• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মহাকালের শপথ [পর্ব-০৫]

যেভাবে আপনার সমস্ত কাজকে ইবাদতে পরিণত করবেন

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:০৭
Islam_odhikar
ছবি : প্রতীকী

আমলে সালেহ বা সৎকর্ম ঈমানেরই অপরিহার্য অংশ। আমল ছাড়া ঈমান মূল্যহীন। সুরা নুরের ৫৫ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা জমিনের খেলাফত লাভের পূর্বশর্ত হিসেবে ঈমানের পাশাপাশি আল-আমালুস সালেহ বা সৎকর্মের উল্লেখ করেছেন। আমাদের আলোচ্য সুরা আল-আসরেও মহাক্ষতি থেকে বিশ্বমানবতার মুক্তির কর্মসূচি হিসেবে ঈমানের পরই আমলের কথা এসেছে। আসলে মুমিনজীবনের প্রতিটি কর্মই আমলে সালেহ, যদি সেটা দুটি শর্ত মোতাবেক হয়—১. বিশুদ্ধ নিয়ত ও ২. সুন্নাহর অনুসরণ। যদি আমাদের প্রতিটি কাজ-কর্ম শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে হয়, আর কাজটা নবিজির সুন্নাহ অনুযায়ী হয়, তাহলে আমাদের প্রতিটি কাজই হবে আমলে সালেহ। তাসবিহ, তাহলিল, তাহমিদ এসব যেমন সাওয়াবের কাজ, আমলে সালেহ, ঠিক তেমনি লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক ও মানবিক যেকোন কাজ, এমনকি হালাল উপায়ে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়াটা কিংবা স্ত্রীর মুখে পরম ভালোবাসায় খাবার তুলে দেয়াটাও আমলে সালেহ।  

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 

‘নিঃসন্দেহে প্রত্যেক তাসবিহ সাদাকাহ, প্রত্যেক তাকবির সাদাকাহ, প্রত্যেক তাহলিল সাদাকাহ, ভালো কাজের নির্দেশ দেওয়া সাদাকাহ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদাকাহ এবং তোমরা যে স্ত্রীদের সাথে মিলিত হও এটাও সাদাকাহ।’ সাহাবিগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ স্ত্রী-মিলন করে নিজের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে, এতেও কি তার পুণ্য হবে?’ তিনি বললেন, ‘তোমরা কী মনে করো, যদি কেউ অবৈধভাবে যৌন-মিলন করে, তাহলে কি তার পাপ হবে না? (নিশ্চয় হবে।) তাহলে সে যে বৈধভাবে (স্ত্রী-মিলন করে) নিজের কামক্ষুধা নিবারণ করে, তাহলে তাতে পুণ্য হবে না কেন? [মুসলিম, আসসাহিহ : ১০০৬; আহমাদ, আলমুসনাদ : ২০৯১৭]

খান থেকে আমলে সালেহের ব্যাপারে আমাদের সমাজে যে ভুল ধারণা আছে, তার অপনোদন হয়ে যায়। সমাজ মনে করে, শুধু নামায-রোযা, হজ-যাকাত এসবই আমলে সালেহ। নি:সন্দেহে এগুলো আমলে সালেহ, এগুলো বিশেষ বিশেষ আমল, কিন্তু শুধুমাত্র এগুলোই আমলে সালেহ নয়। মানবজীবনের প্রতিটি কাজই আমলে সালেহ হতে পারে, হোক সেটা পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক কিংবা আন্তর্জাতিক, হতে পারে সেটা ছুটির দিনে স্ত্রীর সাথে ঘুরতে যাওয়া, হতে পারে সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনা। শর্ত হলো, কাজটা হতে হবে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আর শ্রেষ্ঠমানব মুহাম্মাদ (সা.)’র আদর্শ মোতাবেক। 

বোঝার সুবিধার্থে আলিমগণ আমলে সালেহকে তিনভাগে ভাগ করেছেন, ১. অন্তরের আমল, ২. মৌখিক আমল এবং ৩. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল। এই তিন প্রকার আবার পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা এখানে সংক্ষেপে এগুলোর একটা লিস্ট উপস্থাপন করছি মাত্র। এগুলো নিয়েও ব্যাপক অধ্যয়ন প্রয়োজন। 

চলবে ইনশাআল্লাহ। 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড