• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জিন জাতি সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য [১ম পর্ব]

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৫৭
জিন
ছবি : প্রতীকী

প্রাচীনকাল থেকেই জিন জাতি সম্পর্কে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মাঝে নানা রকম মিথ প্রচলিত আছে। বিজ্ঞান এখনও জিনের অস্তিত্বের প্রমাণ আবিষ্কারে সক্ষম হয়নি। হতে পারে জিন জাতি এমন কোন সূক্ষাতি সুক্ষ তরঙ্গ, যাদেরকে কোন যন্ত্রপাতি দ্বারা দেখা সম্ভব না, অনেক তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যেমন অবলোহিত, মাইক্রো ওয়েভ, X-Ray, গামা রশ্মি আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। আরবি জিন (جن) শব্দের অর্থও এমন কোন কিছু যা গুপ্ত, অদৃশ্য, অন্তরালে বসবাসকারী। 

ইসলামি বিশ্বাস মতে, জিন জাতি মানুষের ন্যায় আল্লাহর সৃষ্ট আরেকটি জাতি, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে মানুষকে পাঠানোর পূর্ব পাঠিয়েছিলেন এবং এখনও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। সাধারণত মানুষের চোখে তারা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। কিন্তু, তারা মানুষদেরকে দেখতে পায়। তাদের মধ্যেও মুসলিম এবং কাফির, নেককার এবং বদকার উভয়প্রকারই রয়েছে। মুহাম্মাদ (সা.) জিন ও মানব উভয়জাতির নবি হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। সুলাইমান (আ.) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে। আর ‘ইবলিস’ তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জিন জাতির একজন ছিল। 

জিনদের সৃষ্টি উপাদান

জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে ধোঁয়াবিহীন আগুন হতে। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তিনি জিনকে সৃষ্টি করেছেন আগুনের শিখা দিয়ে।’ [সুরা আর-রহমান : ১৫]। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আমি এর আগে জিনকে সৃষ্টি করেছি প্রখর আগুন দিয়ে।’ [সুরা আল-হিজর : ২৭]  

আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ফেরেশতারা নুর থেকে তৈরি, জিনেরা আগুনের স্ফুলিংগ থেকে, আর আদমকে যেভাবে (মাটি থেকে) সৃষ্টি করা হয়েছে তার বর্ণনা তো পবিত্র কুরআনে রয়েছেই।’ [মুসলিম, আসসাহিহ : ৭১৩৪] 

জিনদের প্রকারভেদ

লিঙ্গ হিসেবে জিন জাতি মানুষের মত নারী ও পুরুষ, ঈমানের দিক থেকে মুমিন ও কাফির, আমলের দিক থেকে নেককার ও বদকার হয়ে থাকে। কাফির ও বদকার জিনের মধ্যে চারপ্রকারের নাম কুরআন-হাদিসে এসেছে— ১. ইবলিস : এই জিন আদমকে সিজদা করতে অস্বীকার করে জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল। জান্নাতে থাকাকালে আদমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচিত করেছিল এবং পৃথিবীতেও সে মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে। ২. খানজাব : এই জিন নামাজরত মানুষের মনে নানারকম চিন্তা ঢুকিয়ে নামাজ থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন করে তুলে। ৩. ওলহান : এরা হচ্ছে একপ্রকার শয়তান জিন, যারা মানুষকে ওযুর সময় ওয়াসওয়াসা দেয়। ৪. কারিন : কারিন অর্থ সঙ্গী। প্রত্যেক মানুষের সাথেই এই প্রকার জিন লেগে থাকে, সঙ্গী হিসেবে। এরা সবসময় বান্দার অন্তরে খারাপ চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়ে পাপ কাজ করতে উৎসাহিত করে।

গঠন অনুযায়ী জিন তিন প্রকার হয়ে থাকে। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ধরনের জিন আছে—এক প্রকারের জিন পাখার মাধ্যমে বাতাসে ওড়ে, এক প্রকারের জিন সাপ এবং মাকড়শার আকারে থাকে, শেষ প্রকারের জিনরা সাধারণভাবে থাকে এবং চলাচল করে।’ [হাকিম, আলমুসতাদরাক : ৩৭০২] 

জিনদের বাসস্থান

গহীন জঙ্গলে, গভীর সমুদ্রে বা মানুষের পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে জিনরা থাকতে পছন্দ করে। তবে কিছু জিন লোকালয়ে থাকে, যা আমরা আগেও উল্লেখ করেছি। হাদিস থেকে জানা যায়, জিনরা নোংরা ও গন্ধময় জায়গায় থাকতে পছন্দ করে, যেখানে মানুষেরা ময়লা এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ ফেলে রাখে। টয়লেট এবং প্রস্রাবের জায়গাগুলো জিনদের অবাধ বিচরণ কেন্দ্র। তাই এসব জায়গায় প্রবেশের পূর্বে দুয়া পড়তে হয়, দুষ্টু জিন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হয়। দুয়াটি হলো : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবায়িস। অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর কাছে পুরুষ এবং মহিলা জিন-শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’

জিনদের খাবার-দাবার

মানুষের মতো জিন জাতিও খাবার গ্রহণ করে। মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার জিনদের জন্য আল্লাহর রহমতে নতুন খাবার হয়ে যায়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হাড় এবং গোবর জিনদের খাবার। জিনদের একটি দল আমার সাথে দেখা করতে আসে। কত বিনয়ী ছিল তারা। তারা আমার কাছে মানুষের খাবারের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে জানতে চায়। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন তারা এমন কোন হাড় কিংবা গোবর অতিক্রম না করে, যা তাঁদের জন্য খাবার না হয়ে যাবে।’ [বুখারি, আসসাহিহ : ৩৫৭১] 

চলবে ইনশাআল্লাহ।

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড