• বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

ভয় আর দুশ্চিন্তার নাম গণিত, গবেষকরা বলছেন প্রতিকার সম্ভব

  জুবায়ের আহাম্মেদ ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫২

গণিত
ভয় আর দুশ্চিন্তার নাম যে গণিত, তা থেকে কি প্রতিকার সম্ভব?

ছাত্রজীবনে গণিত বা পরিসংখ্যানের মত বিষয়কে ভয় পায়নি এমন ছাত্রের সংখ্যা নেহায়েত কম না। শতকরা ৮০ ভাগ ছাত্র গণিত কিংবা পরিসংখ্যান কিংবা যেকোন সংখ্যা নির্ভর ব্যাপারে আতঙ্ক বোধ করেন। শুধুমাত্র গণিতে ফেইল করে আত্মহত্যা করা ছাত্রের উদাহরণও আছে প্রচুর। কিন্তু একই ছাত্র অন্য যেকোন বিষয়ে বেশ ভালভাবেই নিজেকে প্রকাশ করতে পারছে। তাহলে গণিতেই কেন এই দুর্দশা? 

এই সমস্যাকে বিশেষজ্ঞরা একেবারেই ফেলে দিচ্ছেন না। একে বলা হচ্ছে “স্ট্যাটিস্টিকস এনক্সাইটি” এবং এ ধরনের সমস্যা আসলেই নিজের অস্তিত্ত্ব বহন করে। তবে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব বলছেন তারা। গবেষণা কার্যক্রম পরিসংখ্যান এবং গণিতে পড়া ছাত্রদের মাঝে দীর্ঘ এক গবেষণা শেষে এমন এক ফলাফল প্রদান করেছেন। 

কেনসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মাইকেল ভিটভিচ বলেন, আমার মানবিক পরিসংখ্যান ক্লাসে আমি এমন এক ছাত্র পেয়েছি যে কিনা দুই থেকে তিনবার একই বিষয়ে ফেইল করেই যাচ্ছে। সে সব বিষয়ই মেজর হিসেবে নিয়েছিল। এবং তার রেজাল্ট ছিল ঈর্ষণীয়। কিন্তু তাকে কেবল এই একটি বিষয়েই পাশ করতে হতো যা সে কোনভাবেই পারছিলো না।” 

ভিটভিচ জানান, সবশেষ প্রচেষ্টায় ছাত্রটি পরীক্ষার রুমেই বেশ কাঁপতে শুরু করে। এবং সে কেবল নিজের প্রশ্নের দিকেই তাকিয়ে সময় পার করছিলো। ভিটভিচ সে সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, “আমি তার কাছে যাই। তাকে বলি খানিক মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আসতে। এবং আশ্বস্ত করি, তাকে সময় দেয়া হবে। সে তাই করলো। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে আমি দেখলাম, সে তখন পর্যন্ত প্রশ্ন হাতে কাঁপছে।।”

যাইহোক, পরে ভিটভিচ নিজের কক্ষে আলাদাভাবে আবারো ছাত্রটির পরীক্ষা নেন এবং সে পাশ করতে সক্ষম হয়। 

এই অবস্থায় ভিটভিচ এবং তার সহকর্মীরা নতুন একটি পদ্ধতির সাহায্য গ্রহণ করেন। তারা নিজস্ব একটি উপায়ে ছাত্রদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চেষ্টা করেন। এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ২২৮ জন ছাত্রের উপর এই চেষ্টা মোটামুটি সফল বলে ধরে নেয়া হয়েছে। 

প্রক্রিয়াটির নাম “নেটওয়ার্ক সায়েন্স”। নেটওয়ার্ক সায়েন্স মূলত কিছু প্রশ্নের সমষ্টি। যা মানুষকে সংখ্যার কাছাকাছি নিয়ে আসবে। ভিটভিচের মতে, “এটি শব্দের পরিবর্তে সংখ্যার মাধ্যমে যোগাযোগ করার একটি মাধ্যম”। মূলত তারা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়ার মাধ্যমে ছাত্রদের আরো কাছে গিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করছেন, সংখ্যা কখনোই আতঙ্কের জায়গা নয়। অনেকগুলো প্রশ্নের মাধ্মে মানসিকভাবে সংখ্যা, ছাত্র এবং শিক্ষকদের মাঝে দূরত্ব কমিয়্ব আনার প্রচেষ্টা হিসেবে এর নামকরণ করা হয় “নেটওয়ার্ক সায়েন্স”। 

আরও পড়ুন: 

ফেসবুকের টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ, অন্য কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে কি?

কত জন মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারে আপনার মস্তিষ্ক?

প্রশ্নগুলো বেশ সাধারণ, যেমন: আপনি কি মনে করেন এর কোন মূল্য আপনার জীবনে নেই? এটি কি একেবারেই সাদামাটা? আপনার কি মনে হয় গণিতের শিক্ষকরা সাধারণ কোন রোবটের মত? 

খেয়াল করলেই দেখা যায়, সাধারণ এইসব প্রশ্নের মাধ্যমে আসলে গবেষকরা সংখ্যা, তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং শিক্ষকদের সাথে ছাত্রদের দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন যদি শিক্ষার্থী তার কাছে যা সত্য তাই ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়। 

ভিটভিচ আশা করেন সাধারণ কিছু প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে কিছুটা শিক্ষকতা থেকে সরে এসে বন্ধু হয়ে থাকলেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে গণিত কিংবা সংখ্যাভিত্তিক ভয় আর জড়তা কাটানো সম্ভব। তবে আপাতত কেবলমাত্র নিজের মনোবিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য কাজ করলেও ভবিষ্যতে ভিটভিচ আশা করেন তিনি সব ছাত্রের জন্য নিজের গবেষণা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবেন।

তথ্যসূত্র: সায়েন্স ডেইলি 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড