• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সত্যবাদিতা : মুমিনের অনুপম বৈশিষ্ট্য

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৫২
Odhikar_islam
ছবি : প্রতীকী

সত্যবাদিতা ঈমানের দাবি। মুমিনের আবশ্যকীয় গুণ। সত্যবাদিকে সবাই ভালোবাসে। সামাজিক ক্ষেত্রে সত্যবাদিরা প্রশংসনীয় হয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল ইসলামি চরিত্রের ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তার অন্যতম হচ্ছে সত্যবাদিতা। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَكُونُواْ مَعَ ٱلصَّٰدِقِينَ﴾
[হে ঈমানদারগণ আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমরা সত্যবাদীদের সাথী হও।’ [সুরা তাওবা, ৯ : ১১৯‘

সত্যবাদী ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿هَذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا﴾

‘হাশরের দিনে সত্যবাদিদের সত্যবাদিতা তাদের উপকার করবে। তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নদী। তারা তাতেই থাকবে চিরকাল।’ [সুরা মায়িদা, ৫ : ১১৯] 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 

«عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ وَيَتَحَرَّى الصِّدْقَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صِدِّيقًا

‘তোমরা সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধরো। নিশ্চয় সত্যবাদিতা পূণ্যের পথ দেখায় আর পূণ্য জান্নাতের পথ দেখায়। একজন লোক সর্বদা সত্য বলতে থাকে, সত্যবাদিতার প্রতি অনুরাগী হয়, এক পর্যায়ে আল্লাহর নিকট সে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। [মুসলিম, আসসাহিহ : ২৬০৭]

পার্থিব জগতে তাদের সততা পারলৌকিক জীবনে উপকারী হবে। বিচার দিবসে আল্লাহর ভয়াবহ শাস্তি থেকে সত্যবাদিতাই তাদেরকে বাঁচিয়ে দেবে। যারা সত্যকে ধারণ করে এবং সত্যকে সত্য বলে মেনে নেয় তাদেরকে আল্লাহ তাআলা মুত্তাকি বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

﴿وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ﴾
[আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই হলো মুত্তাকি।’ [সুরা যুমার, ৩৯ : ৩৩‘ 

সত্যবাদিতার প্রকারভেদ 

এক. বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা : এটিই হলো সত্যবাদিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বিশ্বাসে যদি কোনো কপটতা থাকে, তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রের সত্যবাদিতা গ্রহণযোগ্য হয় না। যেমন মুনাফিকদের কোনো আমলই গ্রহণযোগ্য নয়। 

দুই. কথার ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা : জিহ্বাকে সর্বদা সত্যবাদিতার শেকড়ে সুদৃঢ় রাখা কোনোক্রমেই মুখ দিয়ে মিথ্যা উচ্চারণ না করা। সত্যের বিপরীত কোনো সাক্ষ্য না দেয়া। কথাবার্তায় মিথ্যাকে সর্বতোভাবে পরিত্যাগ করে চলা। 

তিন. কর্মের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা : আমল বা কর্মের ক্ষেত্রে সত্যপন্থা অবলম্বন করা। কোনোরূপ মিথ্যা, ছলচাতুরির আশ্রয় না নেয়া। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের এঁকে দেয়া সীমানার ভেতরে সমস্ত কার্যাবলি সম্পাদন করা। 

এই তিন প্রকারের সত্যবাদিতায় কেউ নিজকে দাঁড় করাতে পারলেই বলা সঙ্গত হবে যে, সে সত্যবাদিতার গুণে যথার্থভাবে গুণান্বিত হয়েছে। আর এই তিন প্রকারের সত্যবাদিতায় ব্যক্তি যতই অগ্রসর হবে তার সত্যবাদিতার মাত্রাও ততই বৃদ্ধি পাবে। আর এভাবে সে আল্লাহর দরবারে সত্যবাদি হিসেবে স্বীকৃত হবে। 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড