• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক [পর্ব-১১]

এক নজরে হজ

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

০৯ আগস্ট ২০১৯, ২২:১৯
Hajj_11
ছবি : সংগৃহীত

৮ যিলহজের পূর্বের করণীয়

১. মিকাত থেকে বা মিকাত অতিক্রম করার আগে ইহরাম বাঁধা। বায়তুল্লাহর তাওয়াফ শুরু করার আগ পর্যন্ত সাধ্যমত তালবিয়া পাঠ করতে থাকা।

২. বায়তুল্লায় পৌঁছে উমরার তাওয়াফ সম্পাদন করা।

৩. উমরার সাঈ সম্পাদন করা।

৪. মাথার চুল ছোট করা অথবা মাথা মুণ্ডন করা। তবে এ উমরার ক্ষেত্রে ছোট করাই উত্তম। এরপর গোসল করে পরিচ্ছন্ন হয়ে স্বাভাবিক কাপড় পরে নেওয়া। অন্য কোনো উমরা না করে ৮ যিলহজ পর্যন্ত হজের ইহরামের অপেক্ষায় থাকা। এ সময়ে নফল তাওয়াফ, কুরআন তিলাওয়াত, জামায়াতের সাথে সালাত আদায়, হাজিদের সেবা ও যিলহজের দশদিনের বিশেষ যে আমলগুলো রয়েছে, সেসব নেক আমলে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।

আরও পড়ুন- জিলহজের প্রথম দশ দিনের করণীয়

৮ যিলহজ

নিজ অবস্থান স্থল থেকে হজের নিয়তে لَبَّيْكَ حَجّاً (লাববাইকা হাজ্জান) বলে ইহরাম বাঁধা এবং মিনায় গমন করা। সেখানে যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা এবং পরদিনের ফজরের সালাত নিজ নিজ ওয়াক্তে দু’রাকাত করে আদায় করা।

৯ যিলহজ

. ৯ যিলহজ সূর্যোদয়ের পর আরাফায় রওয়ানা হওয়া। সেখানে আউয়াল ওয়াক্তে যুহর ও আসর দুই ওয়াক্তের সালাত এক আযান ও দুই ইকামতে দু’রাকাত করে একসাথে আদায় করা। সালাত আদায়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুয়া ও যিকিরে মশগুল থাকা। সাধ্যমত উভয় হাত তুলে দুয়া করা।

. সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পর ধীরে-সুস্থে মুযদালিফায় রওয়ানা হওয়া।

. মুযদালিফায় পৌঁছে ইশার ওয়াক্তে এক আযান ও দুই ইকামতে, মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করা। ইশার সালাত কসর করে দু’রাকাত পড়া এবং সাথে সাথে বিতরের সালাতও আদায় করে নেওয়া।

. মুযদালিফায় রাত্রিযাপন। ফজর হওয়ার পর আউয়াল ওয়াক্তে ফজরের সালাত আদায় করা। আকাশ ফর্সা হওয়া পর্যন্ত দুয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা।

. মুযদালিফা থেকে কঙ্কর সংগ্রহ করা যেতে পারে, তবে জরুরি নয়। ৫৯ বা ৭০টি কঙ্কর সংগ্রহ করা। মিনা থেকেও কঙ্কর সংগ্রহ করা যেতে পারে। পানি দিয়ে কঙ্কর ধৌত করার কোনো বিধান নেই।

. সূর্যোদয়ের পূর্বে মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়া। তবে দুর্বলদের ক্ষেত্রে মধ্যরাতের পর মিনার উদ্দেশে রওনা হয়ে যাওয়া জায়েয।

১০ যিলহজ

১. তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে জামরায়ে আকাবা তথা বড় জামরায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করা। নিক্ষেপের সময় প্রত্যেকবার ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ অথবা ‘আল্লাহু আকবর’ বলা। উভয়টাই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

২. হাদি তথা পশু যবেহ করা অন্যকে দায়িত্ব দিয়ে থাকলে হাদি যবেহ হয়েছে কি-না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া। হারামের অধিবাসীদের ওপর হাদি যবেহ করা ওয়াজিব নয়।

৩. মাথা মুণ্ডন অথবা চুল ছোট করা। মুণ্ডন করাই উত্তম। মহিলাদের ক্ষেত্রে আঙুলের অগ্রভাগ পরিমাণ ছোট করা।

৪. মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে ইহরাম হতে বেরিয়ে প্রাথমিক হালাল হয়ে যাওয়া, এতে স্বামী-স্ত্রী মেলা-মেশা ছাড়া ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ অন্যসব বিষয় বৈধ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন- মুহরিম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ

৫. তাওয়াফে ইফাযা তথা ফরয তাওয়াফ সম্পাদন করা। এক্ষেত্রে এগার ও বার তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত বিলম্ব করার অবকাশ রয়েছে। এরপরেও আদায় করা যাবে, তবে ১৩ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে সেরে নেওয়া ভালো।

৬. সাঈ করা ও পুনরায় মিনায় গমন করা

৭. ১০ তারিখ দিবাগত রাত্রি মিনায় যাপন করা

উল্লেখ্য, তাওয়াফে ইফাযা আদায়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশাও বৈধ হয়ে যায়।

১১ যিলহজ

সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে যাওয়ার পর ছোট, মধ্য ও বড় জামরার প্রত্যেকটিতে সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করা। ছোট জামরা থেকে শুরু করে বড় জামরায় শেষ করা। ছোট ও মধ্য জামরায় নিক্ষেপের পর দাঁড়িয়ে দু’হাত উঠিয়ে দীর্ঘ দুয়া করা।

১২ যিলহজ

১. ১২ তারিখ অর্থাৎ ১১ তারিখ দিবাগত রাত মিনায় রাতযাপন।

২. সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে যাওয়ার পর তিন জামরার প্রত্যেকটিতে সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ। শুধু ছোট ও মধ্য জামরাতে নিক্ষেপের পর দাঁড়িয়ে দু’হাত উঠিয়ে দীর্ঘ দুয়া করা।

হাজিদের জন্য ১২ তারিখে মিনা ত্যাগ করা জায়েয। তবে শর্ত হচ্ছে সূর্যাস্তের পূর্বেই মিনার সীমানা অতিক্রম করতে হবে। সেদিনই যদি কাউকে মক্কা ছেড়ে যেতে হয় তাহলে মক্কা ত্যাগের পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ আদায় করা।

৩. ১২ তারিখ দিবাগত রাত মিনায় যাপন করা উত্তম। ১২ তারিখের রাত মিনায় যাপন করলে ১৩ তারিখ সূর্য হেলে যাওয়ার পর ছোট, মধ্য ও বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করে মিনা ত্যাগ করা।

১৩ যিলহজ

১. সূর্য হেলে যাওয়ার পর পর ছোট, মধ্য ও বড় জামরায় সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ। ছোট জামরা থেকে শুরু করে বড় জামরাতে গিয়ে শেষ করবে। শুধু ছোট ও মধ্য জামরাতে নিক্ষেপের পর দাঁড়িয়ে দু’হাত উঠিয়ে দুয়া করবে।

২. মিনা ত্যাগ করে মক্কা অভিমুখে যাত্রা এবং মক্কা ত্যাগের আগে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পাদন করা। তবে প্রসূতি ও স্রাবগ্রস্ত মহিলাদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ না করার অনুমতি আছে।

হজের সমাপ্তি

হাজি সাহেবগণ হজের কার্যাদি সম্পন্ন করার পর অধিক পরিমাণে যিকির ও ইস্তিগফার করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ - فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا ۗ فَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ - وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ - أُولَٰئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِّمَّا كَسَبُوا ۚ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ

‘এরপর তোমরা প্রত্যাবর্তন করো, যেখান থেকে মানুষেরা প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। তারপর যখন তোমরা তোমাদের হজের কাজসমূহ শেষ করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেভাবে তোমরা স্মরণ করতে তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে, এমনকি তার চেয়েও অধিক স্মরণ। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। বস্তুত আখিরাতে তার জন্য কোনো অংশ নেই। আর তাদের মধ্যে এমনও আছে, যারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। তারা যা অর্জন করেছে তার হিস্যা তাদের রয়েছে। আর আল্লাহ হিসাব গ্রহণে দ্রুত।’ [সুরা বাকারা : ২০১-২০২]

স্বদেশে ফেরার সময় সফরের আদব এবং দুয়াসমূহ আমলে নেওয়া সফরসঙ্গী ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সদয় ও উন্নত আচরণ করা যদি তাদের রীতি এমন হয়ে থাকে যে, সেখানে হাদিয়া নিয়ে যেতে হয়, তাহলে তাদের মনোতুষ্টির জন্য হাদিয়া নিয়ে যাওয়া

 মদিনা যিয়ারত কি জরুরি?

হাজি সাহেবদের জন্য মদিনা যিয়ারত করা অপরিহার্য নয়। এটি হজের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো আমল নয়। বরং মদিনার যিয়ারত একটি স্বতন্ত্র সুন্নত। হজের আলোচনার সাথে এর আলোচনা হয়ে থাকে, কেননা অনেক মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন। আলাদা আলাদাভাবে দু’জায়গা সফরের লক্ষ্যে দু’বার আসা কষ্টকর বিধায় হজের সফরেই মদিনা যিয়ারত সেরে নেন।

হাজি সাহেবদের উচিত দৃঢ় ঈমান, নতুন প্রত্যয়-উপলব্ধি এবং অনেক বেশি আনুগত্য, ইবাদত ও উন্নত চরিত্র নিয়ে ফিরে আসা। কারণ, হজের মধ্য দিয়ে যেন একজন হাজির নবজন্ম ঘটে। সমস্ত পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিষ্কলুষ হয়ে যায়। 

চলবে...।

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড