• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জুমার দিনের স্পেশাল রুটিন

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

০৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩৪
Juma_odhikar
ছবি : সংগৃহীত

শুক্রবার অনেকেরই ছুটির দিন। ছুটির দিন মানেই অনেকের ঘুমের দিন। কিন্তু আপনি কি জানেন, মানুষ জান্নাতে গিয়েও আফসোস করবে তার হেলায় কাটানো এ অবসর সময়গুলোর জন্য। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘২টি নিয়ামত এমন রয়েছে, যার ব্যাপারে মানুষ সবচেয়ে বেশি উদাসীনতা প্রদর্শন করে। প্রথমটি হলো সুস্থতা, অপরটি হলো অবসর সময়।’ আমরা যদি একটু সচেতন হই, তাহলে এ অবসর সময়গুলোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে ফেলতে পারি। আজকে জুময়ার দিনের এমনই কিছু কাজের কথা বলব ইনশাআল্লাহ। 

১. রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ুন : বৃহস্পতিবার রাতে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন। তাহলে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা সহজ হবে। 

২. তাহাজ্জুদ দিয়ে দিন শুরু করুন : তাহাজ্জুদ হলো বান্দা এবং রবের মাঝে একান্ত আলাপনের সময়। ঘনিষ্টতার মূহুর্ত। তাহাজ্জুদ মুমিনজীবনের সফলতার গোপনসূত্র। কিন্তু ব্যস্ত কর্মজীবনে হয়তো সুযোগ হয়ে ওঠে না আল্লাহর সাথে একটু একান্তে, একটু নির্জনে সময় দেয়ার। কিন্তু শুক্রবার দিনটা আমরা চাইলেই তাহাজ্জুদ দিয়ে শুরু করতে পারি। 

৩. ফজরের সালাত : জামায়াতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করুন। ফজরের সালাত আপনাকে সারাটি দিন রাখবে আল্লাহর রহমতের ছায়ায়। 

৪. কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার : ফজরের পর সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত মাসনুন তাসবিহ, তাহলিলগুলো আদায় করুন। অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত করুন। সুরা কাহাফটাও এ সময় পড়ে নিতে পারেন। বিশুদ্ধ কোনো হাদিসগ্রন্থ থেকে একটি অধ্যায় বা অন্তত পাঁচটি হাদিস পাঠ করুন। পরিবারের সদস্যদের সাথেও আলোচনা করুন। 

৫. একসাথে নাস্তা করুন : পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে নাস্তা করুন। তাদের সাথে দীনি ও দুনিয়াবি বিভিন্ন ব্যাপারে পরামর্শ করুন। এতে আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠবে। পরিবারেও পরস্পরে সুসম্পর্ক, হৃদ্যতা গড়ে ওঠবে।

৬. দাওয়াতে বেরিয়ে পড়ুন : বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, অসুস্থ-পীড়িত এমন কারও বাসায় ছুটে যান। খোঁজখবর নিন। দীনের দিকে দাওয়াত দিন। 

৭. উত্তমভাবে গোসল করুন, সুগন্ধি ব্যবহার করুন : জুমার দিনে উত্তমভাবে গোসল করা সুন্নাহ। গোসল করুন। সুগন্ধি ব্যবহার করুন। ইসলাম পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা দেয়। পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। 

৮. পায়ে হেঁটে মসজিদে যান : জুমার দিন পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ আমল। প্রতি কদমে কদমে সাওয়াব লিপিবদ্ধ হয়। 

৯. বসার আগে অন্তত দু’রাকাত নামায পড়ুন : মসজিদে গিয়েই অনেকে টুপ করে বসে যায়। অথচ রাসুল (সা.) মসজিদে ঢুকে দু’রাকাত সালাত আদায় না করে বসতে নিষেধ করেছেন। খুতবা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত নফল সালাত, দুয়া, যিকির-আযকারে লিপ্ত থাকা উচিত। 

১০. মনযোগ সহকারে খুতবা শুনুন : খুতবা বা আলোচনা মনযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব। খুতবার সময় কথা বলা নিষিদ্ধ। জুমার খুতবা হলো মুসলিমদের জন্য দিকনির্দেশনা। কোন পরিস্থিতিতে আমাদের কী করণীয় খতিব সাহেবগণ এগুলো আলোচনা করে থাকেন। মনযোগ দিয়ে খুতবা শুনলে অনেক কিছু জানা যায়। 

১১. বেশি বেশি দরুদ পড়ুন : জুমাবারে নবিজির কাছে উম্মতের দরুদ পৌঁছানো হয়। সুতরাং এ দিন বেশি বেশি দরুদ পড়া উচিত। 

১২. বেশি বেশি দুয়া-ইস্তিগফার করুন : জুমার দিন এমন একটা মুহূর্ত আছে, যখন যা দুয়া করা হয় তাই কবুল করা হয়। সেই সময়টা আমাদের জানানো হয়নি। সুতরাং সারাদিন, প্রতিটা মুহূর্তেই দুয়া-ইস্তিগফার করা উচিত। 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড