• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চলে যাবার পরও কোটি ভালোবাসায় সিক্ত স্টিভ জবস

তোমার ভেতরের স্বপ্নটাকে অনুসরণ করো,কখনো ঠকবে না- স্টিভ জবস

পৃথিবীতে টমাস আলভা এডিসনের পর যে মানুষটি সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রতিদিনের জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন তিনি স্টিভ জবস। ম্যাক, আইফোন ও আইপডের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিস্ময়ের উদ্ভাবন করেছেন তিনি। কম্পিউটারকে সহজ ব্যবহারবান্ধব করাসহ এক হাজারেরও বেশি পণ্যের উদ্ভাবন রযেছে তাঁর।

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই উদ্ভাবক ডিজাইনার স্টিভ জবসের প্রয়াণ দিবস ৫ অক্টোবর। অ্যাপলের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা ২০১১ সালে এই দিনে ৫৬ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলতোয় মারা যান।

জবস ছিলেন অসম্ভব মেধাবী সৃজনশীল উদ্যোক্তা। তাঁর নেশা ছিল ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি), অ্যানিমেটেড মুভিস, গান, ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার এবং ডিজিটাল প্রকাশনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন করা।

জবস আরেক কারণে হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে থাকবেন। সেটি তার একটি অসামান্য বক্তৃতার জন্য। ২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ১০ মিনিট ধরে এক বক্তৃতা দেন । পৃথিবীজুড়ে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এ বক্তৃতাটি আজও সবাইকে অণুপ্রেরণা যোগায়।

স্টিভ জবসের জন্ম ১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রানসিস্কো। তাঁর মা জনা চিবলে আমেরিকান ও বাবা আবদুল ফাত্তাহ জান্দালি ছিলেন সিরিয়ান বংশোদ্ভূত।

জবসের শৈশব ও কৈশোর অনেকটাই কেটেছে হতাশার মধ্যে। তিনি ছাত্র হিসেবে খুব ভালো ছিলেন না। দত্তক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। তবে এ নিয়ে তাঁর কোনো আফসোস ছিল না। সব কিছুকেই তিনি ইতিবাচকভাবে দেখতেন।

পিতামাতার গ্যারেজ থেকে তিনি বন্ধু স্টিভ ওজনিয়াককে সঙ্গে নিয়ে প্রটোটাইপ (নমুনা) কম্পিউটার নিয়ে শুরু করেছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেন কম্পিউটার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। ম্যাক, আইফোন ও আইপড-এর মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিস্ময়কর আবিষ্কার দিয়ে তিনি মানুষের জীবন যাত্রাকে পাল্টে দিয়েছেন। ১৯৭৬ বন্ধু স্টিভ ওজনিয়াককে নিয়ে জবস প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাপল।

অ্যাপল প্রতিষ্ঠার দশ বছর পর সাফল্যের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় জবসকে নিজ কোম্পানি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর পরের কয় বছর অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ সময়। ১৯৯৬ সালে পুনরায় অ্যাপলে ফিরিয়ে আনা হয় তাঁকে।

জবস ২০০৩ সালে জটিল প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের চিকিৎসা করান। ওই সময় তাঁর অস্ত্রোপচারও করা হয়। কিন্তু তিন বছরের মধ্যেই আবার টিউমার হয় এবং ২০০৯ সালে তাঁর যকৃত প্রতিস্থাপন করতে হয়। মৃত্যুর মাত্র দুই মাস আগে নিজের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

তাঁর জীবনের এই সফলতার গল্প ছিলো অনুপ্রেরণার। তাঁর জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য উক্তি হল-

১.সৃজনশীলতা হলো একটা কিছুর সাথে অন্য কিছুর সংযোগ দেওয়ার সক্ষমতা। আপনি যদি সৃজনশীল কাউকে জিজ্ঞাসা করেন কীভাবে তারা কোনো কাজ করে, তাহলে তারা নিজেকে কিছুটা অপরাধী মনে করে। কারণ প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরা সেটি করেনি, তারা কেবলমাত্র সেটি গভীরভাবে দেখেছে। আর কিছু সময় পর সেই কাজটি করা তাদের জন্য অবধারিত হয়ে গেছে।

২. একটি নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী গোষ্ঠীকে ফোকাস করে পণ্যের ডিজাইন করা সত্যিই কঠিন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না তারা কী চান যতক্ষণ না তাদের সামনে একটি পণ্য হাজির করা হয়।

৩. আপনাকেও পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে, এমন চিন্তাই কেবল পারে কোনো কিছু হারানোর দুশ্চিন্তা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে বলে আমার কাছে মনে হয়।

৪. আপনার জীবনের একটি বড় অংশ জুড়েই থাকবে আপনার কর্ম এবং যে কাজটি নিজের কাছে সেরা বলে মনে হয়, সেই কাজটি করতে পারাই হলো আত্মতুষ্টির একমাত্র উপায়।

৫. গোরস্থানে সবচেয়ে ধনী হয়ে থাকার ব্যাপারটি আমার কাছে তেমন কিছুই মনে হয় না...রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় এটা ভেবে ঘুমানো উচিত যে আমরা দারুণ কিছু করতে পেরেছি...এটাই আমার কাছে বড় ব্যাপার।

৬. অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার ঘটনা ছিল আমার জীবনে ঘটে যাওয়া শ্রেষ্ঠ ঘটনা। আমার জীবনের সেরা একটি সময়ে প্রবেশের পথ করে দিয়েছিল এই ঘটনাটি।

৭. অনেক কিছু করার জন্য যেমন আমি গর্বিত, তেমনি অনেক কিছু না করার জন্যও আমি গর্বিত। উদ্ভাবন মানেই হলো হাজারটা জিনিসকে 'না' বলা।

৮. আমি মনে করি, আপনি যদি কোনো কাজ করেন এবং সেটি যদি সত্যিই ভালো কিছু হয়, তাহলে আপনার উচিত হবে আরও দারুণ কিছু করার জন্য কাজ শুরু করে দেওয়া। আগেরটি নিয়ে পড়ে থাকার দরকার নেই। শুধু ভাবুন যে এরপর কী করা যায়।

৯. আমার বয়স যখন ১৭ বছর, তখন আমি একটি লেখা পড়েছিলাম যাতে ছিল, "আপনি যদি প্রতিটি দিনকেই জীবনের শেষ দিন মনে করেন, তাহলে আপনি একদিন সত্যি সত্যিই নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে পারবেন।" এই কথাটি আমার মনে দাগ কেটেছিল।

আর এরপর থেকেই গত ৩৩ বছর ধরে প্রতি সকালে আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতাম, আজই যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে কি আমি সেই কাজগুলোই করতাম যেগুলো আমি আজ করতে চেয়েছি? নিজেকে করার এই প্রশ্নের জবাবে যদি একটানা কয়েকদিন 'না' উত্তর শুনতাম, তাহলেই ধরে নিতাম যে কিছু ব্যাপার পরিবর্তনের সময় এসেছে।

১০. আমি এটা ভেবেই সন্তুষ্ট যে সফল উদ্যোক্তাদের ব্যর্থ উদ্যোক্তাদের থেকে যা আলাদা করেছে, তার অর্ধেকই হলো অধ্যবসায়।

১১.তুমি যাই কিছু করো না কেন, বিশ্বাস রেখো সবসময় নিজের ওপর। একদিন তারায় তারায় রটিয়ে দেবে তোমার গল্প, এই অসম্ভব দৃঢ় বিশ্বাসটাই দেখবে বদলে দেবে জীবন চিরদিনের জন্য!

১২.তোমার ভেতরের স্বপ্নটাকে অনুসরণ করে কখনো ঠকবে না। সে কীভাবে যেন সব সময় আগে থেকেই জানে আমাদের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভাল! সেই তোমাকে পথ দেখাবে অন্ধকারে। উড়িয়ে দেবে বিজয়ের নিশান।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড