• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার অসাধারণ কিছু দুয়া

  ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:২২
তাওবা
ছবি : প্রতীকী

ইস্তিগফার মানে হলো আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারেরও অধিক ইস্তিগফার করি (আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) এবং তাওবাহ করি।' [বুখারি, ৫/২৩২৪] 

ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) যে কোন উপযুক্ত শব্দেই করা যায়। ‘ইয়া আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন’ বলে দুয়া করলেও হবে। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে বাক্যে ইস্তিগফার করেছেন, সে বাক্যে ইস্তিগফার করাটা নিঃসন্দেহে উত্তম। 

নিম্নে হাদিসে বর্ণিত কিছু ইস্তিগফার দেয়া হলো। চাইলেই আমরা দুয়াগুলো মুখস্থ করে নিতে পারি।

১. ﺃﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ (আস্তাগফিরুল্লাহ) অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২২৪০৮] 

২. ﺃﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ ﺍﻟﻌَﻈِﻴﻢَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﺇﻟَﻪَ ﺇﻻَّ ﻫُﻮَ، ﺍﻟﺤَﻲُّ ﺍﻟﻘَﻴُّﻮﻡُ، ﻭَﺃﺗُﻮﺏُ ﺇﻟَﻴﻪِ (আসতাগফিরুল্লাহাল আযীম, আল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ূম ওয়া আতূবু ইলাইহি) অর্থাৎ ‘আমি সে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী। আমি তাঁর কাছেই তাওবা করছি।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এই দুয়া পাঠ করবে, সে জিহাদের ময়দান হতে পলায়ন করে থাকলেও তাকে ক্ষমা করা হবে।’ [আবু দাউদ : ১৫১৭] 

৩. ﺭَﺏِّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﺗُﺐْ ﻋَﻠَﻰَّ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺏُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ (রব্বিগফিরলী ওয়াতুব ‘আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত্ তাওয়াবুর রহীম) অর্থাৎ ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন। আমার তাওবা গ্রহণ করুন। নিশ্চয় আপনি তাওবা গ্রহণকারী, অতি দয়ালু।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে অবস্থানকালে একই বৈঠকে একশো বার এ দুয়া পাঠ করেছেন এবং একজন সাহাবি তা গণনা করেছেন। [আবু দাউদ : ১৫১৬] 

৪. ﺃﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﺗﻮﺏ ﺇﻟﻴﻪ (আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি) অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর কাছে তাওবা করছি।’ আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘আমি নবিজির চাইতে কাউকে অধিক এই ইস্তিগফার পাঠ করতে শুনি নি।’ [নাসায়ি কুবরা : ১০২১৫] 

৫. ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﺑِﺤَﻤْﺪِﻩِ ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺃَﺗُﻮﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, আসতাগফিরুল্লাহি ওয়া আতুবু ইলাইহি) অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর কাছে তাওবা করছি।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) খুব বেশি এই দুয়া পড়তেন। এমনকি তিনি ইন্তিকালের আগেও এই দুয়াটা অনেকবার করেছেন। [সহিহ মুসলিম : ৪৮৪] 

সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইস্তিগফার হলো ‘সাইয়িদুল ইস্তিগফার’

৬. اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা আনতা রববী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা সানা‘তু। আবূউলাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হতে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দুয়া পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতি হবে’। [সহিহ বুখারি : ৬৩০৬]

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড