• শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

উষ্ণতার স্কেলে চতুর্থ স্থানে বিগত ২০১৮

  জুবায়ের আহাম্মেদ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪৩

উষ্ণতা
উষ্ণতার স্কেলে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে বিগত ২০১৮ (ছবি : সাইটেক ডেইলি ডট কম)

এ যেন শেষ হইয়াও হইলো না শেষ। ২০১৮ সাল গত হয়েছে আজ প্রায় ৪২ দিন। অথচ এখনো বিগত বছর নিয়ে চলছে বিজ্ঞানীদের চুলচেরা বিশ্লেষণ। একের পর এক গবেষণা চালিয়ে বিগত সালের সব হিসেব নিকেশ সমাধানের নিরন্তর চেষ্টা চলছে এখন অবধি। এরই ফলাফলে নাসার পক্ষ থেকে এলো ভিন্ন এক উদ্বেগের খবর। নাসার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৮ সাল ছিল ১৮৮০ সালের পর চতুর্থ উষ্ণতম বছর।

১৮৮০ সালকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপর্যস্ত বছরের অন্যতম বলে গণ্য করা হয়। ২০১৮ সালের বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১৯৫১ থেকে ১৯৮০ সালের গড় তাপমাত্রা থেকেও ১.৫ ডিগ্রি বা ০.৮৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল বলে নিশ্চিত করেছে নাসা এবং নাসার সহযোগী ন্যাশনাল ওশেনিক এন্ড এটমোসফেরিক এডমিনিস্ট্রেশন (নোআ)। নাসার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে ২০১৮ সালের তাপমাত্রা ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের পরপরই অবস্থান করছে। এছাড়া সামষ্টিকভাবে বিগত ৫ বছর উষ্ণতার দিক থেকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি উষ্ণ।

১৮৮০ সালের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াল বেড়ে গিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। জাপান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং নাসাপর প্রকাশিত প্রকাশিত ওয়ার্মিং চার্ট অনুযায়ী বিগত পাঁচ বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত ছিলো।

নাসার গডার্ড ইন্সটিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজ (GISS) এর ডিরেক্টর গাভিন স্মিচ বলেন, "গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ধারারেখা অনুযায়ী ২০১৮ সাল আমাদের জন্য ছিল খুবই উষ্ণ একটি বছর।"

তাপমাত্রা

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ধারারেখা (ছবি : সাইটেক ডেইলি ডট কম)

সাম্প্রতিক এই উষ্ণতার জন্য কারণ হিসেবে জিআইএসএস অনুমিতভাবেই দায়ী করছে পরিবেশে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ এবং মানুষের সৃষ্ট গ্রিন হাউজ গ্যাসের প্রভাব অধিক পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাকে।

অবশ্য পৃথিবীর সব প্রান্তে উষ্ণতা একইসময় একইসাথে বাড়তে দেখা যায় না। নোআ নিশ্চিত করেছে বিগত ২০১৮ সালে আমেরিকার ৪৮ টি অঙ্গরাজ্যের গড় তাপমাত্রা এযাবৎকালের সবচেয়ে উষ্ণ বছরের তালিকায় ১৪তম স্থানে উঠে এসেছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রবণতা এবং এই সংক্রান্ত প্রভাব মেরু অঞ্চলে বেশি। যার কারণে ২০১৮ সালে সমুদ্রপৃষ্ঠের বরফ গলনের প্রবণতা অতীতের চেয়ে অনেকবেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরফ গলার কারণে সাগরের উচ্চতা যেমন বেড়েছে সেই সাথে সারাবিশ্বেই বেড়েছে গ্রীষ্মকালের দৈর্ঘ্য। ওশেনিয়া অঞ্চলে দাবানল প্রবণতাও বেড়েছে অনেকখানি। সেই সাথে বেড়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংখ্যা।

"বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব আমাদের চোখের সামনেই দৃশ্যমান। এবং আমরা তা নিজেরাই অনুভব করতে পারি। উপকূল অঞ্চলে বন্যা প্রবণতা, দাবানল এবং বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন আমাদের জীবনে একেবারেই সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠছে।"এমন মতামত জিআইএসএস ডিরেক্টরের।

নাসা তাদের পরিচালিত জরিপে সারাবিশ্বের ৬৩০০ টি আবহাওয়া স্টেশন, বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ, সাবমেরিন সহ অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়েছে। এবং এর সামষ্টিক ফলাফল ছিল রীতিমতো চমকে দেয়ার মত। শুধুমাত্র ২০১৮ সালে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়েছি ০.১ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা সংখ্যার বিচারে একেবারে ছোট হলেও পৃথিবীর উপর সামগ্রিক প্রভাব বেশ ভয়াবহ।

গবেষণায় উল্লেখিত সবশেষ তথ্য অনু্যায়ী শুধু ২০১৮ সালে তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৪২ ফারেনহাইট।

এখনই এই ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার ব্যাপারে সচেতন না হলে ভবিষ্যতে যে আরো খারাপ সময়ের মাধ্যমে আমাদের দিন অতিবাহিত করতে হবে তা একপ্রকার নিশ্চিত। মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এমনকি বাংলাদেশও রয়েছে এই উষ্ণতা ঝুঁকির তালিকায়। তালিকায় আছে ম্যানহাটন, লসএঞ্জেলস এর মত এলাকাও। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মাঝে আরো একবার ১৮৮০ সালের মত বিপর্যস্ত এক সময়ের কাছাকাছি চলে যাবে আমাদের বর্তমান পৃথিবী।

তথ্যসূত্র: সাইটেক ডেইলি ডট কম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড