আমেরিকা নামের একটি অলাভজনক সামাজিক সংগঠন। তাদের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কারণে তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ২০১৯ সালের মধ্যে তারা ২ লাখ ৫০ হাজার দোষী সাবস্ত থাকা ব্যাক্তিদের রেকর্ড মুছে ফেলতে সক্ষম হবেন।

আলিয়া-

সাধারণত হাউজ ক্লিনাররা বিভিন্ন জায়াগায় কাজ করে থাকেন। অল্প টাকার বিনিময়ে কাজ করার দরুন অনেক জায়গায় কাজ করা সত্ত্বেও তাদের আয় খুব বেশি হয় না। তারা খুব বেশি লাভবানও হয় না।

মূলত হাউজ ক্লিনারদের সুবিধার জন্যে “আলিয়া” নামক একটি অনলাইন সংস্থা একটি ত্রিমুখি ব্যবস্থা নিয়ে এসেছে। যার এক পক্ষ হাউজ ক্লিনার, আরেক পক্ষ যারা হাউজ ক্লিনারদের নিয়োগ দেন এবং অপর পক্ষ হলো নির্ধারিত ইন্সিওরেন্স কোম্পানী। এর ফলে হাউজ ক্লিনারদের প্রাপ্ত অর্থের একটা জমা হবে ইন্সিওরেন্স হিসেবে এবং হাউজ ক্লিনাররা এর সুফল ভোগ করবেন ডিজএবিলিটি ইনসিওরেন্স, এক্সিডেন্টাল ইন্সিওরেন্স, লাইফ ইন্সিওরেন্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

অ্যালেক্সা ডোনেশন-

“অ্যালেক্সা, আমি ডোনেশন করতে চাই।” শুধুমাত্র এই একটি কথাতেই সামনে চলে আসবে ২২৯টিরও বেশি তালিকাভুক্ত দাতব্য প্রতিষ্ঠান। তারপর আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যালেক্সা নির্ধারণ করবে আপনি কোন প্রতিষ্ঠানকে কী পরিমাণ অনুদান দিতে ইচ্ছুক।

“অ্যালেক্সা” অ্যামাজন উদ্ভাবিত এক নতুন প্রযুক্তি। এর কাজ হচ্ছে দাতার কাছে তার ইচ্ছা অনুযায়ী অনুদানের পরিমাণ নির্দিষ্ট দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নিকট পৌঁছে দেওয়া। এজন্যে নির্দিষ্ট দাতব্য প্রতিষ্ঠানটির অবশ্যই একটি অ্যামাজন পে একাউন্ট থাকতে হবে। পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চার্জ হিসেবে অ্যামাজন পে ২ দশমিক ২ শতাংশ ও অথরাইজড ফী হিসেবে শূন্য দশমিক ৩০ ডলার নিয়ে থাকে। অর্থাৎ ১০ ডলার অনুদানের ক্ষেত্রে সর্বমোট শূন্য দশমিক ৫২ ডলার চার্জ হিসেবে কাটা হয়।

বৃহদাকার থ্রিডি প্রিন্টার-

থ্রিডি প্রিন্টার কোনো নতুন প্রযুক্তি নয়। বেশ কয়েকবছর ধরেই এটি বেশ আলোচিত ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি। থ্রিডি প্রিন্টার এর সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের বস্তুর ত্রিমাত্রিক আকার গঠন করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন যায়গায় থ্রিডি প্রিন্টার এর সাহায্যে নানান ধরনের গৃহস্থলী সামগ্রী, কফি মগ, চামচ এগুলো প্রিন্ট করা হতো। তবে এসকল প্রিন্টার দিয়ে সর্বোচ্চ ১ বর্গমিটার আয়তনের বস্তুই প্রিন্ট করা যেত।

তবে এবছরেই আবিষ্কৃত হয়েছে বৃহদায়তনের থ্রিডি প্রিন্টার। যার মাধ্যমে শুধু ছোটখাটো জিনিসপত্রই নয়। বড় ধরনের শিল্প ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যাবে। এধরনের উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্র দ্বারা বাসাবাড়ির নানান ধরণের আসবাবপত্রও বানানো সম্ভবপর হবে।

কার্বন নিঃসরণহীন প্রাকৃতিক গ্যাস-

বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির বড় একটি উৎস। শুধু তাই নয়। খরচের দিক দিয়ে এটি সবচেয়ে সস্তাও। বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত বিদ্যুতশক্তির ২২ ভাগ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস হতে। আর প্রাকৃতিক গ্যাসের এই দহনের ফলে সৃষ্টি হয় বিপুল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড। অন্যদিকে গ্রিন হাউজ ইফেক্ট এর জন্যে মূলত কার্বন-ডাই-আক্সাইড দায়ী। এজন্যে গবেষকেরা নিরলসভাবে নতুন এক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কার্বনকে উৎপাদনশীল কোনো খাতে ব্যবহারযোগ্য করা যায়। এই প্রযুক্তির সাম্ভাব্য একটি উপায় হলো গ্যাসীয় অবস্থায় থাকা কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে উচ্চ তাপ এ চাপ ব্যাবহার করে তরল কার্বন-ডাই-অক্সাইডে পরিণত করা। এই তরল কার্বন-ডাই-অক্সাইড টারবাইন চালানোর জন্যে ব্যাবহৃত হবে যার দরুন সেখান থেকেও শক্তি আহরণ করা সম্ভবপর হবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মূলত বায়ুমন্ডলে কার্বন নিঃসরণ এর পরিমাণ হ্রাস পাবে।

অ্যালঝিমার সনাক্তকরণে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স-

অ্যালঝিমার মূলত মধ্যবয়স্ক মানুষের মানসিক ক্ষয়মূলক একটি রোগ। এটি থেকে শতভাগ প্রতিকার পাবার কোনো উপায় নেই। তবে আশার একটি দিক হলো দ্রুত সনাক্তকরণে এটিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স প্রযুক্তির মাধ্যমে মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম পরিবর্তনও নির্ণয় করা সম্ভব। যার ফলে ক্ষেত্রিবিশেষে আক্রান্ত হবার ৬ বছর পূর্বেই অ্যালঝিমার নির্ণয় করা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড