• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মার্গারেট হ্যামিলটন : চন্দ্র অভিযানের নেপথ্যে যে নারী

  জুবায়ের আহাম্মেদ

২২ জুলাই ২০১৯, ১৫:৩৪
মার্গারেট হ্যামিলটন
মার্গারেট হ্যামিলটন

চাঁদে প্রথম পা রাখার সৌভাগ্য হয়তো দুজন পুরুষের কাছে রক্ষিত। কিন্তু তাদের এই বিরল মুহূর্ত এনে দিয়েছিলেন অন্য একজন নারী। মার্গারেট হ্যামিলটন নামের সেই নারীর আবিষ্কৃত সফটওয়্যারের কল্যাণে অ্যাপোলো-১১ সফলভাবে চাঁদে অবতরণ সম্পন্ন করলেও তাকে নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি ছিল না কখনোই। সব সময়ই আড়ালে ছিলেন এই নারী। সম্প্রতি চাঁদে অবতরণের ৫০ বছর পূর্তিতে গুগলের পক্ষ থেকে প্রায় ১০৭,০০০ আয়না সজ্জিত করে প্রায় ১ দশমিক ৪ মাইল এলাকা জুড়ে মার্গারেট হ্যামিলটনের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার পর প্রথম বিশ্ববাসীর নজরে আসেন তিনি। 

কে এই মার্গারেট হ্যামিলটন? 

বর্তমান বিশ্বে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তার মূল কারণ বলা চলে মার্গারেট হ্যামিলটনকে। নাসায় কাজ করার সময় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দটা প্রথম তার কারণেই চলে আসে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের মাঝে। 

মার্গারেট প্রায়ই তার মেয়ে লরেনকে অফিসে নিয়ে আসতেন। লরেনের কাজ ছিল তার মায়ের ইন টেস্ট মডেল নিয়ে নিজের মতো করে খেলা। এই কাজ করতে গিয়েই একদিন পুরো সিস্টেম ক্র্যাশ করে বসে ছোট্ট লরেন। সেখান থেকে সিস্টেম আবার চালু করেন মার্গারেট হ্যামিলটন। 

হ্যামিলটনের কাজ ছিল এমন কিছু করা যাতে কোনো মহাকাশ ফ্লাইটের মাঝপথে তার মেয়ের মতো করে সিস্টেম ক্র্যাশ না করেন। এ থেকেই পরবর্তীতে পরিচালিত হয়েছিল চাঁদে মানুষের প্রথম অভিযানের গল্প। 

মার্গারেট এবং অ্যাপোলো ১১

গুগলের বিবৃতি অনুযায়ী, অ্যাপোলো যতই চাঁদের কাছাকাছি যাচ্ছিল এর মডিউলে থাকা কম্পিউটার ততই ওভারলোডেড হচ্ছিল। যা কিনা নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অল্ড্রিনের জন্য ছিল বেশ চিন্তার বিষয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা ছিল মার্গারেট হ্যামিলটনের করা সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট টুলসের প্রতি। 

প্রতিবারই কম্পিউটার ওভারলোডেড হতেই নিজস্ব পদ্ধতিতে সকল ডেটা এবং টাস্ক ক্লিয়ার করার মাধ্যমে লুনার মডিউল এর রানিং সচল রাখে মার্গারেটের তৈরি করা সফটওয়্যার। এতে করে নতুন কমান্ড দেয়ার ক্ষেত্রে নিল আর্মস্ট্রং বা বাজ অল্ড্রিনকে খুব বেশি ঝামেলায় কখনোই জড়াতে হয়নি। 

২০০৯ সালে নিজের লেখা বইতে মার্গারেট তার সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট দল সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেছিলেন, ‘তখনকার দিনের কথা ভাবতে গেলে বলতে হয় আমরা ছিলাম পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ। সফটওয়্যার নিয়ে আমাদের সামনে তখন নেতৃত্ব দেয়া ছাড়া গতি ছিল না।' 

নিজের কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মার্গারেট ছিলেন একেবারেই সাদামাটা। ‘আমাদের সামনে ২য় কোনো রাস্তাই খোলা ছিল না। সেটা আমরা ভালোভাবেই জানতাম। আমাদের নতুন কোনো একটি রাস্তা খুঁজে নিতে হতো এবং আমরা তা করতে সক্ষম হয়েছিলাম।' 

যদিও বর্তমান সময়ে এসে কেবলমাত্র টাস্ককিলিং সফটওয়্যার খুব বেশি আলোড়ন তোলার মতো কিছু নয় কিন্তু মহাকাশ গবেষণা এবং চাঁদের উদ্দেশে প্রথম অভিযানে, সেই সাথে ১৯৬৯ সালের বিবেচনায় মার্গারেট হ্যামিলটনের এই উদ্ভাবন ছিল বিজ্ঞানের এক চরম উন্নতি। যা পরবর্তীতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্মসূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

২০১৬ সালে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, অভিনেতা টম হ্যাঙ্কসের পাশাপাশি মার্গারেট হ্যামিলটনকেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম’ পুরস্কার প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিজ্ঞান এবং মহাকাশ গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরস্কার লাভ করেন বিশ্বের প্রথম সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার খ্যাত এই নারী। 

মার্গারেট হ্যামিলটন পৃথিবী না ছেড়েও মহাকাশ গবেষণায় যে অবদান রেখেছেন কিংবা আজ অবধি তার যে শ্রম এবং নিষ্ঠা এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান তাতে অ্যাপোলো ১১ এর সাফল্যের জন্য তাকে আড়ালের মহানায়ক বললে অত্যুক্তি করা চলে না।

তথ্যসূত্র: দ্য আটলান্টিক

ওডি/এএন   
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড