• শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬  |   ১৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আখেরি চাহার শোম্বা নিয়ে কিছু কথা

  মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী

২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৫৬
আরব
ছবি : প্রতীকী

আখেরি চাহার শোম্বা অর্থ শেষ বুধবার। আখেরি চাহার শোম্বা বলে সফর মাসের শেষ বুধবারকে বোঝানো হয়। কিছু অনির্ভরযোগ্য গ্রন্থে এ দিনটির কিছু ফজিলতের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে যার কোনোই ভিত্তি নেই। এসব গ্রন্থে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের শেষ দিকে একবার এক ইহুদির জাদুর কারণে ভীষণ অসুস্থ হন এবং এই দিনে একটু সুস্থতা বোধ করেন, গোসল করেন ও মসজিদে জামায়াতে শরিক হন। খুশি হয়ে হজরত উসমান (রা.) তাঁর নিজ খামারের ৭০টি উট জবাই করে গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। খুশিতে আত্মহারা সাহাবিগণ রোজা রেখে ও  নফল নামাজ আদায় করে আনন্দ প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় করেছিলেন। সুতরাং এটা মুসলমানদের খুশির দিন এবং তা উদযাপনের একটি দিবস। 

তাই অনেকেই সফর মাসের আখেরি চাহার শোম্বা বা শেষ বুধবারকে শুকরিয়া দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। কিন্তু পবিত্র কুরআন, হাদিসের আলোকে এগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন। যেমন ভিত্তিহীন ওপরে উল্লিখিত ঘটনা। এর কয়েকটি কারণ আছে :

১. রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এক ইহুদি জাদু করেছিল। এটা ছিল হুদাইবিয়ার সন্ধির পরে সপ্তম হিজরির মহররম মাসের প্রথম দিকের ঘটনা। এই জাদুর প্রভাব কত দিন ছিল, সে সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এক বর্ণনায় ছয় মাসের কথা এসেছে, অন্য বর্ণনায় এসেছে ৪০ দিনের কথা। তবে যাই হোক, সুস্থতার তারিখ কোনোভাবেই ১১ হিজরির সফর মাসের আখেরি চাহার শোম্বা বা শেষ বুধবার হতে পারে না।

২. এ তথ্যও সঠিক নয় যে, বুধবারের পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর গোসল করেননি। কেননা এরপর এক রাতে (৭ বা ৮ রবিউল আওয়াল) ইশার নামাজের আগে গোসল করার কথা সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। আর এ কথাও ঠিক নয় যে, বুধবারের পর সুস্থতায় কোনোরূপ উন্নতি হয়নি। বরং এরপর আরেক দিন সুস্থতাবোধ করেছিলেন এবং জোহরের নামাজে শরিক হয়েছিলেন। এমনকি সোমবার সকালেও সুস্থতাবোধ করেছিলেন। যার কারণে হজরত আবু বকর (রা.) অনুমতি নিয়ে নিজ ঘরে চলে গিয়েছিলেন।

৩. রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুস্থতার কারণে খুশি হওয়া কিংবা তাঁর সুস্থতার সংবাদ পড়ে আনন্দিত হওয়া প্রত্যেক মুমিনের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এ কথা দাবি করা প্রমাণিত নয় যে, সাহাবায়ে কেরাম কিংবা পরবর্তী যুগের মনীষীরা সে খুশি প্রকাশের জন্য উপরোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন কিংবা একে উদযাপনের দিবস ঘোষণা করেছেন। এ দাবির সপক্ষে দুর্বলতম কোনো দলিলও বিদ্যমান নেই।

৪. রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অনেক মুসিবত এসেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে নাজাত দিয়েছেন। তায়েফ ও উহুদে আহত হয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সুস্থ করেছেন। একবার ঘোড়া থেকে পড়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছেন, যার কারণে মসজিদে যেতে পারেননি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুস্থ করেছেন। তাঁর সুস্থতা লাভের এই সব আনন্দের স্মৃতিগুলোতে কি দিবস উদযাপনের কোনো নিয়ম আছে? তাহলে আখেরি চাহার শোম্বা যার কোনো ভিত্তি নেই, তা কীভাবে উদযাপনের বিষয় হতে পারে?

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা দান করুন এবং সব ধরনের রসম-রেওয়াজ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

লেখক, প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক। 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড