• সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন

ডিপ্রেশন নিয়ে গবেষণা : আবিষ্কার হলো এর সাবটাইপ

  যুলকারনাইন আহমেদ ০১ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:০৫

ডিপ্রেশন
গবেষণায় আবিষ্কার হলো ডিপ্রেশনের সাবটাইপ

ডিপ্রেশন, বর্তমান যুব সমাজের কাছে একেবারেই পরিচিত একটি শব্দ। আসলে পরিচিত শব্দ না বলে বিভীষিকা বললেই বরং বেশি যুতসই শোনায় শব্দটা। ডিপ্রেশন সম্পর্কে অনেক কথাই ভেসে বেড়ায় প্রতিটা মুখ থেকে মুখে। অনেকে একে সাধারণ এক মেন্টাল কন্ডিশন বললেও বস্তুত ডিপ্রেশন একটি মানসিক রোগ। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, সারা বিশ্বে ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০০ মিলিয়নের কাছাকাছি। আর এ সংখ্যা কোনোভাবেই কমছে না বরং প্রতিটা দিন এই সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। তবে সবচেয়ে বড় কথা দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়া এই রোগ নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কোন প্রকার সাফল্যের দেখা পাননি। কিন্তু এন্টি ডিপ্রেসিভ মেডিসিন সাময়িক কার্যকরী হলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো সুফল আজ অবধি পাওয়া যায়নি। এমনকি দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই রোগের আসল কূলকিনারা করতেও ব্যর্থ ছিলেন বিজ্ঞানীরা।  

তবে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা কিছুটা হলেও এই ডিপ্রেশন গেরো কাটাতে পেরেছেন। ওকনাওয়া ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটির “নিউরাল কম্পিটিউশনাল ইউনিট” এর গবেষকরা ডিপ্রেশনের ৩ টি নতুন সাবটাইপ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। 
“সায়েন্টেফিক রিপোর্ট” জার্নালের সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত লেখায় আবিষ্কারক দলটি দাবি করেছে, এই তিনটি সাব টাইপের মাঝে একটি বহুল প্রচলিত সেরাটোনিন ওষুধের মাধ্যমে কোনোভাবেই নিবারণ করা সম্ভব নয়। 

সেরাটোনিন এমন একটি উপাদান যা আমাদের মানসিক অবস্থার নিয়ন্ত্রণ করে, এছাড়া যে কোনো সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ করা, সেইসাথে ঘুম এবং স্মৃতিশক্তির সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত সেরাটোনিন। কিন্তু বাহ্যিক উপায়ে সেরাটোনিনের এইসব ডোজ সবার ক্ষেত্রে সমান ফল প্রদান করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেরোটোনিনের এইসব ডোজ রোগীর দীর্ঘমেয়াদী কিংবা স্থায়ী কোন সমাধান দেয় না। গবেষক কেঞ্জি দয়া বলেন, “আমাদের সবসময়ই এই ধারণা ছিল, ডিপ্রেশনের নিশ্চয়ই রকমফের আছে। এবং তার সাথে ওষুধের কার্যকারিতার প্রভাবও লক্ষণীয়। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা সবাই কোনো সিদ্ধান্তে এর আগে আসতে পারিনি।”

এই গবেষণার জন্য সর্বমোট ১৩৪ জন রোগীর ক্লিনিক্যাল, বায়োলজিকাল এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন নিয়ে কাজ করা করা হয়। এদের মাঝে অর্ধেক ছিলেন যারা ডিপ্রেশনের প্রতিকারের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার শরণাপন্ন হয়েছিলেন। বাকি অর্ধেক মানুষ এ ব্যাপারে কোন রকম ডাক্তারি সাহায্য নেননি। প্রতিটি রোগীর কাছ থেকেই গবেষকদল আলাদাভাবে রক্ত পরীক্ষা নেন এবং একটি করে প্রশ্নোত্তর সেশন ছিল। তাদেরকে তাদের ঘুম, অবসাদ এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাবতীয় প্রশ্ন করা হয়। 

এছাড়া প্রতিটি রোগীরই আলাদাভাবে ব্রেইনের এমআরআই করা হয়। এবং এতে করে বিজ্ঞানীরা ডিপ্রেশনের বিভিন্ন স্তরে গিয়ে মস্তিষ্কের প্রায় ৭৮ ভাগ অংশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান। নিজেদের এই কার্যক্রম নিয়ে প্রফেসর দয়া বলেন “ডিপ্রেশনের রোগীদের জীবন এবং এমআরআই নিয়ে গবেষণা পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই প্রথম।” 

পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় তিন হাজারের উপর তথ্য ছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কি তখনও মানসিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি যাচ্ছেনা। বিজ্ঞানীদের পক্ষে এত বিপুল তথ্য একেবারে সুবিন্যস্ত উপায়ে ঠিক করা নিয়ে ব্যাপক সমস্যার মধ্য দিতে যেতে হয়েছে। গবেষণা দলের পরিসংখ্যানবিদ এবং গবেষণা পত্রের প্রধান লেখক তোমোকি তাকুদা বলেন “সবচে বড় সমস্যা ছিল এই বিপুল তথ্যের জন্য সঠিক একটা পরিসংখ্যানগত মানদণ্ড তুলে ধরা। যার মাধ্যমে আমরা একই রকম বিভিন্ন সমস্যা একসাথে করে কাজ করতে পারি।”

ডিপ্রেশনের তিনিটি সাবটাইপ মূলত দুটি প্রধান বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আলাদা করা হয়েছে। মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শৈশবে ঘটে যাওয়া কোনো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, মস্তিষ্ককের বিভিন্ন অংশের অভ্যন্তরীণ সংযোগের মাঝে ভাষা, সংখ্যা, মনোযোগ ও আগ্রহ, বিভিন্ন বিষয়ে চেতনা ইতাদি সেরাটোনিনের কার্যকারিতার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। 

সেরাতোনিন মূলত মস্তিষ্কের আন্তঃসংযোহ সম্পর্কিত ডিপ্রেশনে অধিক কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। যারা শৈশবে কোন দুঃসহ অভিজ্ঞতার ফলে ডিপ্রেশনে আছেন তাদের ক্ষেত্রেও মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সংযোগে সমস্যা দেখা দিলে সেরাটোনিন উপকার দিতে সক্ষম। কিন্তু যাদের মাঝে কেবল অতীত অভিজ্ঞতাই ডিপ্রেশনের একমাত্র কারণ তাদের ক্ষেত্রে সেরাটোনিনের কোন প্রভাব বিজ্ঞানীরা খুঁজে পাননি। 

তবে এই গবেষণায় কেবল যে সাবটাইপ আবিষ্কার হয়েছে তাই নয়। একইসাথে প্রফেসর দয়া এবং তার দল আরো কিছু ফ্যাক্টর আবিষ্কার করেছেন যার মাধ্যমে ডিপ্রেশনের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। বিজ্ঞানী দয়া বাকি কাজের জন্য অবশ্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের উপরই বেশি নির্ভর করছেন।

তথ্যসূত্র: সায়েন্স ডেইলি 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড