• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

নিজ দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের দুই শর্ত||এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতিতে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী  ||উদ্বেগ থাকলেও ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ||ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ঢাকতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ : রিজভী ||কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগে সীমান্তে‌ হাই অ্যালার্ট||ভারতের পর এবার বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের||সোমবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক||মেক্সিকোয় কুয়া থেকে ৪৪ মরদেহ উদ্ধার করল বিজ্ঞানীরা||অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : কাদের    ||সৌদির তেল স্থাপনাতে হামলায় ইরানকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

নাখলার অভিযান : মিডিয়াযুদ্ধে মুমিনদের করণীয়

  ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:২১
Nakhla_odhikar
ছবি : প্রতীকী

ইসলামের ইতিহাসে নাখলার অভিযান বেশ তাৎপর্য বহন করে। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহু। এই অভিযানে অল্পসংখ্যক সাহাবিকে তাঁর সাথে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল কুরাইশদের একটি কাফেলা আক্রমণ করা। অভিযানের আগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু জাহশের হাতে একটি চিঠি দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে দুইদিন পর চিঠিটি পড়ার নির্দেশ দিলেন। নবিজির নির্দেশ অনুযায়ী আবদুল্লাহ ইবনু জাহশ (রা.) দুইদিন পরে চিঠিটি খুললেন। চিঠিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন মক্কা ও তায়িফের মধ্যবর্তী একটি জায়গায় যেতে। চিঠিতে আরও লেখা ছিল, অভিযানে প্রেরিত সাহাবিদের মধ্যে যারা স্বেচ্ছায় যেতে চায় তাঁরা যেন আবদুল্লাহ ইবন জাহশকে অনুসরণ করে। অর্থাৎ এই অভিযানে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না, কেউ চাইলে অংশ না নেওয়ারও সুযোগ ছিল। সম্ভবত অভিযানটি বেশ বিপদজনক হওয়ায় এরকম নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আবদুল্লাহ ইবনু জাহশকে যে এলাকায় যেতে বলা হয়েছিল সেটি কাফেরদের ভূখণ্ডের কাছাকাছি ছিল। সেখানে একটি কুরাইশ কাফেলা পাওয়া যাবে, সেটি আক্রমণ করাই ছিল এই সারিয়ার উদ্দেশ্য। এর আগ পর্যন্ত যতগুলো সারিয়া পরিচালিত হয়েছে সেগুলো ছিল মদীনার কাছাকাছি, কিন্তু এবারের বিষয়টি ভিন্ন। মক্কা ও তাইফের মধ্যবর্তী এই জায়গাটি মদীনা থেকে বেশ দূরে হওয়ায় এ অভিযানটি বিপদজনক ছিল। আবদুল্লাহ ইবন জাহশ পত্রে যা লিখা ছিল তা দলের অন্যান্যদের জানিয়ে দিলেন এবং বললেন যে তিনি এই অভিযানে যাবেন এবং যার ইচ্ছা হয় তিনি যেন তাঁকে অনুসরণ করেন। আবদুল্লাহ ইবন জাহশসহ দলের সবার জন্য এ অভিযানটি ঐচ্ছিক ছিল। দলের সবাই আবদুল্লাহ ইবন জাহশের সাথে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। তাঁরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার জন্য এতটাই উদগ্রীব ছিলেন যে, কেউই দল থেকে বের হননি। তাদের এই অদম্য বাসনাই বলে দেয় তাঁরা দুনিয়ার জন্য যুদ্ধ করতেন না, বরং তাঁরা আল্লাহর জন্যই যুদ্ধ করতেন।

শেষ পর্যন্ত তাঁরা কুরাইশ কাফেলা খুঁজে পেলেন। কাফেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেমন একটা শক্তিশালী ছিল না, মাত্র চারজন লোক পাহারায় ছিল। তাঁরা কাফেলার খুব কাছাকাছি চলে আসলেন, তীরের সীমানার ভেতর কাফেলা চলে আসলো। কিন্তু তখন সাহাবারা একটি ব্যাপার নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলেন। সেদিন ছিল রজব মাসের শেষ দিন। আর চারটি পবিত্র আরবি মাসের একটি হলো রজব। আরবরা এই চারটি পবিত্র মাসে নিজেদেরকে যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত রাখত। তাই তারা ভাবলেন, একদিন পরে আক্রমণ করলেই হয়, পবিত্র মাসে আর যুদ্ধ করতে হবে না। কিন্তু সমস্যা হলো তাঁরা যদি পরদিনের জন্য অপেক্ষা করেন তবে কাফেলা মক্কার পবিত্র সীমানার ভেতরে ঢুকে যাবে, পবিত্র সীমানার ভেতরেও যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, হয় তাদেরকে পবিত্র মাসের পবিত্রতা লঙ্ঘন করতে হবে, নতুবা মক্কার পবিত্রতা লঙ্ঘন করতে হবে। অবশেষে তাঁরা সেদিনই অর্থাৎ রজব মাসের শেষ দিনে কাফেলা আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাদের ছোঁড়া তীরের আঘাতে চারজন পাহারাদারের একজন মারা গেল, আরেকজন পালিয়ে গেল আর বাকি দুইজনকে বন্দি করা হলো। পুরো কাফেলা মুসলিমদের হাতে চলে এলো। এরপর তাঁরা মদীনায় ফিরে এলেন। 

এদিকে ঘটনাটি চায়ের কাপে ঝড় তুললো। সবার মুখে মুখে এই অভিযান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। কুরাইশরা এই সুযোগের হাতছাড়া করতে ভুল করলো না। তারা এই ঘটনাকে পূঁজি করে ব্যাপক হৈ-চৈ লাগিয়ে দিল এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালো। তারা খুব বড় করে এই কাহিনি প্রচার করতে লাগলো। তারা বলে বেড়াতে লাগল, মুহাম্মাদ আর তাঁর লোকেরা পবিত্র মাসের রীতি ভঙ্গ করেছে। তাঁরা পবিত্র মাসে রক্তপাত করেছে, আমাদের লোকদের বন্দি হিসেবে তুলে নিয়েছে। পবিত্র মাসে আমাদের সম্পদ চুরি করেছে, এই করেছে, সেই করেছে—এভাবে তারা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল তুললো। অভিযানে অংশ নেওয়া সাহাবিরা ফিরে এলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে বললেন, ‘আমি তো তোমাদেরকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেইনি।’ অন্যান্য মুসলিমরা তাদেরকে নিন্দা জানাতে লাগলেন, তোমরা এমন কাজ কীভাবে করলে? কার নির্দেশে করলে? 

অভিযানে অংশ নেওয়া সাহাবিরা এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন। তাঁরা মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত বোধ করতে থাকলেন। আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারটি কীভাবে বিচার করবেন তা নিয়ে তাঁরা খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এদিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) অভিযানে বন্দি ব্যক্তি ও কাফেলার কোনোকিছু গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা আরও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন, অথচ তাদের অর্জিত সম্পদ কেউ গ্রহণ করছে না, বরং সবাই তাদের প্রতি নারাজ। অন্যদিকে কুরাইশরা এ ঘটনাটির সুযোগ নিচ্ছিল। এরপর সুরা বাকারার এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়, 

“সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। কিন্তু আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, কুফরি করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিষ্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ফিতনা সৃষ্টি করা হত্যা অপেক্ষাও বড় পাপ। আর তারা তোমাদের সাথে লড়াই করতে থাকবে, যতক্ষণ না তোমাদেরকে তোমাদের দীন থেকে ফিরিয়ে দেয়, যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে”। [সুরা বাকারা, ২: ২১৭] 

এই ঘটনার পর আল্লাহর রাসুলের কাছে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, ‘সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করা কি ইসলামের বিধানে আছে?’ আল্লাহ তায়ালা এই প্রশ্নের জবাবে উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আবদুল্লাহ ও তাঁর সঙ্গীরা যে কাজ করেছেন অর্থাৎ পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা অনেক বড় পাপ।’ কিন্তু এরপরেই আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে শিখিয়ে দিলেন কীভাবে এই সব ঘটনা সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে হয়। আল্লাহ তায়ালা বললেন, এই সাহাবারা যা করেছে তা ভীষণ গুনাহের কাজ। কিন্তু এর পরপরই তিনি কাফিরদের দ্বারা সংঘটিত বড় বড় অপরাধগুলোর তালিকা তুলে ধরলেন—

১. আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। কুরাইশের লোকেরা মানুষকে ইসলাম গ্রহণে বাধা দিত। 
২. কুফরি করা। এটি হলো তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ, যা তারা অনবরত করেই যাচ্ছিল।  
৩. মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেওয়া। মুসলিমদেরকে তখন মক্কায় যেতে দেওয়া হতো না।
৪. সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিষ্কার করা। কুরাইশরা মুহাজিরদের মক্কা থেকে বের করে দিয়েছিল।

এই আয়াতটি সবাইকে পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে দেখতে শেখালো। আল্লাহ তায়ালা বললেন, আবদুল্লাহ বিন জাহশ যা করেছিলেন, তা ভুল ছিল, কিন্তু কুরাইশরা ১৩ বছর ধরে যা করে আসছে তা আরো অনেক গুণ বড় অপরাধ। আল্লাহ চাননি, কাফিরদের প্রচারণার প্রভাবে মুসলিমরা নিজেদের ভুল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ুক আর কাফিরদের অপরাধগুলো ভুলে যাক। আবদুল্লাহ ইবন জাহশ ও তাঁর সঙ্গীরা যখন দেখলেন যে আল্লাহ তায়ালা কুরাইশদের কৃতকর্মের উপর বেশি আলোকপাত করেছেন এবং এই ব্যাপারে সব কিছু পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, তখন তাঁরা স্বস্তি পেলেন। এখন তারা আশা করছেন স্বীকৃতির! এরপর আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারার নিচের আয়াতটি অবতীর্ণ করেন:

“আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাশীল, করুণাময়।” [২ : ২১৮] 

আল্লাহ জানিয়ে দিলেন, যদিও আবদুল্লাহ ইবন জাহশ ও তাঁর সঙ্গীরা ভুল করেছেন, তবুও তাঁরা আল্লাহ তাআলার রহমতের আশা করতেই পারেন। যেহেতু তাঁরা মুজাহিদ, কাজেই তাঁরা অবশ্যই জিহাদের পুরস্কারের আশা রাখবেন। ইসলামের ইতিহাসে আবদুল্লাহ বিন জাহশের এই সারিয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ সারিয়াতেই সর্বপ্রথম যুদ্ধবন্দি গ্রহণ করা হয়, সর্বপ্রথম যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নেওয়া হয় এবং সর্বপ্রথম কোনো কাফিরকে হত্যা করা হয়। এটা ছিল তাদের জন্য মর্যাদার বিষয়। 

উপরোক্ত দু’টো আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) অভিযান থেকে অর্জিত সম্পদ ও বন্দিদেরকে গ্রহণ করলেন। কুরাইশের লোকেরা এই দুই বন্দিকে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য এসেছিল। অন্যদিকে অভিযানে অংশ নেওয়া দুই সদস্য তাদের উট খুঁজতে বের হয়েছিলেন। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ওরা ফিরে না আসা পর্যন্ত বন্দিদেরকে মুক্তি দেওয়া হবে না। আসলে রাসুলুল্লাহ (সা.) আশঙ্কা করছিলেন যে, কুরাইশরা হয়ত তাদেরকে হত্যা করতে পারে। একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে কখনো শত্রুর হাতে ছেড়ে দিতে পারে না, যেভাবে দেননি রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি সাহাবাদেরকে কতোটা ভালোবাসতেন তা এখান থেকেও বোঝা যায়। এরপর সেই দুইজন মুসলিম—সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস ও উতবা (রা.) ফিরে আসার পর নবিজি বন্দিদেরকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেন। বন্দিদের একজন হাকিম ইবনু কাইসান মুসলিম হয়ে যান। তিনি মদিনাতেই থেকে যান। পরবর্তীতে তিনি শহিদ হন। আরেকজন বন্দি উসমান ইবনুল মুগিরা মক্কায় চলে যায় এবং কাফির অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করে। 

নাখলার অভিযান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

১) কাফিরদের একটি কৌশল হলো, তারা মুসলিমদের কোনো ভুল খুঁজে বের করবে এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করে ব্যাপক হৈ-চৈ করবে। তারা সত্যকে অসম্পূর্ণ কিংবা বিকৃতভাবে তুলে ধরবে। মুসলিমদেরকে খুব বাজেভাবে উপস্থাপন করবে। মুসলিমদেরকে কাফিরদের এ ধরনের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে, তাকে পরিস্থিতির বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে হবে এবং সঠিকভাবে পরিস্থিতি বিচার করতে হবে। ঠিক যেভাবে আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারাহর উপরোক্ত আয়াতের মাধ্যমে সবার কাছে অভিযানের পুরো ব্যাপারটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন। 

সুতরাং আজকের দিনে যদি মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে অথবা ইসলামকে সহিংসতার ধর্ম বলে অভিযুক্ত করা হয় তবে বিশ্ববাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে, ইরাকে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে খুন করা হয়েছে, ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে অত্যাচারিত হচ্ছে। কাশ্মির, চেচনিয়া, চীনের মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়-অত্যাচারের স্বীকার হচ্ছে। মুসলিমদের অত্যাচারিত হওয়ার এই তালিকা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। যদি মুসলিমরা কোনো ভুল করে ফেলে, তাহলে ইতিহাস থেকে এই ব্যাপারগুলো তুলে আনতে হবে আর এতে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, মুসলিমরা যদি ভুল কিছু করেও থাকে, তবুও তা মুসলিমদের উপর কাফিরদের কৃত অন্যায়-অত্যাচারের তুলনায় এগুলো গণনারই যোগ্য না। পুরো পরিস্থিতিকে সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মিডিয়ার ধোঁকার ব্যাপারে মুসলিমদের সতর্ক হতে হবে। একজন মুসলিমকে এসব ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। যেকোনো কিছু শোনামাত্র বিশ্বাস করা যাবে না।

কুরাইশরা সেদিন মুসলিমদের সাথে যা করেছিল, আজকে ইসলামের শত্রুরা ঠিক তা-ই করছে। তারা সেসব দাঈদের হত্যা করছে, যারা সত্যিকারের ইসলাম প্রচার করছেন, অথবা তাদেরকে কারাবন্দি করছে কিংবা হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সত্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করলেই মুসলিমদের নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে, মুসলিমদের রক্ত হয়ে পড়েছে মূল্যহীন। এ অবস্থায় মুসলিমদের দিকে কাফিরদের আঙুল তোলার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না, বরং মুসলিমদেরই উচিত কাফিরদের কৃত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধের তালিকা তাদের দিকে ছুঁড়ে মারা।  

২) মুসলিমদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা থাকা খুব জরুরি। নবিজি (সা.) দু’জন মুসলিমকে ফিরে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বন্দি কাফিরদের ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ থেকে বোঝা যায়, মুসলিমদের পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা কতটা জরুরি। 

‘সীরাহ’ থেকে সংকলিত ও সম্পাদিত। 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড