• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

এবার চাঁদেই হতে পারে বসবাস

  জুবায়ের আহাম্মেদ

১২ মে ২০১৯, ১০:৪৮
জেফ বেজোস
'ব্লু অরিয়ন' মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস (ছবি: সিএনবিসি নিউজ)

চাঁদে সবশেষ কবে পা রেখেছিলো মানুষ? মনে হতে পারে হয়ত অল্প কদিন আগেই। কিন্তু বিষ্ময়কর হলেও সত্য শেষবার মানুষের পা যখন চাঁদের বুকে ছাপ ফেলেছিল তখন সালটা ছিল ১৯৭২। ক্যালেন্ডারের পাতায় যা প্রায় অর্ধশত বছর। তিনদিনের সেই সফর শেষে ফেরার পথে চাঁদের মাটিও পৃথিবীতে এনেছেন তারা। সেই থেকে চাঁদকে নিয়ে বা চাঁদে থাকার প্রশ্নে মানুষের বিরাম নেই। চাঁদ আদৌ মানুষের বসবাসযোগ্য কিনা তা নিয়ে কথা থাকলেও এবার চাঁদে ফের মানুষ পাঠাবার ঘোষণা এসেছে। শুধু যে মানুষ পাঠানো হবে তাইই নয়। শুরু হতে পারে চাঁদে বসবাস।

অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেফ বেজোস সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, ‘এখন চাঁদে ফিরে যাবার সময়। এবং এবার বসবাসের জন্য।’ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি বেজোস অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেও তার আছে অন্য এক পরিচয়। তার অন্য পরিচয় তিনি ব্লু অরিয়ন নামের আলাদা একটি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। ব্লু অরিজিন চায় মানব ইতিহাসের নতুন দিক উন্মোচনের ক্ষেত্রে বড় এক পদক্ষেপ নিতে। সে লক্ষ্যে বেজোসের মূল পরিকল্পনা চাঁদের বুকে তার কোম্পানির মাধ্যমে মানুষ পাঠানো।

ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা বেজোস সম্প্রতি নতুন স্পেসশিপ ‘ব্লু স্পেস ল্যান্ডার’ এর উদ্ভব সম্পর্কে জানাতে গিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেন। এই স্পেসশিপে থাকছে চারটি ল্যান্ডিং প্যাডের ভিতরে বিশাল এক গোলাকার স্পেস ট্যাংক থাকছে যার পুরোটাই শক্তি পাবে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল থেকে। বেজোস বলেন, ‘এটি একটি অসাধারণ মহাকাশযান এবং এটি খুব দ্রুত চাঁদে যাচ্ছে।’ স্পেসশিপ ছাড়াও বেজোস স্পেসশিপের নতুন BE-7 ইঞ্জিন সম্পর্কেও জানিয়েছেন। তরল হাইড্রোজেন কিংবা তরল অক্সিজেন পূর্ণ এই ইঞ্জিন এযাবৎকালের সেরা ইঞ্জিন হতে চলেছে। চাঁদে অবতরনের পরপরই স্পেসক্র্যাফট ব্লু মুন একটি ক্ষুদ্র অংশ চাঁদের বুকে ছেড়ে দিবে। বেজোস সেই ক্ষুদ্র মহাকাশযানের ছবিও প্রকাশ করেন যা মহাকাশচারীদের বাসস্থান হিসেবে কাজ করবে। আর তিনি আশা করেন ২০২৪ সাল নাগাদ এই মহাকাশযান চাঁদের বুকে নিজের ঠাঁই করে নিবে।

নিজেদের মাইলস্টোন স্পেসশিপ ব্লু মুন নিয়ে ২০১৭ সাল থেকেই নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন। গত অক্টোবর মাসেই এই স্পেসশিপ নিয়ে নাসার সাথে চুক্তি করেছে তারা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নাসা ব্লু মুন এর প্রযুক্তিগত এবং তথ্যগত খাতে সাহায্য করবে এবং বিনিময়ে ব্লু অরিয়নকে গুণতে হবে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। আর এর ফলে ব্লু মুনে যুক্ত হবে মাঝারি থেকে বড় আকারের জায়গা ধারণের ক্ষমতা।

এর আগে মার্চে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ২০২৪ সালে চাঁদে পুনারায় মানুষ পাঠানোর ব্যাপারে প্রথম মুখ খুলেন। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন নাসার প্রতি সরাসরি এই মর্মে নির্দেশ জারি করেছে, যেকোন মূল্যে যেন নতুন মিশন সম্পন্ন করা হয়।

যদিও ট্রাম্পের সাথে অ্যামাজন সহ বেশ কিছু ইস্যুতেই বেশ মতবিরোধ চলে আসছে ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সাথে। কিন্তু এবার সরাসরিই বেজোস ট্রাম্পের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

তার মতে ট্রাম্প প্রশাসন এ ব্যাপারে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাংবাদিকদের সরাসরিই বলেছে, ‘আমার কাছে এটি ভাল লেগেছে। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।’ 

তবে জেফ বেজোসের চাঁদ নিয়ে এমন আগ্রহ এবারই প্রথম না। বেজোসের আগ্রহের কেন্দ্র থেকেই ছিল চন্দ্র অভিযান। যেমনটি ছিল তার প্রয়াত প্রফেসর জেরাড ও’নেইলের। প্রিন্সটনের পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক জেরাড ও’নেইল ১৯৯২ সালে পরলোকগমন করেন। জেফ বেজোস হাঁটছেন গুরুর রেখে যাওয়া পথ ধরেই।

তথ্যসূত্র: দ্য ফরচুন

ওডি/এএন 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড