• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

এবার শিশু জন্ম নেবে মহাকাশে!

  অধিকার ডেস্ক    ১০ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৪৭

মহাকাশ
মহাকাশে জন্ম নেবে শিশু (ছবি: প্রতীকী)

আর বড় জোর বছর ছয়েক। হিসেব করলে ২০২৪ সাল। এ সময়ের মাঝেই নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে মহাকাশে। অর্থাৎ মহাকাশে জন্ম নিতে যাচ্ছে শিশু! 
মহাকাশে নতুন প্রাণের সঞ্চারের ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্পেস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হবে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে, আর তার পর সেখানেই জন্ম নেবে শিশু। 

৩৬ ঘণ্টার ‘অভিযান’এ পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০৩ কিলোমিটার উপরে জন্ম নেবে শিশু আর সঙ্গে থাকবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল। 

‘স্পেসলাইফ অরিজিন’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে মহাকাশে সন্তান জন্ম দিতে ইচ্ছুক এমন স্বেচ্ছাসেবী খুঁজছেন নেদারল্যান্ডসের এক দল বিজ্ঞানী। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বেচ্ছাসেবীদের পৃথিবীতে দু’জন সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়ার রেকর্ড থাকতে হবে।

মহাকাশে মানবজাতির উপনিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞানীদের শুরু করতে যাওয়া এই অভিযানের নাম, ‘মিশন ক্রেডল’। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন, ‘স্মল স্টেপ ফর আ বেবি’, ‘জায়ান্ট বেবি স্টেপ ফর ম্যানকাইন্ড’।

কীভাবে জন্ম নেবে শিশু? 

এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মহাকর্ষীয় বলের বাইরে রাখা হবে অন্তঃসত্ত্বাকে। এ অভিযানে ২৫ জন অংশগ্রহণকারীকে মহাকাশে নিয়ে যাওয়া হবে। দু’দিনের এই অভিযানে কোনও না কোনও শিশুর যেন জন্ম অবশ্যই হয় তেমনই পরিকল্পনা বিজ্ঞানীদের। অবশ্য এ ক্ষেত্রে ভ্রূণের বয়স সাড়ে আট মাস হলে তবেই হবু মা-কে মহাকাশে পাঠানো হবে, তার আগে নয়।

প্রথমে স্পেস স্টিমুলেটরে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের মেডিক্যাল স্ক্রিনিং করিয়ে নেওয়া হবে। যদি যাত্রাপথে অন্তঃসত্ত্বা কোনোরূপ অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন কী করা হবে, সেই প্রস্তুতিও নেওয়া থাকবে।

কারা যাচ্ছেন এবং কবে নাগাদ শুরু হবে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে বাছাই পর্ব?  

জানা গেছে, মহাকাশে কারা যাচ্ছেন তেমন অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে বাছাই পর্ব শুরু হবে ২০২২ সাল নাগাদ। 

মূলত আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে মা হয়েছেন এরকম মহিলাদের মহাকাশে নিয়ে যাওয়া হবে।

সংস্থার সিইও কেইস মুল্ডার বলেন, ‘‘মহাকাশে শিশু কীভাবে ভূমিষ্ঠ হবে, তা জানতে হবে মানবজাতির স্বার্থেই।” এ বিষয়ে অন্য দেশের মহাকাশ সংস্থাকেও এই প্রকল্পে যোগ দিতে তারা আহ্বান জানিয়েছেন।  

২০২১ সালে মিশন ‘লোটাসে’ একটি ইনকিউবেটর নিয়ে যাওয়া হবে মহাকাশে, সেখানে থাকবে, ‘স্পার্ম ও এগস’। ভ্রুণ গঠন হলেই তা আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মহাকর্ষ থাকবে ইনকিউবেটরে। প্রযুক্তি এমনভাবে তৈরি করা হবে যেন ভ্রূণ ভারহীনতায় না ভোগে।

পরবর্তীতে মহাকাশেই স্বাভাবিক পদ্ধতিতে যুগল যেন সন্তান ধারণ করতে পারে, সেটিও দেখা হবে এ মিশনের মাধ্যমে। ২০২০ সালে ‘সিডস অব লাইফ টিউবস’-এ ‘আর্ক’ অভিযানে সঞ্চিত রাখা হবে মানব দেহের জননকোষ। গবেষণা চলছে এ বিষয়টি নিয়েও।

বিজ্ঞানের এ প্রচেষ্টায় হয়ত মহাকাশে সন্তান জন্ম নেওয়াটাও খুব সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে! 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড