• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

শনির বলয়ের বয়স নির্ণয়ের চেষ্টায় বিজ্ঞানীরা

  জুবায়ের আহাম্মেদ

০৬ মে ২০১৯, ০৯:১৯
শনির বলয়
শনির বলয়ের বয়স নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা (ছবিসূত্র: নাসা)

সৌরজগতের অসীম সব বিষ্ময়ের মাঝে অন্যতম ছিল শনি গ্রহকে কেন্দ্র করে অবস্থান করা গ্যাসীয় বলয়। প্রাচীনকালের ধারণা অনুযায়ী শনির চারপাশে এমন বলয়ের সংখ্যা ছিল ৩ থেকে ৭ টি। এছাড়া প্রাচীন বেশ কিছু জ্যোতিষীদের মতে এসমস্ত বলয়ের সবই কঠিন পদার্থে তৈরি। কিন্তু ১৯৭৭ সালের মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ভয়েজার-২ অভিযান থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, শনির চারপাশে বলয়ের সংখ্যা তিন বা সাতের মাঝে নয় বরং তা কয়েকশ কোটি।

ভয়েজার আরো নিশ্চিত করে, বলয়ের গাধনিক এবং ভৌত উপাদান সবটাই ছিল গ্যাসীয়। এলিয়েনের অস্তিত্বের প্রশ্ন থেকে শুরু করে সৌরজগতের নানাবিধ বিষ্ময়কর তথ্যের উত্থান ছিল এই সমস্ত গ্যাসীয় বলয়কে নিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার ব্যাসের এইসব বলয়ে আছে অগণিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্যাসীয় শীতল মহাজাগতিক কণিকা। মূলত এইসব গ্যাসীয় বলয়ের উপস্থিতি সৌরজগতের অন্য যেকোন গ্রহ থেকে শনিকে একেবারেই আলাদা করে রেখেছে। শনি গ্রহের এইসমস্ত বলয় গ্রহ সংক্রান্ত বিদ্যার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বেশ বড় এক গবেষণা ক্ষেত্র হয়ে আছে। এখন পর্যন্ত শনির চারপাশের বলয়ের উৎপত্তি এবং এর বয়স সম্পর্কে পরিষ্কার কোন ধারণাই বিজ্ঞানীরা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পারেনি।

শনির এই বলয়ের উৎপত্তি কি সূর্যের সাথে সাথেই আজ থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগে? নাকি বিবর্তনের ধারায় সদ্যই জন্ম নিয়েছে?

সাম্প্রতিক সময়ে ১৩ বছরের দীর্ঘ এক গবেষণার পর এই প্রশ্নের উত্তরের একেবারেই কাছাকাছি রয়েছে নাসা। শনি গ্রহ নিয়ে ২০০৪ সালে শুরু হওয়া এক গবেষণা প্রজেক্টের ২০১৭ সাল অবধি পর্যবেক্ষণ শেষে নতুন সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে আছেন নাসার একদল বিজ্ঞানী। ‘ক্যাসিনি মেজারমেন্ট অফ দ্য রিং’স মাস এন্ড ব্রাইটনেস’ তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী শনির চারপাশের বলয়ের বয়স এখন পর্যন্ত বেশ কমই বলা চলে। শনির চারপাশের গ্যাসীয় বলয়ের বয়স মাত্র ১০০ মিলিয়ন বছর কিংবা তারচেয়ে কিছু বেশি। সহজ ভাষায় বলা চলে, পৃথিবীতে তখনো ছিল ডাইনোসরদের বিচরণ। সেই অর্থে মহাবিশ্বের তুলনায় শনির বলয় সমূহ এখনো শিশু।

তবে সব গবেষণার মত বিতর্ক লেগে আছে এই গবেষণার ক্ষেত্রেও। সৌর বিশেষজ্ঞ লুক ডানস এর মতে, ‘শনির বলয়ের বয়স অপেক্ষাকৃত অনেকখানি কম এ সম্পর্কে খুব বেশি বিতর্ক চলে না। কিন্তু এই ব্যাপারে কারো কোন প্রকার সুনিশ্চিত তথ্য প্রমাণ কিংবা তাত্ত্বিক ফলাফল এখন পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ’।

শনির বয়স নির্ণয়ের প্রথম প্রচেষ্টা চালানো হয় ৭০ এর দশকে ভয়েজার ১ এবং ভয়েজার ২ এর মাধ্যমে। সেই সময় প্রথমবারের মত প্রাচীন ধ্যান ধারণার অবসান ঘটে। শনির গ্যাসীয় বলয় ওজনে বেশ হালকা এবং এর ঘনত্ব সৌরজগতের অন্যান্য যেকোন কিছুর তুলনায় আরো অনেকখানি বেশি। যদিও এর ভৌত গঠন এর বয়স সম্পর্কে তখনই কোন সুনিদির্ষ্ট ধারণা আমাদের দিতে পারেনি। যার ফলাফল হিসেবে বিগত দশকে আবার নতুন করে ক্যাসিনির সূত্র অনুযায়ী স্পেসক্রাফট মিশন পরিচালনা করে নাসা।

ক্যাসিনির রিং তত্ত্ব অনুযায়ী, শনির চারপাশে দুই দজন চক্র পূরণের পর প্রথমবারের মত এর বলয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নাসার স্পেসক্র্যাফট। এর ফলে কম্পাস কণিকা অনুযায়ী নিজস্ব হিসেবে শনির গ্যাসীয় বলয়ের মোট ভর নির্দিষ্ট করা সম্ভব হয়।

সম্ভাব্য এই ভর ভয়েজার কর্তৃক পাঠানো ভরের কাছাকাছি হলেও তা অনেকটাই কমে আসছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা মহাকাশে অন্যান্য কিছুর মত দূষিত হয়ে পড়ছে। যার ফলে এর ভর বেশ অনেকটা কমে এসেছে। এমন অবস্থায় নাসার বর্তমান গবেষণা কতটা বিশ্বাস করার মত তার পাশে প্রশ্নবোধক চিহ্নটা আরো একবার জোরালো হয়ে দেখা দিয়েছে মহাকাশ গবেষকদের মাঝে।

তথ্যসূত্র: লাইভসায়েন্স 

ওডি/এএন 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড